ইউএনবি

নতুন সরকারকে ঘিরে কুড়িগ্রাম জেলার মানুষের প্রত্যাশা এবার অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি। দীর্ঘদিন ধরে নদীভাঙন, দারিদ্র্য, বেকারত্ব, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে পিছিয়ে পড়া এ জনপদের মানুষ প্রতিশ্রুতি নয়, চান বাস্তব ও টেকসই পরিবর্তন।
উত্তরাঞ্চলের সীমান্তঘেঁষা এই জেলা প্রতি বছর ভয়াবহ নদীভাঙনের মুখে পড়ে। ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, তিস্তা ও দুধকুমারসহ অন্তত ১৬টি নদী জেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত। এসব নদীর ভাঙনে প্রতি বছর শত শত পরিবার ভিটেমাটি হারিয়ে নিঃস্ব হচ্ছে। বসতভিটা, আবাদি জমি, স্কুল-কলেজ ও রাস্তাঘাট নদীগর্ভে বিলীন হওয়ায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নদী শাসনের নামে বিপুল অর্থ ব্যয় হলেও তার সুফল সাধারণ মানুষ পাচ্ছে না। অস্থায়ী বাঁধ ও প্রকল্পে কাজ চালিয়ে গেলে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না বলে মনে করেন তারা। তাদের দাবি, দীর্ঘমেয়াদি নদী ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনার আওতায় স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ, নিয়মিত নদী খনন ও বিজ্ঞানসম্মত নদী শাসন কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে।
একই সঙ্গে কর্মসংস্থানের অভাব কুড়িগ্রামের আরেক বড় সংকট। শিল্পকারখানা না থাকায় শিক্ষিত ও অর্ধশিক্ষিত যুবকদের বড় একটি অংশ কাজের সন্ধানে ঢাকা, গাজীপুর ও চট্টগ্রামে পাড়ি জমাতে বাধ্য হচ্ছে। এতে পরিবার ভেঙে পড়ছে, সামাজিক সমস্যাও বাড়ছে।
স্থানীয়রা বলছেন, কৃষিভিত্তিক শিল্প, হিমাগার, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প স্থাপন এবং উদ্যোক্তা সহায়তা কর্মসূচি জোরদার করা গেলে এই জেলার কর্মসংস্থানের চিত্র বদলে যেতে পারে।
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার পাঁচগাছী ইউনিয়নের বাসিন্দা আবু সাঈদ বলেন, ‘আমাদের সবচেয়ে বড় সমস্যা কাজের অভাব। পরিবার রেখে দূরে যেতে চাই না। নতুন সরকারের কাছে একটাই দাবি, কুড়িগ্রামে কাজের ব্যবস্থা করুন।’
যাত্রাপুর ইউনিয়নের ঝুনকার চরের যুবক সাহিনুর রহমান বলেন, ‘পড়াশোনা শেষ করেও বসে আছি। এখানে যদি কারখানা থাকত, এখানেই চাকরি করা যেত। বাধ্য হয়ে ঢাকায় যেতে হয়।’
একই উপজেলার বদলী পাড়ার শাজাহান আলী বলেন, ‘নদীভাঙনে সব হারিয়েছি। প্রতি বছর নদীর সঙ্গে যুদ্ধ করে বাঁচি। আমরা স্থায়ী সমাধান চাই।’
চর উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন সংস্থার এক নেতার মতে, জেলার প্রায় ২৩ লাখ মানুষের মধ্যে সাড়ে ১৬ লাখের বেশি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করে। ১৯৫০ সাল থেকে অব্যাহত নদীভাঙনে মানুষ বারবার ঠিকানা বদলাতে বাধ্য হয়েছে। দারিদ্র্য বিমোচনের নামে বহু এনজিও কাজ করলেও সাধারণ মানুষের ভাগ্যের তেমন পরিবর্তন হয়নি। বরাদ্দ যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হলে দারিদ্র্য পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম জেলা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু বলেন, ‘অবহেলিত কুড়িগ্রামের উন্নয়নে নদীভাঙন রোধ, চরাঞ্চলের জীবনমান উন্নয়ন এবং শিল্পকারখানা স্থাপনের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি জরুরি। জাতীয় সংসদ উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দু; সুষম বণ্টন নিশ্চিত হলেই কুড়িগ্রামের টেকসই উন্নয়ন সম্ভব।’
তাই এবার সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, নতুন সরকার যেন কাগুজে পরিকল্পনার গণ্ডি পেরিয়ে মাঠপর্যায়ে কার্যকর উদ্যোগ নেয়। নদীভাঙনের স্থায়ী সমাধান ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হলে বদলে যাবে কুড়িগ্রাম জেলার চিত্র। দূর হবে হতাশা, জাগবে নতুন স্বপ্ন।

নতুন সরকারকে ঘিরে কুড়িগ্রাম জেলার মানুষের প্রত্যাশা এবার অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি। দীর্ঘদিন ধরে নদীভাঙন, দারিদ্র্য, বেকারত্ব, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে পিছিয়ে পড়া এ জনপদের মানুষ প্রতিশ্রুতি নয়, চান বাস্তব ও টেকসই পরিবর্তন।
উত্তরাঞ্চলের সীমান্তঘেঁষা এই জেলা প্রতি বছর ভয়াবহ নদীভাঙনের মুখে পড়ে। ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, তিস্তা ও দুধকুমারসহ অন্তত ১৬টি নদী জেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত। এসব নদীর ভাঙনে প্রতি বছর শত শত পরিবার ভিটেমাটি হারিয়ে নিঃস্ব হচ্ছে। বসতভিটা, আবাদি জমি, স্কুল-কলেজ ও রাস্তাঘাট নদীগর্ভে বিলীন হওয়ায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নদী শাসনের নামে বিপুল অর্থ ব্যয় হলেও তার সুফল সাধারণ মানুষ পাচ্ছে না। অস্থায়ী বাঁধ ও প্রকল্পে কাজ চালিয়ে গেলে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না বলে মনে করেন তারা। তাদের দাবি, দীর্ঘমেয়াদি নদী ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনার আওতায় স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ, নিয়মিত নদী খনন ও বিজ্ঞানসম্মত নদী শাসন কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে।
একই সঙ্গে কর্মসংস্থানের অভাব কুড়িগ্রামের আরেক বড় সংকট। শিল্পকারখানা না থাকায় শিক্ষিত ও অর্ধশিক্ষিত যুবকদের বড় একটি অংশ কাজের সন্ধানে ঢাকা, গাজীপুর ও চট্টগ্রামে পাড়ি জমাতে বাধ্য হচ্ছে। এতে পরিবার ভেঙে পড়ছে, সামাজিক সমস্যাও বাড়ছে।
স্থানীয়রা বলছেন, কৃষিভিত্তিক শিল্প, হিমাগার, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প স্থাপন এবং উদ্যোক্তা সহায়তা কর্মসূচি জোরদার করা গেলে এই জেলার কর্মসংস্থানের চিত্র বদলে যেতে পারে।
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার পাঁচগাছী ইউনিয়নের বাসিন্দা আবু সাঈদ বলেন, ‘আমাদের সবচেয়ে বড় সমস্যা কাজের অভাব। পরিবার রেখে দূরে যেতে চাই না। নতুন সরকারের কাছে একটাই দাবি, কুড়িগ্রামে কাজের ব্যবস্থা করুন।’
যাত্রাপুর ইউনিয়নের ঝুনকার চরের যুবক সাহিনুর রহমান বলেন, ‘পড়াশোনা শেষ করেও বসে আছি। এখানে যদি কারখানা থাকত, এখানেই চাকরি করা যেত। বাধ্য হয়ে ঢাকায় যেতে হয়।’
একই উপজেলার বদলী পাড়ার শাজাহান আলী বলেন, ‘নদীভাঙনে সব হারিয়েছি। প্রতি বছর নদীর সঙ্গে যুদ্ধ করে বাঁচি। আমরা স্থায়ী সমাধান চাই।’
চর উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন সংস্থার এক নেতার মতে, জেলার প্রায় ২৩ লাখ মানুষের মধ্যে সাড়ে ১৬ লাখের বেশি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করে। ১৯৫০ সাল থেকে অব্যাহত নদীভাঙনে মানুষ বারবার ঠিকানা বদলাতে বাধ্য হয়েছে। দারিদ্র্য বিমোচনের নামে বহু এনজিও কাজ করলেও সাধারণ মানুষের ভাগ্যের তেমন পরিবর্তন হয়নি। বরাদ্দ যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হলে দারিদ্র্য পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম জেলা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু বলেন, ‘অবহেলিত কুড়িগ্রামের উন্নয়নে নদীভাঙন রোধ, চরাঞ্চলের জীবনমান উন্নয়ন এবং শিল্পকারখানা স্থাপনের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি জরুরি। জাতীয় সংসদ উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দু; সুষম বণ্টন নিশ্চিত হলেই কুড়িগ্রামের টেকসই উন্নয়ন সম্ভব।’
তাই এবার সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, নতুন সরকার যেন কাগুজে পরিকল্পনার গণ্ডি পেরিয়ে মাঠপর্যায়ে কার্যকর উদ্যোগ নেয়। নদীভাঙনের স্থায়ী সমাধান ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হলে বদলে যাবে কুড়িগ্রাম জেলার চিত্র। দূর হবে হতাশা, জাগবে নতুন স্বপ্ন।

রাজধানীর গাবতলী বাস টার্মিনালে বাসের সময়সূচিতে বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ে বাস না ছাড়ায় ঘরমুখো যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। বিশেষ করে লোকাল ও দূরপাল্লার সাধারণ বাসের ক্ষেত্রে এই বিলম্বের চিত্র সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে।
৯ মিনিট আগে
টাঙ্গাইলে রডবোঝাই ট্রাক উল্টে নওগাঁর মান্দা উপজেলার ৯ বন্ধুসহ ১৫ জন নিহত হয়েছেন। বাসের অতিরিক্ত ভাড়া বাঁচাতে তাঁরা ট্রাকে চড়ে বাড়ি ফিরছিলেন। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় পুরো মান্দা উপজেলায় এখন শোকের মাতম চলছে।
২২ মিনিট আগে
গোপালগঞ্জে মহাসড়কে যাত্রীবাহী বাস, মাইক্রোবাস ও প্রাইভেটকারের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে ঘটনাস্থলেই মাইক্রোবাসের চালক নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত অর্ধশত ব্যক্তি। সোমবার দুপুর দেড়টার দিকে সদর উপজেলার সোনাপুর এলাকায় ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
৪০ মিনিট আগে
হাম ও রোগটির উপসর্গ নিয়ে সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত এর আগের ২৪ ঘণ্টায় আরও ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে এক এবং সন্দেহজনক হাম নিয়ে মারা গেছে ১৬ শিশু।
১ ঘণ্টা আগে