জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই দিনের ছুটি ঘোষণা করা হলেও ক্যাম্পাস খোলা রাখা নিয়ে রাকসু ও ছাত্রদলের মধ্যে পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের জেরে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।
এর আগে বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক অধ্যাপক ড. আখতার হোসেন মজুমদার জানান, সরকারি ছুটির নির্দেশনা অনুযায়ী আগামী ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি দুই দিন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) ছুটি থাকবে। একইসঙ্গে ৯ থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কোনো বিভাগে পরীক্ষা না নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়।
এই সিদ্ধান্তের পরই ক্যাম্পাসে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। রাকসুর সহ-বিতর্ক ও সাহিত্য সম্পাদক নয়ন মোরসালিন এক ফেসবুক পোস্টে লেখেন, ‘নির্বাচনে শিক্ষার্থীদের সরাসরি ভূমিকা রাখা দরকার। শিক্ষার্থীদের চাহিদার সাপেক্ষে দ্রুত ক্যাম্পাস বন্ধ ও চলমান পরীক্ষা স্থগিতের দাবিতে আমরা বারবার প্রশাসনের সাথে কথা বলেছি। কিন্তু বিএনপিপন্থী শিক্ষক ও কর্মকর্তারা যেকোনো মূল্যে “শিবিরকে ভোট দেওয়া” শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাসে রাখতে চাইছেন।’
অন্যদিকে রাকসু ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ জানান, প্রশাসন বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধে রাজি না হলেও ৮ তারিখের পর পরীক্ষা থাকবে না। তিনি শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করে বলেন, কেউ বাড়ি যেতে চাইলে যেতে পারেন; অ্যাটেনডেন্স বা হাজিরা নিয়ে কোনো সমস্যা হলে তিনি তার সমাধান করবেন। তবে রাকসুর এই ভূমিকার সমালোচনা করে সিনেট সদস্য ফাহিম রেজা বলেন, যারা ছুটিই আদায় করতে পারেনি, তারা সমস্যার সমাধান করবে—এটি হাস্যকর।
এদিকে রাবি ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম এ তাহের রহমান ভিপির বক্তব্যের সমালোচনা করে বলেন, ‘এই প্রথম কোনো ভিপি শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাসে না রেখে এলাকায় পাঠাতে মরিয়া। সাধারণ শিক্ষার্থী কারা এবং কেন তাদের বাড়ি পাঠানো জরুরি, তা সবাই বোঝে।’
প্রশাসনের সিদ্ধান্তকে ঘিরে শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের মধ্যে ভিন্নমত থাকলেও এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে নতুন কোনো সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়নি।