জেল পালানো ৬৯০ বন্দি পলাতক, তথ্য নেই ১৬৬ জনের

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

বকশিবাজারে কারা অধিদপ্তরে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন। স্ট্রিম ছবি

জুলাই অভ্যুত্থানের সময় কারাগার থেকে পালানো ৬৯০ বন্দিকে এখনো গ্রেপ্তার করা যায়নি। তাদের মধ্যে ১৬৬ জনের কোনো তথ্যই নেই কারা অধিদপ্তরে। একই সময় পালানো তালিকাভুক্ত ৯ জঙ্গির তিনজন এখনো লাপাত্তা।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) পুরান ঢাকার বকশিবাজারে কারা অধিদপ্তরে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান কারা মহাপরিদর্শক (আইজি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন।

৫ আগস্ট কারাগার ভেঙে পালানো বন্দি ও জঙ্গিদের মধ্যে কতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে জানতে চাইলে আইজি প্রিজন বলেন, প্রায় ২ হাজার ২৪৭ বন্দি পালিয়েছিলেন। এখন পর্যন্ত ৬৯০ জন পলাতক। এর মধ্যে ১৬৬ জনের পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য আমরা এখনো পাইনি। তারা সবাই নরসিংদীর কারাগার থেকে পালিয়েছিলেন। ওই কারাগারের সব নথিপত্র ও সার্ভার নষ্ট হয়ে যাওয়ায় আদালতের কাছে তথ্য চাওয়া হয়েছে।

পলাতক জঙ্গিদের বিষয়ে তিনি বলেন, তালিকাভুক্ত ৯ জঙ্গির মধ্যে ছয়জনকে ফের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের একজন জুয়েল ওস্তাদ জামিনে বের হয়েছিল। সম্প্রতি পুলিশ ফের গ্রেপ্তার করেছে। তবে আরও তিনজন পলাতক।

সম্প্রতি রাজধানী ও আশপাশে বোমা ও বোমা সদৃশ বস্তু পাওয়ার সঙ্গে পলাতক জঙ্গিদের সম্পর্ক আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে তারা চিন্তিত। তদন্ত চলছে।

সম্প্রতি গ্রেপ্তার জুয়েল ওস্তাদের সঙ্গে পলাতক বোমারু মামুনের যোগাযোগ হয়েছিল কারাগারে। এ নিয়ে জঙ্গিদের কারাগারে একসঙ্গে রাখার বিষয়ে প্রশ্ন করলে আইজি প্রিজন বলেন, এটি আমাদের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ। দেশের কারাগারগুলোর ধারণক্ষমতা ৪৫ হাজার হলেও বর্তমানে বন্দি আছে ৯৮ হাজার।

তিনি আরও বলেন, এ কারণে কারাগারে কাউকে সম্পূর্ণভাবে আলাদা রাখা সম্ভব হচ্ছে না। একই ওয়ার্ডে অথবা বিল্ডিংয়ে থাকার কারণে কোনো না কোনোভাবে যোগাযোগ তৈরি হচ্ছে। তবে বর্তমানে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ বন্দিদের পর্যবেক্ষণের আওতায় আনা ও আলাদা জোনে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

কারারক্ষীদের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের মন্ত্রী-এমপিদের মোবাইল ফোন ব্যবহারের অভিযোগ বিষয়ে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোতাহের হোসেন বলেন, তারা ফোন ব্যবহার করছেন না– এটি গ্যারান্টি দিয়ে বলা যাচ্ছে না। তবে আমরা কোনোভাবেই ছাড় দিচ্ছি না। গত এক বছরে বিভিন্ন অভিযানে তিন হাজারের বেশি ফোন জব্দ করা হয়েছে। শুরুর দিকে সংখ্যাটি অনেক বেশি ছিল। ধীরে ধীরে কমে এসেছে।

বন্দিদের স্বাস্থ্যসেবার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে কারা মহাপরিদর্শক বলেন, কারাগারগুলোতে মোট ১৫১ চিকিৎসক পদের মধ্যে আছেন মাত্র দুজন। বাকি ক্ষেত্রে অস্থায়ীভাবে সিভিল সার্জনের মাধ্যমে চিকিৎসক দেওয়া হচ্ছে। তবে মোটামুটি সব কারাগারেই ফার্মাসিস্ট অথবা ডিপ্লোমা কোয়ালিফাইড লোক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তারদের কারণে বন্দি ব্যবস্থাপনায় চাপ তৈরি হয়েছে কিনা জানতে চাইলে আইজি প্রিজন বলেন, আমরা গড়ে প্রায় ৮০ হাজার বন্দি নিয়ে কাজ করি। সম্প্রতি এই সংখ্যা বেড়েছে। আজ আমাদের প্রায় ৯৮ হাজার বন্দি আছে।

তিনি আরও বলেন, গত ১ জুন থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত ভ্রাম্যমাণ আদালতে দণ্ডপ্রাপ্ত ২৬ হাজারের বেশি আসামি আমরা পেয়েছি। এটি বন্দির সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ। বিষয়টি এরই মধ্যে সরকারের নজরে আনা হয়েছে। আশা করা হচ্ছে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত

জেল পালানো ৬৯০ বন্দি পলাতক, তথ্য নেই ১৬৬ জনের