তহবিল পেলে বিনা খরচে সব প্রবাসীর লাশ আনা হবে: প্রতিমন্ত্রী নুর
স্ট্রিম প্রতিবেদক

অর্থ সংকটের কারণে বাংলাদেশ সরকার শুধু জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) ছাড়পত্রধারী প্রবাসীর লাশ বিনা খরচে দেশে আনে বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক নুর।
আজ বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে ৩২০ বিধিতে দেওয়া বিবৃতিতে তিনি এ কথা জানান। এ সময় তহবিল পাওয়া গেলে বিনা খরচে বিএমইটির ছাড়পত্রধারী ও ছাড়পত্রহীন সব প্রবাসীর লাশ দেশে আনার ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
নুর বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে যেতে গিয়ে প্রবাসীরা দালালদের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত হন। এ ক্ষেত্রে আমরা একটা বিষয় করে থাকি যে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় যে সব রিক্রুটিং এজেন্সিকে নিবন্ধন দিয়ে থাকে, তাদের বিরুদ্ধে যদি কোনো অভিযোগ জমা পড়ে, আমরা তাদের ডেকে সেই অভিযোগগুলো নিষ্পত্তি করার চেষ্টা করি। সেটা যদি আমাদের সালিশি ব্যবস্থার মধ্যস্থতায় সম্পন্ন করা যায়, তাহলে আমরা সেই প্রক্রিয়ায় সমাধান করি। আর না হলে আমরা আইনগতভাবে মামলা কিংবা অন্যান্য প্রক্রিয়ার দিকে এগিয়ে যাই।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের অস্বীকার করার উপায় নেই যে আমাদের মন্ত্রণালয়ের কিছু কিছু জায়গায় হয়তো কিছু অনিয়মের ঘটনা ঘটে। বিশেষ করে বিএমইটির কিছু অভিযোগ আমরা পেয়েছি এবং বলা চলে অনেক কর্মকর্তাকে আমরা রদবদল ও শাস্তির মুখোমুখি করেছি। আজও আমরা একটি ঘটনা পেয়েছি যে সার্বিয়া যাওয়ার ক্ষেত্রে ভুয়া ভিসা তারা অনুমোদন দিয়েছে, যা ইমিগ্রেশন থেকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। এই বিষয়টি নিয়েও আমরা তদন্ত করছি। অভিযোগ পেলে আমরা সেটির বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করি। বর্তমানে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের বাইরের যে চাহিদা কিংবা সত্যায়নের জন্য বিষয়গুলো আসে—এই পুরো প্রক্রিয়াটা এখন অনলাইনে করা হয়। ভুক্তভোগী অনলাইনে অভিযোগ দায়ের করতে পারেন এবং অভিযোগের নিষ্পত্তির সময়কালসহ সবকিছু বিস্তারিত অনলাইনে দেখা যাচ্ছে। সুতরাং যে কেউ এ ধরনের ঘটনার শিকার হলে তারা অভিযোগ দায়ের করতে পারেন।’
প্রবাসীর মরদেহের কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘আমি দেশবাসীর উদ্দেশ্যে জানিয়ে রাখতে চাই, আমাদের প্রবাসীদের মধ্যে যারা বিএমইটির কার্ড নিয়ে যান বা ছাড়পত্রের মাধ্যমে যান, তারা বিদেশে মারা গেলে সরকারি খরচে পরিপূর্ণভাবে তাদের লাশ দেশে আনা হয়। তাদের পরিবারকে পর্যায়ক্রমে প্রায় ১৩ লাখ ৩৫ হাজার টাকা পর্যন্ত সহায়তা করা হয়। কিন্তু যারা বিএমইটির ছাড়পত্র নিয়ে যান না অর্থাৎ অনিবন্ধিত, তাদের বিষয়ে আমাদের ওইভাবে বাজেট থাকে না। মন্ত্রণালয়ের অল্প একটু বরাদ্দ থাকে, তা দিয়ে এত আবেদন পড়ে যে সরকারি খরচে লাশ আনা সম্ভব হয় না। এটি নিয়ে আমরা প্রধানমন্ত্রীর শুভ দৃষ্টি আকর্ষণ করব, যাতে প্রধানমন্ত্রী এই বিষয়ে আমাদের দিকনির্দেশনা দেন। দেশের বাইরে যে সব প্রবাসী মারা যান—তারা নিবন্ধিত বা অনিবন্ধিত যাই হোক—দেশে তাদের দাফন করা স্বজনদের আবেগ ও চাওয়ার বিষয়। এখানে অর্থমন্ত্রীও যদি আমাদের বরাদ্দ বাড়ান, তবে তহবিল পেলে আমরা বিনা খরচে সব প্রবাসীর লাশ দেশে আনার ব্যবস্থা নিতে পারব।’
.png)




-78ae87-256x144.webp)

