leadT1ad

আমলারা প্রকৃতিগতভাবেই সংস্কারবিরোধী: আসিফ নজরুল

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২২: ১৮
ড. মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খানের লেখা ‘বাংলাদেশের সমাজ ও রাজনীতি’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে কথা বলেন আইন উপদেষ্টা। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশে আমলাতন্ত্রের স্থবিরতা ও সংস্কারবিমুখতা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল।

তিনি বলেন, ‘আমলারা বাংলাদেশে প্রকৃতিগতভাবেই সংস্কারবিরোধী। এটা তাদের ব্যক্তিগত দোষ নাকি সিস্টেমের দোষ আমি জানি না, কিন্তু এটাই বাস্তবতা।’

আজ সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বিশিষ্ট গবেষক ও শিক্ষাবিদ, বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ, সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খানের লেখা ‘বাংলাদেশের সমাজ ও রাজনীতি’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কমিশনের চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ।

বক্তব্যের শুরুতে ড. আসিফ নজরুল সাম্প্রতিক সময়ে তাঁকে ও অন্যান্য উপদেষ্টাদের নিয়ে ছড়ানো গুজবের বিষয়টি হাস্যরসের মাধ্যমে তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, ‘একজন ইউটিউবার দাবি করেছেন, দুদক চেয়ারম্যান মোমেন ভাই নাকি আমাকে ২০০ কোটি টাকা এবং ফাওজুল ভাইকে ৫০ কোটি টাকা ঘুষ দিয়ে পদ পেয়েছেন। অথচ মোমেন ভাই বসিলায় থাকেন এবং আমার চেয়েও সাধারণ জীবনযাপন করেন।’

উপদেষ্টা হিসেবে নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আগে যখন উপদেষ্টা ছিলাম না, সারাদিন সমালোচনা করতাম আর মানুষ আমাকে মাথায় তুলে নাচত। এখন সারাদিন-রাত কাজ করি, আর সারাদিন গালি শুনি।’

আমলাতন্ত্রের কর্মপদ্ধতি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস হোয়াটসঅ্যাপকে অফিস হিসেবে ব্যবহার করেন এবং আধা ঘণ্টার মধ্যে কাজ সম্পাদন করেন। অথচ ২৯-৩০ বছরের সরকারি কর্মকর্তারা হোয়াটসঅ্যাপে চিঠি আদান-প্রদান বা দ্রুত কাজ করার বিষয়ে একেবারেই অসচেতন। তাদের ফাইল এক টেবিল থেকে অন্য টেবিলে নিতেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় লাগে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমলাদের মেধা আছে কিন্তু তারা অত্যন্ত স্থবির এবং ডগমেটিক। তারা মনে করেন অফিসার হওয়াই জাতির প্রতি তাদের সবচেয়ে বড় অবদান, কিন্তু দায়িত্ববোধের জায়গাটিতে ঘাটতি রয়েছে।’

ফাওজুল কবির খানের বইয়ের প্রশংসা করে ড. আসিফ নজরুল বলেন, ‘লেখক কঠিন বিষয়গুলো গল্পের ছলে সহজভাবে উপস্থাপন করেছেন। বইটিতে জুলাই গণঅভ্যুত্থান, বিচার ব্যবস্থা এবং আমলাতন্ত্রের দুর্বলতাগুলো অত্যন্ত গভীরভাবে উঠে এসেছে। বিশেষ করে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের জীবনের আর্থিক ও মানবিক মূল্য নিয়ে লেখকের বিশ্লেষণকে তিনি সময়োপযোগী ও গুরুত্বপূর্ণ বলে অভিহিত করেন।’

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও অর্থনীতিবিদ ড. মাহবুবউল্লাহ, পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, দুদক চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেন এবং প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম প্রমুখ।

Ad 300x250

সম্পর্কিত