
দেশের বিভিন্ন বন্দর ও কাস্টমস হাউসে বছরের পর বছর আটকে থাকা পণ্য দ্রুত নিলাম বা নিষ্পত্তির লক্ষ্যে নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।
সোমবার (১৭ আগস্ট) এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন এনবিআরের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়।
কাস্টমস আইন, ২০২৩-এর ক্ষমতা বলে ২০২৫ সালের পুরোনো আদেশ বাতিল করে নতুন নিয়ম কার্যকর করেছে এনবিআর। নতুন আদেশে ই-নিলাম প্রক্রিয়া সম্প্রসারণ, কিছু পণ্য সরাসরি নির্দিষ্ট সরকারি সংস্থার কাছে হস্তান্তর এবং ক্ষতিকর পণ্য ধ্বংসের নতুন রূপরেখা দেওয়া হয়েছে।
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, আটক মূল্যবান সোনা, রূপা, হীরা বা বৈদেশিক মুদ্রা ২ মাসের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। চোরাচালানের শাড়ি, কম্বল ও কাপড় যাবে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে। ডাল, তেল, চিনি, লবণের মতো নিত্যপণ্য কিনবে টিসিবি। অস্ত্র ও গোলাবারুদ যাবে সামরিক বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে। মেয়াদ তিন মাসের কম থাকা পচনশীল খাদ্যদ্রব্য এতিমখানায় বিনা মূল্যে বিতরণ করা যাবে।
অনলাইনে ই-নিলাম ব্যবস্থা
পণ্য নিষ্পত্তির পূর্বে আমদানিকারক বা রপ্তানিকারককে নোটিশ দেওয়া হবে। নির্দিষ্ট সময়ে পণ্য খালাস না হলে ৫ কার্যদিবসের মধ্যে নিলামের তালিকা করে আসাইকুডা ওয়ার্ল্ড সিস্টেমে পণ্যের ছবি ও বিবরণ আপলোড করা হবে। বিডারদের অনলাইন বিড করতে ৫ শতাংশ জামানত দিতে হবে।
পণ্যমূল্য নির্ধারণে প্রতি বছর ১০ শতাংশ করে সর্বোচ্চ ৮০ শতাংশ পর্যন্ত দাম কমানো যাবে। নিলাম জেতার ৭ কার্যদিবসের মধ্যে টাকা পরিশোধের পর ৩ দিনের মধ্যে ডেলিভারি অর্ডার দেওয়া হবে। সময়মতো পণ্য না নিলে জামানত বাজেয়াপ্ত করা হবে।
অর্থ বণ্টন ও ক্ষতিকর পণ্য ধ্বংস
কাস্টমস আইনের ২৩৭ ধারা অনুযায়ী নিলাম থেকে পাওয়া অর্থ আগে নিলামের খরচ, জাহাজ ভাড়া ও সরকারি শুল্ক-করে ব্যবহার করা হবে। অবশিষ্ট অর্থ আবেদনের ভিত্তিতে পণ্যের প্রকৃত মালিক পাবেন।
জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর পণ্য ধ্বংস করতে ১০ সদস্যের বিশেষ কমিটি থাকবে। এতে ফায়ার সার্ভিস, পরিবেশ অধিদপ্তর ও পুলিশের প্রতিনিধিরা থাকবেন। নিলামে সিন্ডিকেট বা জালিয়াতি করলে বিডারকে কালো তালিকাভুক্ত করে মামলা করা হবে। এনবিআরের নিলাম শাখায় প্রতি মাসের অগ্রগতি প্রতিবেদন পরের মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে পাঠাতে হবে।
.png)




-78ae87-256x144.webp)

