leadT1ad

মানিকগঞ্জে দেড় গুণ দামেও মিলছে না গ্যাস সিলিন্ডার

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
মানিকগঞ্জ

মানিকগঞ্জের দুধবাজার এলাকার দোকানগুলোতে পাওয়া যাচ্ছে না সব কোম্পানির গ্যাস সিলিন্ডার। স্ট্রিম ছবি

মানিকগঞ্জ সদরের বেউথা এলাকার ভাড়াটিয়া মো. শাকুর। তাঁর বাসায় ব্যবহার করেন বসুন্ধরা কোম্পানির গ্যাস সিলিন্ডার। কিন্তু ওই এলাকায় এই কোম্পানির সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না। গ্যাসের অভাবে বাসায় রান্নাও বন্ধ প্রায়। তাই বাধ্য হয়ে অন্য কোম্পানির সিলিন্ডারসহ গ্যাস কিনতে হচ্ছে তাঁকে। সেটা সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে অনেক বেশি।

এই অবস্থা মানিকগঞ্জ শহরজুড়ে। নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে প্রায় দেড় গুণ বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে এলপিজি গ্যাসের সিলিন্ডার। সরকার নির্ধারিত ১ হাজার ২৫০ টাকার সিলিন্ডার প্রকার ভেদে ১ হাজার ৮০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে এখানে। অতিরিক্ত মূল্য নিলেও দেওয়া হয় না কোনো ক্যাশমেমো।

আজ শুক্রবার (২ জানুয়ারি) মানিকগঞ্জ শহরের দুধবাজার, গঙ্গাধরপট্টি, বেউথা ও বাসস্ট্যান্ড এলাকায় খোঁজ নিয়ে অতিরিক্ত দামে এলপিজি গ্যাস বিক্রির সত্যতা পাওয়া যায়। অতিরিক্ত দামে সিলিন্ডার কিনতে বাধ্য হওয়ায় ক্ষুব্ধ ভোক্তারা। তাঁদের অভিযোগ, সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে সিলিন্ডার গ্যাসের দাম বাড়ানো হচ্ছে।

২০২১ সালের এপ্রিল থেকে প্রতি মাসে এলপিজির দাম নির্ধারণ করে আসছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। সর্বশেষ গত বছরের ডিসেম্বরে সরকারি ঘোষণায় ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের মূল্য নির্ধারণ করা হয় ১ হাজার ২৫৩ টাকা। চলতি মাসে এখন পর্যন্ত নতুন করে দাম পুনর্নির্ধারণ হয়নি।

মানিকগঞ্জের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে সিলিন্ডার গ্যাসের সংকট চলছে দোকানগুলোতে। কয়েকটি বড় কোম্পানির গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না কোথাও। ফ্রেশ, ডেলটা, পেট্রোম্যাক্স ও আইগ্যাসের সিলিন্ডার কিছু এলাকায় মিললেও সেগুলো ১,৬৫০ থেকে ১,৮০০ পর্যন্ত টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

গ্যাসের দাম নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের দ্রুত উদ্যোগের নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে ভোক্তা বাবুল সাহা বলেন, ‘বাজারে ১,৬৫০ থেকে ১,৮০০ টাকায় গ্যাস বিক্রি হচ্ছে। এত বেশি দামে গ্যাস কিনতে আমাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।’

একাধিক খুচরা বিক্রেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ডিলারদের কাছ থেকে তাঁরা অতিরিক্ত দামে গ্যাস কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। ক্যাশ-মেমো চাইলে ডিলাররা গ্যাস দিতে অস্বীকৃতি জানায় বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা।

মানিকগঞ্জের দোকানগুলোতে কমে গেছে গ্যাস সিলিন্ডারের মজুদ। স্ট্রিম ছবি
মানিকগঞ্জের দোকানগুলোতে কমে গেছে গ্যাস সিলিন্ডারের মজুদ। স্ট্রিম ছবি

খুচরা এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রেতা মো. খবির হোসেন বাবু বলেন, ‘অধিকাংশ কোম্পানির গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। যেগুলো পাওয়া যাচ্ছে, সেগুলোও ডিলারদের কাছ থেকে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। কিন্তু বেশি দাম নিলেও ডিলাররা ক্যাশমেমো দিচ্ছে না। আমরা সর্বোচ্চ ৫০ থেকে ১০০ টাকা লাভে গ্যাস বিক্রি করছি।’

অন্যদিকে কয়েকজন ডিলারের সঙ্গে কথা বলার সময় তাঁরাও গ্যাসের সংকটের কথা স্বীকার করেন। অতিরিক্ত দামে বিক্রির বিষয়টি মেনে নেন তাঁরা। মেসার্স রাইয়্যান ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী আরিফুর রহমান শিবলু বলেন, ‘গ্যাসের সাপ্লাই না থাকায় গোডাউন বন্ধ ছিল। আগের কিছু মজুত গ্যাস আজ ডেলিভারি দেওয়া হয়েছে। ১,৩৫০ থেকে ১,৪০০ টাকা দরে বিক্রি করেছি, তবে মেমো দেওয়া হয়নি।’

মেসার্স ভাই ভাই এন্টারপ্রাইজের মালিক মো. ইব্রাহিম বলেন, ‘আমি বেক্সিমকোর ডিলার। বেশ কিছুদিন ধরে কোম্পানি গ্যাস দিচ্ছে না। তাই অন্য ডিলারদের কাছ থেকে বেশি দামে কিনে এনে বিক্রি করতে হচ্ছে। ১,৬০০ টাকায় কিনে ২০–৩০ টাকা লাভে বিক্রি করছি। তবে আমিও মেমো পাচ্ছি না।’

মেসার্স মিলেনিয়াম ট্রেডার্সের সেলসম্যান রোমান মোল্লা বলেন, ‘বর্তমানে গোডাউনে শুধু টোটাল গ্যাস রয়েছে। ১ হাজার ৫৫০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। খুচরা বিক্রেতারা ক্যাশমেমো চাইলে দেওয়া হয়, না চাইলে দেওয়া হয় না।’

ক্যাশমেমো ছাড়া পণ্য বিক্রির কোনো সুযোগ নেই জানিয়ে জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) আসাদুজ্জামান রুমেল বলেন, ‘বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। অতিরিক্ত দামে এলপিজি গ্যাস বিক্রির প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

Ad 300x250
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত