হিন্দু দলের সফরে আইফেল টাওয়ারের নারী কর্মী সরানোয় ধর্মঘট

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯: ৫৮
আইফেল টাওয়ারের সামনে বিশেষ ধর্মীয় আচার পালন করছেন বিএপিএসের সসদ্যরা। সংগৃহীত ছবি
আইফেল টাওয়ারের সামনে বিশেষ ধর্মীয় আচার পালন করছেন বিএপিএসের সসদ্যরা। সংগৃহীত ছবি

হিন্দু ধর্মীয় দলের পরিদর্শনের সময় নারী কর্মীদের দায়িত্ব থেকে সরানোর অভিযোগে প্যারিসের আইফেল টাওয়ারে ধর্মঘট হয়েছে। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দিনভর এই পর্যটনকেন্দ্র সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য বন্ধ ছিল।

গত শনিবার বোচাসানবাসী অক্ষর পুরুষোত্তম স্বামীনারায়ণ সংস্থা (বিএপিএস) নামক হিন্দু দলের ১০০ সদস্যের প্রতিনিধিদল আইফেল টাওয়ার পরিদর্শনে যায়। এই প্রতিনিধিদলের সফরের সময় নারী কর্মীদের ‘অদৃশ্য’ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ তুলেছেন টাওয়ারের কর্মচারীরা।

রোববার প্যারিসের কাছে ফ্রান্সে বিএপিএসের প্রথম বৃহৎ হিন্দু মন্দির উদ্বোধন করা হয়। এতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও উপস্থিত ছিলেন।

বিবৃতিতে স্টাফরা নিন্দা জানিয়ে বলেন, ‘প্রতিনিধিদলের অভ্যর্থনার জন্য আইফেল টাওয়ারের নিজস্ব ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নারী কর্মীদের সরে যেতে বলা হয়। তাঁদের পরিবর্তে পুরুষ কর্মীদের বসানো হয়। নির্দিষ্ট কিছু এলাকা অতিক্রম না করার জন্যও নারী কর্মীদের নির্দেশনা দেওয়া হয়।’

আইফেল টাওয়ার পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান এসইটিই স্বীকার করেছে, হিন্দু দলটি নারী কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ সীমিত রাখার অনুরোধ করেছিল। এসইটিই বিবৃতিতে জানায়, ‘এই শর্তগুলো এসইটিই-র মূল্যবোধ এবং নারী-পুরুষের সমতা নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না।’ তারা এর পরিণতি মেনে নেওয়ার অঙ্গীকার করে। এসইটিই-র সভাপতি এরিয়েল ওয়েল ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি-কে বলেন, ‘এটি স্পষ্টতই অগ্রহণযোগ্য।’

বিএপিএস বিবৃতিতে জানায়, ‘আইফেল টাওয়ার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে এই সফরের আয়োজন করা হয়েছিল। আমাদের জানা মতে, কাউকে আইফেল টাওয়ারে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়নি। তা সত্ত্বেও, এই পরিস্থিতিতে কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।’

এই ঘটনার সমালোচনা করে ফ্রান্সের বিভিন্ন ঘরানার রাজনীতিবিদরা তাঁদের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।

প্যারিসের কর্মকর্তা ইমানুয়েল গ্রেগোয়ার এক্সে লেখেন, তিনি কর্মচারীদের ক্ষোভের বিষয়ে অবগত এবং তাঁদের অসন্তোষ যুক্তিযুক্ত। তিনি লেখেন, এই ধর্মঘটের পেছনে সব সত্য উদ্ঘাটন করা জরুরি।

ফরাসি সমতাবিষয়ক মন্ত্রী অরোরে বার্গে এক্সে লেখেন, ‘কোনো নীতি বা ধর্ম আমাদের প্রজাতন্ত্রের আইনের ওপরে নয়।’

প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী মারিন ল্য পেন বলেন, ফ্রান্স কখনো নারীদের উপস্থিতি সীমিত করা মেনে নেবে না।

মধ্যপন্থী নেতা গ্যাব্রিয়েল আতাল বলেন, ‘কোনো সংস্কৃতি, বিশ্বাস বা ধর্ম ফ্রান্সের নারীদের অবস্থান কেমন হওয়া উচিত তা ঠিক করে দিতে পারে না।’

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত