ইরান-যুক্তরাষ্ট্র মধ্যস্থতার চেষ্টায় তেহরান যাচ্ছেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী
স্ট্রিম ডেস্ক

কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আল থানি আজ বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) ইরান সফরে যাচ্ছেন। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা কমিয়ে আবারও আলোচনা ফেরাতে তিনি এ সফর করবেন। খবর রয়টার্সের
বুধবার (২৬ আগস্ট) কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি সামাজিক মাধ্যম এক্সে এক পোস্টে এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি জানান, বৈঠকে হরমুজ প্রণালিতে নৌযান চলাচলের স্বাধীনতা এবং ২৮ ফেব্রুয়ারির আগের পরিস্থিতিতে ফিরে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি গুরুত্ব পাবে। পাশাপাশি ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে ‘উত্তেজনা কমানো এবং সংলাপের উপযোগী পরিবেশ তৈরির’ উপায় নিয়েও আলোচনা করবেন তিনি।
এর আগে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, ওই সফরে কাতারের মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখা এবং আঞ্চলিক বিভিন্ন পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করবেন শেখ মোহাম্মদ।
ইরানের উপসাগরীয় প্রতিবেশী ও যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র কাতার দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করে আসছে। জুনে সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর করতেও কাতার সরাসরি ভূমিকা রেখেছিল।
যুদ্ধ প্রায় ছয় মাসে গড়ানোর পর কাতারের প্রধানমন্ত্রী তেহরান সফর করছেন। হামলা-পাল্টা হামলা অনেকটা থেমে গেলেও দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সমাধানের কোনো অগ্রগতি নেই। হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলমান।
যুদ্ধের আগে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের এক-পঞ্চমাংশ ইরান ও ওমানের মধ্যকার এই জলপথ দিয়ে পরিবহন করা হতো। বর্তমানে ইরান প্রণালিটির নিয়ন্ত্রণকে চাপ প্রয়োগের হাতিয়ার ও রাজস্বের উৎস হিসেবে ধরে রেখেছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন তিন মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। সোমবার এই জলপথ দিয়ে প্রতিদিন মাত্র ৫০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন হয়েছে। যুদ্ধের আগে প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হতো।
জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ইরান ও ওমান কয়েক সপ্তাহ ধরে থেমে থেমে আলোচনা চালিয়ে আসছে।
ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস বুধবার জানিয়েছে, জলপথ ও এর রাজস্ব কীভাবে ভাগ করা হবে, সে বিষয়ে ইরান ও ওমান একমত হয়েছে। তবে পরে ইরানের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, দুই দেশ এখনো একটি চুক্তির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করছে।
যুদ্ধ অনেকটাই থেমে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড প্রায় এক মাস ধরে ইরানে কোনো হামলার খবর জানায়নি। পরিবর্তে ওয়াশিংটনও অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর দিকে বেশি ঝুঁকছে। ইরানের বাণিজ্যিক অংশীদারদের ওপর আরও নিষেধাজ্ঞা আরোপের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে তারা।
.png)






