১ ডলারের কয়েনে ট্রাম্প, যুক্তরাষ্ট্রে শতবর্ষ পর মুদ্রায় জীবিত ব্যক্তির মুখ
স্ট্রিম ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর উপলক্ষে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মুখচ্ছবি খচিত ১ ডলারের মুদ্রা বাজারে এসেছে। সোনালি রঙের এই মুদ্রার একপাশে ট্রাম্পের প্রতিকৃতির পাশাপাশি লিবার্টি এবং ইন গড উই ট্রাস্ট লেখা রয়েছে। অন্যপাশে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট পদের সরকারি প্রতীক আঁকা রয়েছে, যার শিল্ডের ওপর লেখা রয়েছে ‘২৫০’।
ইউএস মিন্টের (যুক্তরাষ্ট্রের টাঁকশাল) ভাষ্যমতে, ‘মুদ্রাটি ঐতিহাসিক ২৫০তম বার্ষিকীর দ্বারপ্রান্তে দাঁড়ানো একটি জাতির চেতনা, গৌরব এবং ঐতিহ্যকে তুলে ধরেছে।’
মুদ্রাটির আসল মান ১ ডলার হলেও, গ্রাহকরা ২৫টি মুদ্রার একটি রোল ৬১ ডলারে বা ১০০টি মুদ্রার একটি ব্যাগ ১৫৪.৫০ ডলারে কিনতে পারছেন,যা আসল দামের চেয়ে অনেকটাই বেশি।
মুদ্রাগুলো বাড়তি দামে বিক্রি করা হলেও ইউএস মিন্ট জোর দিয়ে জানিয়েছে এগুলো শুধু স্মারক মুদ্রা নয়। একটি ১ ডলারের কাগজের নোটের মতোই যেকোনো কেনাকাটায় ব্যবহার করা যাবে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) ঘটা করে ট্রাম্প কয়েন বাজারে ছাড়া হলেও এটি যুক্তরাষ্ট্রের আইনের লঙ্ঘন, এমন বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আইনে বলা আছে, শুধু মৃত্যুবরণ করেছেন এমন ব্যক্তির ছবিই মার্কিন মুদ্রা এবং সরকারি সিকিউরিটিতে ব্যবহার করা যাবে।
১৮৬৬ সালে মার্কিন কংগ্রেস এই আইনটি পাস করে। এর কারণ ছিল ট্রেজারি বিভাগের কর্মকর্তা স্পেন্সর এম ক্লার্ক পাঁচ সেন্টের একটি নোটে নিজের মুখ ছেপে বসেছিলেন। যা তৎকালীন আইনপ্রণেতাদের প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ করেছিল।

এই আইনের পর যুক্তরাষ্ট্রে কোনো জীবিত ব্যক্তির মুখচ্ছবি দিয়ে মুদ্রা প্রকাশিত হয়েছিল ১৯২৬ সালে। যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ১৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষ্যে স্মারক মুদ্রায় জর্জ ওয়াশিংটনের পাশে দেশটির ৩০তম প্রেসিডেন্ট কেলভিন কুলিজের চেহারা স্থান পেয়েছিল। যদিও সেটি ছিল একেবারেই স্মারক মুদ্রা, যা লেনদেনের জন্য নয়।
তবে, ট্রাম্প তাঁর প্রথম মেয়াদে ‘সার্কুলেটিং কালেকশন কয়েন রিডিজাইন অ্যাক্ট ২০২০’ নামের একটি বিলে স্বাক্ষর করেছিলেন। এই আইনটি যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগকে দেশটির ২৫০তম বার্ষিকী উদযাপনে বিশেষ নকশার ১ ডলারের মুদ্রা তৈরির ক্ষমতা দেয়।
যুক্তরাষ্ট্রের নেভাদার ডেমোক্রেটিক সিনেটর ক্যাথরিন কর্টেজ মাস্তো এই মুদ্রাটি প্রকাশের তীব্র সমালোচনা করেছেন।
বুধবার আলজাজিরাকে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘ট্রাম্পের এই ডলার মুদ্রাটি আমেরিকার গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের সম্পূর্ণ পরিপন্থী। তিনি দেশের জরুরি সমস্যাগুলো সমাধানের বদলে নিজের আত্মপ্রচারের প্রজেক্টকে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছেন।’
যদিও সামনে ট্রাম্পের মুখের ছবিওয়ালা ডলার নোটও আসতে পারে। গত মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেছিলেন, ট্রাম্পের মুখচ্ছবি সম্বলিত ২৫০ ডলারের স্মারক নোট প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।
সূত্র: আলজাজিরা
.png)






