ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ায় নিহত ১৩

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ১১ আগস্ট ২০২৬, ০৯: ৫৯
ইউক্রেনের হামলার পর তাতারস্তান প্রজাতন্ত্রের নিঝনেকামস্ক শহরের একটি তেল স্থাপনায় আগুন জ্বলতে দেখা যায়। ছবি: রয়টার্স
ইউক্রেনের হামলার পর তাতারস্তান প্রজাতন্ত্রের নিঝনেকামস্ক শহরের একটি তেল স্থাপনায় আগুন জ্বলতে দেখা যায়। ছবি: রয়টার্স

রাশিয়ার তাতারস্তান প্রজাতন্ত্রের নিঝনেকামস্ক শহরে ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় এক শিশুসহ অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৩৯ জন।

সোমবার রাতের এ হামলায় রাশিয়ার একটি তেল স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী। মস্কো থেকে প্রায় ৮০০ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত নিঝনেকামস্কে শহরটিতে রাশিয়ার অন্যতম বড় ও আধুনিক তেল শোধনাগার অবস্থিত।

তাতারস্তানের আঞ্চলিক প্রধান রুস্তাম মিনিখানভ হামলাটিকে ‘বর্বরোচিত’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। রাশিয়ার তদন্ত কমিটির মুখপাত্র সভেতলানা পেত্রেঙ্কো বলেন, হামলায় শিল্প ও বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ঘটনায় ‘সন্ত্রাসী হামলার’ অভিযোগে ফৌজদারি তদন্ত শুরু করেছে রাশিয়া।

এই হামলার পর তাতারস্তানে শোক দিবস ঘোষণা করা হয়েছে। কাজানে উজবেকিস্তানের কনস্যুলেট জানিয়েছে, নিহত ১৩ জনের অন্তত সাতজন উজবেক নাগরিক। রাশিয়ায় উজবেকিস্তানের ২০ থেকে ৩০ লাখ নাগরিক কাজ করেন।

রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রাতভর ইউক্রেনের ৪৫০টির বেশি ড্রোন প্রতিহত করা হয়েছে। তবে ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী নিঝনেকামস্কের তেল স্থাপনায় হামলা সফল হওয়ার দাবি করেছে।

রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা ইউক্রেনের দূরপাল্লার ড্রোন অভিযানের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। দেশটির দাবি, এসব হামলার মাধ্যমে রাশিয়ার জ্বালানি উৎপাদন ও যুদ্ধ সরবরাহব্যবস্থায় চাপ তৈরি করা হচ্ছে।

ইউক্রেনের ড্রোন বাহিনীর কমান্ডার রবার্ট ‘ম্যাগিয়ার’ ব্রোভদি জানিয়েছেন, ক্রিমিয়ায় রুশ বাহিনীর সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করতে অভিযান জোরদার করা হচ্ছে। সেখানে রেলসেতু, তেলের মজুতকেন্দ্র ও বিদ্যুৎ অবকাঠামোয় হামলা চালানো হয়েছে বলে জানান তিনি।

এদিকে ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় খারকিভে রুশ বাহিনীর গোলাবর্ষণে অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। আঞ্চলিক প্রসিকিউটর কার্যালয় জানিয়েছে, চুহুইভ জেলার একটি আবাসিক এলাকায় এ হামলা চালানো হয়।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলোতে হামলা অব্যাহত থাকবে। অন্যদিকে, রুশ হামলায় দক্ষিণাঞ্চলীয় ওদেসা বন্দরের কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় চলতি মৌসুমে দেশটির শস্য রপ্তানির পূর্বাভাস ১২ শতাংশ পর্যন্ত কমানো হয়েছে।

রাশিয়া ও ইউক্রেনের পাল্টাপাল্টি হামলায় যুদ্ধ এখন সামরিক স্থাপনার পাশাপাশি জ্বালানি অবকাঠামো ও গুরুত্বপূর্ণ বন্দরকেও ক্রমেই সংঘাতের কেন্দ্রে নিয়ে আসছে।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত