
সাংবাদিক ও কলামিস্ট

পাকিস্তান আমলেও যে দেশে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হতো; এমনকি সেটা হতো আরপিও’র মতো বিধিবিধান না থাকা সত্ত্বেও আর জনপ্রশাসনের তত্ত্বাবধানে, সেই দেশে নির্বাচনের নামে পৌনঃপুনিক তামাশার আয়োজন করেছিল হাসিনা সরকার।

শেখ হাসিনার স্বৈরাচারী সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার যে প্রধান তিন এজেন্ডা নিয়ে এগোয়, তার একটি হলো সংস্কার। ধারাবাহিকভাবে বললে, বিচার অর্থাৎ ক্ষমতাচ্যুতদের অপরাধী অংশের বিচার; সংস্কার, মূলত রাষ্ট্রকাঠামোর সংস্কার ও নির্বাচন অর্থাৎ জাতীয় নির্বাচন।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান তাঁর কর্মী-সমর্থকদের গণভোটে ‘হ্যাঁ’-র পক্ষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানাতে গিয়ে দেরি করে ফেললেন কিনা, সে প্রশ্ন উঠেছে রাজনীতিসচেতন মহলে। নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরুর মুহূর্ত থেকেই তিনি দলের এ অবস্থান স্পষ্ট করতে পারতেন বলে মত রয়েছে।

এ ধরনের একটি নির্বাচন ছাড়া তো গণতন্ত্রে উত্তরণের কোনো সুযোগ নেই। ‘রাষ্ট্র সংস্কারে’ হাত না দিলেও হতো; সেই পথে পরে অগ্রসর হওয়াটাও অসম্ভব ছিল না। কিন্তু নির্বাচন সুসম্পন্ন করার কোনো বিকল্প নেই। তবে সরকার স্থির করেছিল, সংস্কারে সুস্পষ্ট অগ্রগতি এনে তবেই নির্বাচন।

পরবর্তী হাসিনা সরকার আবার চলেছে সংস্কারের সম্পূর্ণ বিপরীতে। তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থার উচ্ছেদ, প্রকৃত বিরোধী দলকে সংসদের বাইরে রাখা আর নতুন কালাকানুন করে জনমত নিয়ন্ত্রণ এর প্রমাণ। দীর্ঘ একতরফা শাসনে তারা সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোও ধ্বংস করে দেন। এ অবস্থায় গণঅভ্যুত্থান ছিল অনিবার্য।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জামায়াত-নেতৃত্বাধীন জোটে যোগদানের ঘটনায় অবাক হওয়ার কিছু নেই। দলটির পরবর্তী পদক্ষেপ বিষয়ে অনুমান করা কঠিন ছিল অবশ্য। মাঝে তো এমন পরিস্থিতিও তৈরি হয়েছিল—এনসিপি যেন বিএনপি-নেতৃত্বাধীন জোটেই যোগ দেবে। তবে বিএনপির কাছ থেকে ‘আশানুরূপ’ আসনের প্রতিশ্রুতি নাকি পায়নি দলটি।

গণঅভ্যুত্থানের পর মাঠে যেসব রাজনৈতিক দল রয়েছে, তার মধ্যে বিএনপির জনসমর্থন সবচেয়ে বেশি। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে তারাই ক্ষমতায় যাবে বলে ধারণা সবচেয়ে জোরদার। অথচ দলটির সক্রিয় শীর্ষ নেতা এতদিন ছিলেন দেশে অনুপস্থিত।