
সাবেক সাধারণ সম্পাদক, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন

আগামীকাল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। বাংলাদেশের সামনে এক ঐতিহাসিক দিন। ৫ আগস্ট ২০২৪-এ ফ্যাসিস্ট আওয়ামী শাসনের পতনের পর এটাই সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক মুহূর্ত। ১৭ বছর পর এক ভিন্ন ধরনের নির্বাচন। ভয় কম, আগ্রহ বেশি। মানুষ বলছে—‘ভোটটা এবার আমি নিজেই দেব।’ এবারের নির্বাচন শুধু ক্ষমতা বদলের লড়াই নয়।

গণভোট হওয়ার কথা ছিল জাতীয় ঐকমত্যের উৎসব। ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনীতির বিজয়গাথা। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। গণভোট এখন নতুন বিভাজনের নাম। প্রশ্ন উঠেছে। কে কার পক্ষে? কে কার বিপক্ষে? আরেকটি প্রশ্ন আরও গভীর। পরাজিত ফ্যাসিবাদী শক্তি এবং যারা নতুন ফ্যাসিবাদী শক্তি হয়ে উঠতে চায়-তারা কি সত্যিই ‘না’ ভোটকে কেন্দ্র কর

একটি নির্বাচন কেবল ভোটের দিন নয়। একটি নির্বাচন আসলে রাষ্ট্রের আত্মবিশ্বাসের পরীক্ষা। এই মুহূর্তে বাংলাদেশ সেই পরীক্ষার মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে। আর পরীক্ষকের নাম-নির্বাচন কমিশন। গত কয়েক দিনে যা ঘটছে, তা বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা নয়। এগুলো একটি প্রবণতা। এগুলো একটি বিপদের ইঙ্গিত।

ডাকসু, জাকসু, রাকসু, চাকসু'র পর জকসু। পাঁচটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনেই ইসলামী ছাত্রশিবির-সমর্থিত প্যানেলের জয়। কোথাও বড় জয়, কোথাও ভূমিধস। এই ধারাবাহিকতা উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।

বাংলাদেশ এখন ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে। অথচ গণঅভ্যুত্থানের পর যে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আশায় জাতি উল্লসিত হয়েছিল, সেই আশাই এখন অনিশ্চয়তার মেঘে ঢাকা। জুলাই জাতীয় সনদ—যে দলিল একসময় নতুন রাজনৈতিক চুক্তির প্রতীক হিসেবে প্রশংসিত হয়েছিল—আজ তা-ই হয়ে উঠেছে দেশের রাজনৈতিক টানাপোড়েনের কেন্দ

বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর তাৎপর্যপূর্ণ দিনগুলোর একটি হলো ৭ নভেম্বর ১৯৭৫। এই দিন বাংলাদেশের ইতিহাসে এক মোড়-ফেরানো দিন। দিনটিকে কেউ বলেন ‘সিপাহি-জনতার বিপ্লব’। বিরোধীরা বলেন, ‘রাষ্ট্রবিপর্যয়ের সূচনা’।