স্ট্রিম প্রতিবেদক

দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সাম্প্রতিক সংঘাত ও বিশৃঙ্খলার জন্য ছাত্রশিবিরকে দায়ী করেছে ছাত্রদল। তাদের ভাষ্য, ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সংযম প্রদর্শন করায় এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি বড় ধরনের সংঘাতে রূপ নেয়নি। অন্যদিকে ছাত্রদলের বিরুদ্ধে দখলদারির রাজনীতি ফেরানোর চক্রান্তের পাল্টা অভিযোগ এনেছে ছাত্রশিবির।
গত ৩ আগস্ট থেকে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজ ও ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। কোথাও কোথাও প্রশাসনকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিতে হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে দেশের ছাত্ররাজনীতি নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
শিবিরের ৩ উদ্দেশ্য দেখছে ছাত্রদল
ছাত্রদলের একাধিক কেন্দ্রীয় নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাদের মূল্যায়নে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর পেছনে তিনটি প্রধান উদ্দেশ্য থাকতে পারে। প্রথমত, বিএনপি সরকার গঠনের পর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রশিবিরের আগের একচ্ছত্র প্রভাব কমে যাওয়ায় নতুন করে সাংগঠনিক আধিপত্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা। দ্বিতীয়ত, সাম্প্রতিক সময়ে আলোচনায় থাকা স্পর্শকাতর বিষয় থেকে শিক্ষার্থীদের মনোযোগ অন্যদিকে সরিয়ে দেওয়া। তৃতীয়ত, সরকারকে বিব্রত করা এবং সংঘর্ষের দায় ছাত্রদলের ওপর চাপিয়ে সংগঠনটিকে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করা।
ছাত্রদলের নেতাদের দাবি, গত বুধবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদকের দেওয়া বক্তব্যও সাম্প্রতিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। তাদের ভাষ্য, ওই বক্তব্যের পর বিভিন্ন ক্যাম্পাসে উত্তেজনা আরও ছড়িয়ে পড়ে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও পাল্টাপাল্টি প্রচারণা বৃদ্ধি পায়। একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা জানান, গত এক বছরে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রসংগঠনগুলোর মধ্যে সহাবস্থানের একটি পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো সেই পরিবেশকে নষ্ট করার একটি সুপরিকল্পিত প্রয়াস বলে তারা মনে করছেন। তাদের অভিযোগ, কয়েকটি ক্যাম্পাসে আগে থেকে প্রস্তুতি নিয়ে সংঘাতের পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়েছে এবং পরে সেটিকে রাজনৈতিকভাবে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা হয়েছে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক জহির উদ্দিন মো. বাবর স্ট্রিমকে বলেন, ‘শিবিরের অসহনশীলতা ও উসকানিমূলক বক্তব্যের কারণেই এসব সংঘাতের সূত্রপাত হয়েছে। শিবিরের সন্ত্রাসী ক্যাডাররা স্থানীয় জামায়াতের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছে এবং পরে উল্লাস করেছে। এতে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের আবেগ-অনুভূতিতে আঘাত লাগে। ফলে বিভিন্ন ক্যাম্পাসে শিবিরের সন্ত্রাসীদের প্রতিহত করা হয়েছে।’
ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গাজী মো. সাদ্দাম হোসেন স্ট্রিমকে বলেন, ‘দীর্ঘদিনের গোপন রাজনৈতিক কৌশলের পর হঠাৎ একচ্ছত্র আধিপত্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা, অন্য ছাত্রসংগঠনের সহাবস্থান মেনে না নেওয়া, হল ও ক্যাম্পাসের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার অনমনীয় মনোভাব, প্রতিপক্ষকে কোণঠাসা করতে উসকানিমূলক বক্তব্য, রাজনৈতিক শিষ্টাচার উপেক্ষা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিদ্বেষ ছড়ানো, সাইবার হামলা এবং ধর্মীয় অনুভূতিকে ব্যবহার করে অস্থিরতা সৃষ্টি—এসব কারণেই দেশের বিভিন্ন ক্যাম্পাসে সাম্প্রতিক সংঘাতের সৃষ্টি হয়েছে।’
ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সহসভাপতি রিয়াদ রহমান বলেন, ‘শিবির অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে এসব ঘটনার মঞ্চায়ন করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে স্পর্শকাতর বিষয়ে তাদের অবস্থানের কারণে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তাদের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেই আলোচনা থেকে দৃষ্টি সরাতে তারা সংঘাতের পথ বেছে নিয়েছে এবং পরে নিজেদের ভুক্তভোগী হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করছে। গত বুধবারও তাদের নেতা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছেন।’
ক্যাম্পাস ছাড়িয়ে স্থানীয় রাজনীতিতেও উত্তেজনা
ছাত্রদলের দাবি, সংঘর্ষের প্রভাব এখন শুধু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই; এটি স্থানীয় রাজনীতিতেও ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসার ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে। ছাত্রদলের নেতাদের অভিযোগ, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনাতেই সাম্প্রতিক সংঘাতের সূচনা। তাদের দাবি, রংপুরে জামায়াতের কয়েকজন স্থানীয় নেতা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় গিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি করেন এবং পরে হামলায় অংশ নেন। একইভাবে ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসার সংঘর্ষেও স্থানীয় জামায়াতের সাবেক সংসদ সদস্য প্রার্থীসহ দলটির নেতাকর্মীরা অংশ নিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তারা।
তবে বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ঢাকা দক্ষিণ যুবদলের সদস্যসচিব রবিউল ইসলাম নয়ন এবং তার অনুসারীদেরও সংঘর্ষে অংশ নিতে দেখা যায়। এ বিষয়ে ছাত্রদলের নেতারা বলছেন, ঘটনাস্থলে তাদের উপস্থিতির পেছনে ভিন্ন প্রেক্ষাপট রয়েছে।
ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব স্ট্রিমকে বলেন, ‘আমরা আর পেছনে ফিরে যেতে চাই না। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সৃষ্ট বিশৃঙ্খলার জন্য শিবির এককভাবে দায়ী। তারা সেখানে দেশীয় অস্ত্র প্রদর্শন করেছে। এরপরও আমরা ক্যাম্পাসগুলোতে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ বজায় রেখেছি। সারা দেশের কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কেউ যেন বিশৃঙ্খলা করতে না পারে এবং কেউ বিশৃঙ্খলা করলে তা ধৈর্য ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে মোকাবিলা করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’
আলিয়া মাদ্রাসার ঘটনায় যুবদল ও স্থানীয় নেতাদের জড়িয়ে পড়ার ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে কিছু সাংবাদিক গত চার দিনের ঘটনায় বিএনপি ও যুবদলকে জড়িয়ে প্রশ্ন করে, কিন্তু জামায়াতকে প্রশ্ন করে না যে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনায় জামায়াতের কয়েকজন এমপি প্রার্থী, রংপুর জেলা ও মহানগরের নেতারা সশরীরে সেখানে গিয়ে গভীর রাতে হামলা করেছে, স্ট্যাটাস দিয়েছে, উল্লাস করেছে, উসকানি দিয়েছে। এটা নিয়ে কেউ প্রশ্ন তুলল না কেন? আলিয়া মাদ্রাসায় আমাদের সানাউল্লাহকে ঢাকা-আসনের এমপি প্রার্থী, তার ছেলে এবং জামায়াতের ক্যাডারেরা পিটিয়ে জখম করেছে, তাই যুবদলের একটি অংশ সেখানে তাদের রক্ষা করতে গিয়েছিল। স্থানীয় হিসেবে কি তারা তাদের সহকর্মীকে জামায়াত-শিবিরের ক্যাডারদের হাত থেকে রক্ষা করতে পারে না?’
ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদক সিবগাতুল্লাহ স্ট্রিমকে বলেন, ‘ছাত্রদলের যে অতীতে সন্ত্রাসী কার্যক্রম ছিল, বিভিন্ন ক্যাম্পাসে দখলদারিদের রাজনীতি ছিল, মূলত সেটাই তারা অব্যাহত রাখার চেষ্টা করছে। আমাদের মনে হয়েছে যে ছাত্রদল অতীতে যেটা হয়েছে নব্বইয়ের পরবর্তী সময়ে ক্ষমতায় এসে গেস্টরুম ও গণরুম প্রতিষ্ঠা করেছিল। এখন যেহেতু ক্যাম্পাসগুলোতে গেস্টরুম ও গণরুম নাই, যার ফলে শিক্ষার্থীরা স্বাধীনতা ভোগ করছেন। তো এটা আসলে ছাত্রদলের সহ্য হচ্ছে না এবং তারা শিক্ষার্থীদেরকে আবারও জিম্মি করতে চায়, সেজন্যই তারা সারাদেশে সঙ্ঘবদ্ধভাবে বিভিন্ন স্থানে জুলাই প্রোগ্রামসহ অন্যান্য জায়গাগুলোতে তারা হামলা চালিয়েছে।’

দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সাম্প্রতিক সংঘাত ও বিশৃঙ্খলার জন্য ছাত্রশিবিরকে দায়ী করেছে ছাত্রদল। তাদের ভাষ্য, ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সংযম প্রদর্শন করায় এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি বড় ধরনের সংঘাতে রূপ নেয়নি। অন্যদিকে ছাত্রদলের বিরুদ্ধে দখলদারির রাজনীতি ফেরানোর চক্রান্তের পাল্টা অভিযোগ এনেছে ছাত্রশিবির।
গত ৩ আগস্ট থেকে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজ ও ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। কোথাও কোথাও প্রশাসনকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিতে হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে দেশের ছাত্ররাজনীতি নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
শিবিরের ৩ উদ্দেশ্য দেখছে ছাত্রদল
ছাত্রদলের একাধিক কেন্দ্রীয় নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাদের মূল্যায়নে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর পেছনে তিনটি প্রধান উদ্দেশ্য থাকতে পারে। প্রথমত, বিএনপি সরকার গঠনের পর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রশিবিরের আগের একচ্ছত্র প্রভাব কমে যাওয়ায় নতুন করে সাংগঠনিক আধিপত্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা। দ্বিতীয়ত, সাম্প্রতিক সময়ে আলোচনায় থাকা স্পর্শকাতর বিষয় থেকে শিক্ষার্থীদের মনোযোগ অন্যদিকে সরিয়ে দেওয়া। তৃতীয়ত, সরকারকে বিব্রত করা এবং সংঘর্ষের দায় ছাত্রদলের ওপর চাপিয়ে সংগঠনটিকে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করা।
ছাত্রদলের নেতাদের দাবি, গত বুধবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদকের দেওয়া বক্তব্যও সাম্প্রতিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। তাদের ভাষ্য, ওই বক্তব্যের পর বিভিন্ন ক্যাম্পাসে উত্তেজনা আরও ছড়িয়ে পড়ে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও পাল্টাপাল্টি প্রচারণা বৃদ্ধি পায়। একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা জানান, গত এক বছরে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রসংগঠনগুলোর মধ্যে সহাবস্থানের একটি পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো সেই পরিবেশকে নষ্ট করার একটি সুপরিকল্পিত প্রয়াস বলে তারা মনে করছেন। তাদের অভিযোগ, কয়েকটি ক্যাম্পাসে আগে থেকে প্রস্তুতি নিয়ে সংঘাতের পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়েছে এবং পরে সেটিকে রাজনৈতিকভাবে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা হয়েছে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক জহির উদ্দিন মো. বাবর স্ট্রিমকে বলেন, ‘শিবিরের অসহনশীলতা ও উসকানিমূলক বক্তব্যের কারণেই এসব সংঘাতের সূত্রপাত হয়েছে। শিবিরের সন্ত্রাসী ক্যাডাররা স্থানীয় জামায়াতের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছে এবং পরে উল্লাস করেছে। এতে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের আবেগ-অনুভূতিতে আঘাত লাগে। ফলে বিভিন্ন ক্যাম্পাসে শিবিরের সন্ত্রাসীদের প্রতিহত করা হয়েছে।’
ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গাজী মো. সাদ্দাম হোসেন স্ট্রিমকে বলেন, ‘দীর্ঘদিনের গোপন রাজনৈতিক কৌশলের পর হঠাৎ একচ্ছত্র আধিপত্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা, অন্য ছাত্রসংগঠনের সহাবস্থান মেনে না নেওয়া, হল ও ক্যাম্পাসের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার অনমনীয় মনোভাব, প্রতিপক্ষকে কোণঠাসা করতে উসকানিমূলক বক্তব্য, রাজনৈতিক শিষ্টাচার উপেক্ষা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিদ্বেষ ছড়ানো, সাইবার হামলা এবং ধর্মীয় অনুভূতিকে ব্যবহার করে অস্থিরতা সৃষ্টি—এসব কারণেই দেশের বিভিন্ন ক্যাম্পাসে সাম্প্রতিক সংঘাতের সৃষ্টি হয়েছে।’
ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সহসভাপতি রিয়াদ রহমান বলেন, ‘শিবির অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে এসব ঘটনার মঞ্চায়ন করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে স্পর্শকাতর বিষয়ে তাদের অবস্থানের কারণে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তাদের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেই আলোচনা থেকে দৃষ্টি সরাতে তারা সংঘাতের পথ বেছে নিয়েছে এবং পরে নিজেদের ভুক্তভোগী হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করছে। গত বুধবারও তাদের নেতা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছেন।’
ক্যাম্পাস ছাড়িয়ে স্থানীয় রাজনীতিতেও উত্তেজনা
ছাত্রদলের দাবি, সংঘর্ষের প্রভাব এখন শুধু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই; এটি স্থানীয় রাজনীতিতেও ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসার ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে। ছাত্রদলের নেতাদের অভিযোগ, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনাতেই সাম্প্রতিক সংঘাতের সূচনা। তাদের দাবি, রংপুরে জামায়াতের কয়েকজন স্থানীয় নেতা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় গিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি করেন এবং পরে হামলায় অংশ নেন। একইভাবে ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসার সংঘর্ষেও স্থানীয় জামায়াতের সাবেক সংসদ সদস্য প্রার্থীসহ দলটির নেতাকর্মীরা অংশ নিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তারা।
তবে বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ঢাকা দক্ষিণ যুবদলের সদস্যসচিব রবিউল ইসলাম নয়ন এবং তার অনুসারীদেরও সংঘর্ষে অংশ নিতে দেখা যায়। এ বিষয়ে ছাত্রদলের নেতারা বলছেন, ঘটনাস্থলে তাদের উপস্থিতির পেছনে ভিন্ন প্রেক্ষাপট রয়েছে।
ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব স্ট্রিমকে বলেন, ‘আমরা আর পেছনে ফিরে যেতে চাই না। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সৃষ্ট বিশৃঙ্খলার জন্য শিবির এককভাবে দায়ী। তারা সেখানে দেশীয় অস্ত্র প্রদর্শন করেছে। এরপরও আমরা ক্যাম্পাসগুলোতে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ বজায় রেখেছি। সারা দেশের কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কেউ যেন বিশৃঙ্খলা করতে না পারে এবং কেউ বিশৃঙ্খলা করলে তা ধৈর্য ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে মোকাবিলা করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’
আলিয়া মাদ্রাসার ঘটনায় যুবদল ও স্থানীয় নেতাদের জড়িয়ে পড়ার ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে কিছু সাংবাদিক গত চার দিনের ঘটনায় বিএনপি ও যুবদলকে জড়িয়ে প্রশ্ন করে, কিন্তু জামায়াতকে প্রশ্ন করে না যে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনায় জামায়াতের কয়েকজন এমপি প্রার্থী, রংপুর জেলা ও মহানগরের নেতারা সশরীরে সেখানে গিয়ে গভীর রাতে হামলা করেছে, স্ট্যাটাস দিয়েছে, উল্লাস করেছে, উসকানি দিয়েছে। এটা নিয়ে কেউ প্রশ্ন তুলল না কেন? আলিয়া মাদ্রাসায় আমাদের সানাউল্লাহকে ঢাকা-আসনের এমপি প্রার্থী, তার ছেলে এবং জামায়াতের ক্যাডারেরা পিটিয়ে জখম করেছে, তাই যুবদলের একটি অংশ সেখানে তাদের রক্ষা করতে গিয়েছিল। স্থানীয় হিসেবে কি তারা তাদের সহকর্মীকে জামায়াত-শিবিরের ক্যাডারদের হাত থেকে রক্ষা করতে পারে না?’
ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদক সিবগাতুল্লাহ স্ট্রিমকে বলেন, ‘ছাত্রদলের যে অতীতে সন্ত্রাসী কার্যক্রম ছিল, বিভিন্ন ক্যাম্পাসে দখলদারিদের রাজনীতি ছিল, মূলত সেটাই তারা অব্যাহত রাখার চেষ্টা করছে। আমাদের মনে হয়েছে যে ছাত্রদল অতীতে যেটা হয়েছে নব্বইয়ের পরবর্তী সময়ে ক্ষমতায় এসে গেস্টরুম ও গণরুম প্রতিষ্ঠা করেছিল। এখন যেহেতু ক্যাম্পাসগুলোতে গেস্টরুম ও গণরুম নাই, যার ফলে শিক্ষার্থীরা স্বাধীনতা ভোগ করছেন। তো এটা আসলে ছাত্রদলের সহ্য হচ্ছে না এবং তারা শিক্ষার্থীদেরকে আবারও জিম্মি করতে চায়, সেজন্যই তারা সারাদেশে সঙ্ঘবদ্ধভাবে বিভিন্ন স্থানে জুলাই প্রোগ্রামসহ অন্যান্য জায়গাগুলোতে তারা হামলা চালিয়েছে।’

কোনো সরকার ক্ষমতায় আসার কয়েক মাসের মধ্যে তাকে ব্যর্থ বলা বা মব তৈরি করে চাপ সৃষ্টি করাকে অগণতান্ত্রিক বলেছেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
৩ ঘণ্টা আগে
ভারতে অবস্থানরত ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নয়া দিল্লিতে সংবাদ সম্মেলনে সরাসরি বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়ায় ভারত সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। বিবিসি বাংলাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ ক্ষোভ জানান।
৯ ঘণ্টা আগে
জুলাই আন্দোলনের সময় পুলিশকে পিটিয়ে রক্তাক্ত করেছিলেন বলে মন্তব্য করে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য জোবাইরুল আলম।
১৮ ঘণ্টা আগে
বাংলাদেশের ১৮ কোটি জনগণকে না বেছে ভারত দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক শেখ হাসিনাকেই প্রাধান্য দিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।
১৯ ঘণ্টা আগে