
ইতালির ভেনিসে হামলা-হেনস্তার শিকার অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন জানিয়েছেন, তাঁকে দমানো এত সহজ হবে না। স্থানীয় সময় সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাতে ফেসবুক লাইভে তিনি বলেন, ‘আমার গায়ে হাত তোলা হয়েছে। আমার ভাইয়ের স্ত্রীকেও ধাক্কা দেওয়া হয়েছে। একজন আজমেরী হক বাঁধনকে দমানো এত সহজ হবে না।’
হামলাকারী কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ এবং নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীর উদ্দেশ্যে বাঁধন আরও বলেন, ‘আপনারা আজ সারা বিশ্বের মানুষকে দেখালেন, বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বকারী একজন অভিনেত্রীকে হেনস্তা করা হলো।’
নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে তিনি অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলন সমর্থনের কারণে ভেনিস আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও ‘বঙ্গবন্ধুর সৈনিক’ পরিচয়দানকারী কয়েকজন নেতাকর্মী তাঁকে শারীরিকভাবে হেনস্তা করেন।
‘রেহানা মরিয়ম নূর’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিচিতি পাওয়া বাঁধন বর্তমানে ৮৩তম ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন। রুবাইয়াত হোসেন পরিচালিত ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ সিনেমা নিয়ে এই উৎসবে অংশ নিতে পরিবারের সঙ্গে ইতালির মেস্ট্রে শহরে অবস্থান করছেন বাঁধন।
উৎসবের প্রতিযোগিতামূলক অরিজন্তি বিভাগে জায়গা পেয়েছে রুবাইয়াত হোসেন পরিচালিত সিনেমাটি। ৬ সেপ্টেম্বর সালা দারসেনা থিয়েটারে সিনেমাটির ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ার হয়। সিনেমাটির মুখ্য চার নারী চরিত্রে অভিনয় করেছেন– জাইনীন করিম, রিকিতা নন্দিনী শিমু, সুনেরাহ বিনতে কামাল ও আজমেরী হক বাঁধন।
ঘটনার পর সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ফেসবুক লাইভে বাঁধন জানান, স্থানীয় সময় সোমবার রাতে একটি পার্কে ভাইয়ের পরিবারের সঙ্গে ঘুরতে গেলে কয়েকজন তাঁর ওপর হামলা চালান। তাঁর মোবাইল ফোনও ছুড়ে ফেলা হয়। ঘটনার সময় তাঁর সঙ্গে ভাইয়ের শিশুসন্তানও ছিল।
ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন বাঁধন এবং বেশ কিছু ভিডিও ফেসবুকে দেন। ভিডিওতে কয়েকজনকে বাঁধনের দিকে তেড়ে যেতে, তাঁর সঙ্গে ধস্তাধস্তি করতে এবং উত্তেজিতভাবে কথা বলতে দেখা যায়। তাদের কয়েকজন বাঁধনকে ‘জুলাই জঙ্গি’ আখ্যা দেন।
ফেসবুক লাইভে বাঁধন বলেন, ‘এখানে আমি আমার ভাইয়ের পরিবারের সঙ্গে পার্কে গিয়েছিলাম। সেখানে আমাদের অনেক বাঙালি ভাই এসে আমাকে ফিজিক্যালি হ্যারাস করেছে। আমার শরীরে পানি, কোক ছুড়ে মেরেছে। এতে আমি একদম ভিজে যাই।’
অভিনেত্রী জানান, তাঁর ওপর হাত তোলা হয়েছে এবং কানের পাশেও আঘাত করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘তাঁরা আমার শরীরে হাত তুলেছে। আমার ফোন ফেলে দিয়েছে। আমার কানের পাশে আঘাত করেছে।’
ঘটনার সময় বাঁধনের ভাইয়ের শিশুসন্তান সঙ্গে ছিল। প্রকাশিত একটি ভিডিওতে শিশুটির কথা উল্লেখ করে হামলাকারীদের থামানোর চেষ্টা করতে শোনা যায়। জবাবে একজনকে বলতে শোনা যায়, ‘কিসের আবার বাচ্চা, ওকে জয় বাংলা বলতে হবে।’
আপনাদের এই অসংলগ্ন আচরণ থেকে বেরিয়ে আসা উচিত ছিল, আপনারা তা করতে পারেননি। আপনারা ভেবেছেন, এভাবে করেই হয়তো পরবর্তীকালে নিজেদের জায়গাটা ফের সুগঠিত করতে পারবেন। সেটা আমার মনে হচ্ছে না। আজমেরী হক বাঁধন, অভিনেত্রী
বাঁধন বলেন, ‘তাঁরা বলেছে– আমি জুলাই যোদ্ধা। ইয়েস, আই অ্যাম। আমি অবশ্যই জুলাইয়ের আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছি।’ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমি ভেনিস উৎসবে যে সিনেমাটি নিয়ে এসেছি, সেটির পরিচালক রুবাইয়াত হোসেনের বাবা আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী ছিলেন। আমি তাঁর সঙ্গে জুলাই আন্দোলনের পরেও কাজ করছি। আপনাদের এই ধরনের অসংলগ্ন আচরণ থেকে বের হয়ে আসা উচিত ছিল। আপনারা এভাবে নিজেদের ফেরাতে পারবেন না।’
২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে সরাসরি অংশ নেন বাঁধন। আন্দোলনের পক্ষে দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমে কথাও বলেছিলেন তিনি।
বাঁধনের ওপর হামলার ঘটনা নিজের ফেসবুকে ছবিসহ দিয়ে লন্ডনপ্রবাসী সাংবাদিক জুলকারনায়েন সায়ের লিখেছেন, ইতালির ভেনিসে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর হামলায় সরাসরি জড়িত সবুজ টি-শার্ট পরিহিত ব্যক্তির নাম শিপলু মাহমুদ বিপ্লব। দুদিন আগে তাঁকে শেখ হাসিনা-পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়ের সঙ্গে ছবি তুলতে দেখা যায়।
ভিডিও বার্তায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের কথাও উল্লেখ করেন বাঁধন। তিনি বলেন, ‘সজীব ওয়াজেদ জয়ও ভেনিসে আছেন বলে জেনেছি। আশা করি, আপনারা তাঁর কাছে বিষয়টি পৌঁছে দেবেন।’
হামলাকারীদের উদ্দেশে বাঁধন আরও বলেন, ‘আপনাদের এই অসংলগ্ন আচরণ থেকে বেরিয়ে আসা উচিত ছিল, আপনারা তা করতে পারেননি। আপনারা ভেবেছেন, এভাবে করেই হয়তো পরবর্তীকালে নিজেদের জায়গাটা ফের সুগঠিত করতে পারবেন। সেটা আমার মনে হচ্ছে না।’
.png)





-78ae87-256x144.webp)

