
লোডশেডিংয়ের কারণে জেনারেটরের ব্যবহারে নওগাঁর চালকলগুলোতে উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে। অতিরিক্ত খরচের কারণে চালের দাম বাড়ার ও বাজারে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন মালিকেরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় নওগাঁয় তীব্র লোডশেডিং দেখা দিয়েছে। এতে জেলার সাত শতাধিক চালকলের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। ধান ও চাল উৎপাদনে শীর্ষে থাকা এ জেলায় খাদ্যপণ্য, প্লাস্টিক ও কৃষি যন্ত্রাংশের অসংখ্য কারখানাও বিদ্যুৎ সংকটে পড়েছে।
নওগাঁর সুলতানপুর এলাকার ঘোষ অটোমেটিক রাইস মিলের মালিক দ্বিজেন ঘোষ বলেন, ‘বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বেলা ১১টা পর্যন্ত ১২ ঘণ্টার মধ্যে চার ঘণ্টা বিদ্যুৎ ছিল না। জেনারেটর চালাতে গিয়ে উৎপাদন ব্যয় বহুগুণ বাড়ছে।’
বিসিকের নাসিম ব্রাদার্স রাইস মিলের ব্যবস্থাপক সাইফুল ইসলাম জানান, ডিজেলের বাড়তি খরচের কারণে সব সময় জেনারেটর চালানো যাচ্ছে না এবং এতে উৎপাদন প্রায় ৩০ শতাংশ কমে গেছে।
চালকল মালিকেরা জানান, ডিজেলের এই বাড়তি ব্যয় বেশি দিন বহন করা সম্ভব নয়। দ্রুত স্বাভাবিক বিদ্যুৎ না মিললে চালের দাম বাড়ানো ছাড়া কোনো পথ থাকবে না। অন্যদিকে শহরের চেয়ে গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ায় আমন ধানের গভীর নলকূপ সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। বিএমডিএর নলকূপ অপারেটর ফিরোজ হোসেন জানান, দিনে ছয়-সাত ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় ধান রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
নর্দার্ন ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (নেসকো) ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি সূত্র অনুযায়ী, নওগাঁয় দিনে গড়ে ৯৫ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদার বিপরীতে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ সরবরাহ কম পাওয়া যাচ্ছে। ফলে বাধ্য হয়ে চাহিদা ও সরবরাহের ঘাটতি মেলাতে লোডশেডিং করতে হচ্ছে।
.png)




-78ae87-256x144.webp)

