রংপুরে ৪ খুন/বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন নিয়ে সন্দেহ, আটক ২
স্ট্রিম সংবাদদাতারংপুর
-74d407-480x270.webp)
রংপুর নগরীতে অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক, তাঁর স্ত্রী ও দুই ছেলেমেয়ে হত্যায় ডাকাতির ঘটনা রয়েছে বলে পুলিশের ধারণা। তবে এটিকে পরিকল্পনা হত্যাকাণ্ড বলছেন স্বজনেরা। কারণ হিসেবে তারা পুরো বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করাকে সামনে আনছেন। পাশাপাশি বাড়িটি নির্মাণের সময় চাঁদা দাবির কথা বলছেন।
শনিবার (২২ আগস্ট) রাতে নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকার নিজ বাসার ছাদ, চিলেকোঠা ও ঘর থেকে রংপুর জিলা স্কুলের হিসাববিজ্ঞানের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ওরফে জুয়েল (৬৫), তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫০), মেয়ে পার্থী চক্রবর্তী (২৫) ও ছেলে প্রিয়ম চক্রবর্তীর (১২) লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
গণপতি চক্রবর্তী গত ডিসেম্বরে অবসরে যান। এরপর তিনি বাড়িতে চেম্বার দিয়ে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা দিতেন। দুদিন ধরে পরিবারের সবার ফোন নম্বর বন্ধ পেয়ে স্বজনেরা এসে অন্ধকার বাড়িতে তাদের লাশ পান।

রংপুর সিআইডির পুলিশ সুপার (ভারপ্রাপ্ত) সুমিত চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, বাড়ির বৈদ্যুতিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন, পারিপার্শ্বিকতা, ভেতরের অবস্থা দেখে প্রাথমিকভাবে এটিকে আমরা ডাকাতি মনে করছি। তবে তদন্ত শেষ না করে নিশ্চিত কিছু বলা যাচ্ছে না। বাড়ির আসবাবপত্র, যেখানে সাধারণত টাকাপয়সা, গহনা রাখা হয়, সবই ভেঙে ফেলা হয়েছে। এতে বিষয়টি ডাকাতি বলে সন্দেহ জোরালো হচ্ছে।
গণপতির বড় ভাই গোপনীনাথ চক্রবর্তী বলেন, ‘বাড়ি করার সময় চাঁদার টাকা নিয়া একটা ঝামেলার কথা গণপতি বলেছিল। তারপর তো বাড়িতে সে বসবাস করছে। আমি গ্রামে থাকি, শহরের কাউকে চিনি না। কারা চাঁদা চাইছিল, তা সে বলেনি।’
তিনি বলেন, ‘বিদ্যুতের লাইন ডিসকানেক্ট করে এই ঘটনা ঘটানো হইছে। এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। পুরো পরিবারকে শেষ করে দেওয়া হয়েছে। আমরা এই হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই।’
গোপীনাথ চক্রবর্তীর জামাতা বিশ্বজিৎ রায় জানান, গণপতি চক্রবর্তী আগে রংপুর নগরের বিভিন্ন এলাকায় ভাড়া থাকতেন। ২০১০ সালে মাছুয়াপাড়া গ্রামে ৬ শতাংশ জমি কেনেন। তিন বছর আগে সেখানে তিন তলা ভবনের কাজ শুরু করেন। দ্বিতীয় তলা ঠিক করে বসবাস করছেন। নিচতলায় কাজ চলছে।
-d8aadc.jpg)
তিনি বলেন, বাড়ি করা নিয়ে চাঁদা দাবির কথা গণপতি আমাকে জানিয়েছিলেন। কারা চাঁদা দাবি করেছিল, তা বলেননি। সে সময়ে খুব চাপে ছিলেন এবং পরে বিষয়টি তিনি মিটমাট করেছেন জানিয়েছিলেন।
রোববার সরেজমিন মাছুয়াপাড়ায় দেখা যায়, পুরো ভবন ঘিরে রেখেছে পুলিশ। এক পরিবারের চার সদস্যের মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজন ও প্রতিবেশীরা ভিড় করছেন।
পাশের বাড়ির গৃহবধূ সোনালী দাস বলেন, ‘খুব ভালো পরিবার ছিল। সবার সঙ্গে মিশতো, কথা বলতো। কারা যে তাদের এমন নৃশংসভাবে হত্যা করল, বুঝতে পারছি না।’
কোতোয়ালি থানার ওসি নাজমুল কাদের জানান, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনায় দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।
এদিকে, ঘটনার প্রতিবাদ এবং জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছে জিলা স্কুলসহ নগরীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।
.png)




-78ae87-256x144.webp)

