১৫০ হাজির লাগেজ কাটার অভিযোগের সত্যতা পায়নি বিমান

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ০৪ জুন ২০২৬, ০০: ০১
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (সংগৃহীত ছবি)

রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একটি হজ ফ্লাইটের ১৫০ হাজির লাগেজ কেটে মালামাল চুরির অভিযোগের কোনো সত্যতা মেলেনি বলে জানিয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স।

সৌদি আরব থেকে ঢাকায় নামার পর প্রায় দেড়শ হাজি তাদের লাগেজ কাটা অবস্থায় পেয়েছেন বলে এক ব্যক্তির ফেইসবুক পোস্ট ভাইরাল হওয়ার পর বুধবার (৩ জুন) এমন তথ্য জানিয়েছে তারা।

বিমান জানিয়েছে, তদন্তে তারা ঢাকায় কারও লাগেজ কাটার কোনো সূত্র পায়নি। তবে, প্রায় ২১টি ব্যাগ ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় হ্যান্ডলিং স্টাফরা পেয়েছেন।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের এয়ারপোর্ট সার্ভিসেস বিভাগের মহাব্যবস্থাপক শাহনূর আহমাদ স্বাক্ষরিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘লাগেজ কাটা হয়েছে—এমন কয়েকজন হাজি জানিয়েছেন, তারা লাগেজে জমজমের পানি ও তরল প্রসাধনী নিয়েছিলেন। বিমানের পর্যবেক্ষণ হচ্ছে, সৌদি নিয়ম অনুযায়ী লাগেজে জমজমের পানি বহন একেবারেই নিষিদ্ধ। পাশাপাশি যথাযথ সিলগালা ছাড়া তরল প্রসাধনীও বহন করা যাবে না। সে কারণে স্ক্যানিংয়ে এসব বস্তুর উপস্থিতি পেয়ে লাগেজ কেটে সৌদি বিমানবন্দরে সেগুলো বাজেয়াপ্ত করা হতে পারে।’

উড়োজাহাজ পরিচালনার পাশাপাশি বিমান হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের একমাত্র গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সেবাদাতা। বিমানের এয়ারপোর্ট সার্ভিসেস বিভাগের প্রতিবেদনে বলা হয়, গত মঙ্গলবার ভোররাতে ৪১৯ জন যাত্রী নিয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিশেষ হজ ফ্লাইট ঢাকায় অবতরণ করে। পরে মোস্তফা কামাল পলাশ নামে একটি ফেইসবুক আইডি থেকে দাবি করা হয়, ওই ফ্লাইটে আসা প্রায় ১৫০ জন হাজির লাগেজ কেটে মালপত্র চুরি হয়েছে।

প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ফ্লাইটটি রানওয়েতে অবতরণের পর রাত ৩টা ৫ মিনিটে প্রথম ব্যাগ এবং রাত ৩টা ৫১ মিনিটে ফ্লাইটের মোট ৮৩৬টি ব্যাগের সবকটি ডেলিভারি বেল্টে দেওয়া হয়। উড়োজাহাজের হোল্ড থেকে কনটেইনার, প্যালেট এবং ট্রলি-ডলির মাধ্যমে লাগেজগুলো যখন ব্যাগেজ ডেলিভারি এরিয়াতে আনা হয়, তখন পুরো পথটি সম্পূর্ণভাবে সিকিউরিটি গার্ডের প্রত্যক্ষ উপস্থিতিতে নিয়ে আসা হয়। এয়ারপোর্ট সিকিউরিটি অথরিটির (এভসেক) কর্মকর্তাদের সরাসরি উপস্থিতিতে ট্রলি-ডলি থেকে ব্যাগগুলো ড্রপ করা হয় লাগেজ ডেলিভারি বেল্টে।

২১টি ব্যাগ বিমান থেকে নামানোর সময় ‘ক্ষতিগ্রস্ত’ অবস্থায় পাওয়া গেছে—তথ্য দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘উড়োজাহাজ থেকে ব্যাগ নামানোর সময় গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং স্টাফদের গায়ে থাকা বডি-ওয়ার্ন ক্যামেরা এবং বিমানবন্দরের রানওয়ে ও সোর্টিং এরিয়ার সিসিটিভি ক্যামেরার ভিডিও পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা করে দেখা যায়, প্রায় ২১টি ব্যাগ ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় হ্যান্ডলিং স্টাফরা পায়।’

তবে ফেইসবুক পোস্টে ১৫০ জন যাত্রীর লাগেজ কাটার যে দাবি করা হয়েছে, তার পক্ষে কোনো ‘সুস্পষ্ট অভিযোগ’ নেই দাবি করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রকৃতপক্ষে ওই ফ্লাইটে আসা ৮৩৬টি ব্যাগের মধ্যে মাত্র ৫ থেকে ৬ জন যাত্রী তাদের ব্যাগ ছেঁড়া বা কাটা অবস্থায় পেয়েছেন বলে কর্তব্যরত গ্রাউন্ড স্টাফদের কাছে মৌখিকভাবে জানান।

প্রতিবেদনের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, সৌদি আরবের নিয়ম অনুযায়ী কোনো হাজি বা যাত্রী মূল চেক-ইন লাগেজের ভেতরে কোনো অবস্থাতেই জমজমের পানি এবং যথাযথভাবে সিলগালা না করা তরল প্রসাধন সামগ্রী (শ্যাম্পু, লোশন ইত্যাদি) বহন করতে পারবেন না। জেদ্দার কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাগেজ স্ক্যানিংয়ের সময় এসব তরল পদার্থের উপস্থিতি ধরা পড়লে, সৌদি বিমানবন্দর সিকিউরিটি কর্তৃপক্ষ নিয়ম অনুযায়ী লাগেজ খুলে বা কেটে তা বাজেয়াপ্ত করে থাকে।

বিষয়:

হজ

সম্পর্কিত