রামিসা হত্যাকাণ্ড: দ্রুত রায় বাস্তবায়ন চায় পরিবার

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ০৯ জুন ২০২৬, ০০: ০৪
শিশু রামিসা আক্তার হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা। সংগৃহীত ছবি

রাজধানীর পল্লবীতে স্কুলশিক্ষার্থী রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। রামিসার পরিবার, স্বজন ও প্রতিবেশীদের চাওয়া—রায় যেন দ্রুত কার্যকর হয়।

গতকাল রোববার ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।

রায়ের পর রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বলেন, ‘আমরা প্রত্যাশিত রায় পেয়েছি। এই রায়ে আমাদের আশা ও আকাঙ্ক্ষা মিটবে। রায়ে আমি শতভাগ খুশি হয়েছি। প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া সময়ের মধ্যেই আমরা কাঙ্ক্ষিত রায় পেয়েছি। যত দ্রুত রায় কার্যকর চাই।’

সোমবার পল্লবীতে রামিসার বাসায় গিয়ে দেখা যায়, স্বজনেরা উপস্থিত হয়েছেন তার বাসায়। রায় ঘিরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন তাঁরা।

রামিসার ফুফু মোসাম্মৎ হাসনা হেনা বেগম স্ট্রিমকে বলেন, ‘এর আগে এতো দ্রুত কোনো মামলার রায় হয়নি। তাই আমরা আশাবাদী, দ্রুত সময়ের রায়টা বাস্তবায়নও হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি মনে করি, এই রায় বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশে একটা উদাহারণ তৈরি হবে, চাইলেও কেউ কাউকে ধর্ষণ করতে পারবে না, খুন করতে পারবে না। কারণ এইসব অপরাধ করলে দ্রুত সময়ে বিচার হবে। সর্বোচ্চ শাস্তি হবে।’

তবে রামিসার কয়েকজন স্বজন ও প্রতিবেশীরা রায় বাস্তবায়ন নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। তাঁরা বলছেন, এর আগেও আমরা অনেক মামলায় দেখেছি, মামলার রায় হয় কিন্তু বাস্তবায়ন হয় না। রামিসা হত্যাকাণ্ডের রায়ে এমন হোক, সেটা তাঁরা চান না।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে রামিসার একজন নিকট আত্মীয় স্ট্রিমকে বলেন, রামিসা মারা যাওয়ার পর এখানে প্রধানমন্ত্রী আসেন। সাংবাদিকরা আমাদের পাশে ছিলেন। সারা দেশে আলোচনা শুরু হওয়ায় দ্রুত রায় ঘোষণা করা হয়েছে। তবে এই রায় যদি বাস্তবায়ন না হয়, তাহলে এই ঘটনা দেশে একটা বিচারহীনতার উদাহারণ হয়ে থাকবে।

প্রতিবেশীরা বলছেন, রায় বাস্তবায়ন করা রাষ্ট্রের কাজ। যদি এই রায় বাস্তবায়ন করা না যায়, তাহলে এটা রাষ্ট্রের ব্যর্থতা হয়ে থাকবে।

এদিকে রায় ঘোষণার পর সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে আইনমন্ত্রী মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেছেন, এটা বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম। আইনের প্রতিটি ধাপ পেরিয়ে আমরা ৬ কার্যদিবসে বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পেরেছি। এ রায়ে আমরা আপাতত সন্তুষ্ট। আশা করি উচ্চ আদালতে গেলেও এ রায় কার্যকর থাকবে।

মামলার পরবর্তী প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এসব মামলায় পেপারবুক প্রস্তুত করতে হয়। পেপার বুক সুপ্রিম কোর্টের তত্ত্বাবধানে হয়। এরপর সুপ্রিম কোর্ট সিরিয়ালি মৃত্যুদণ্ডগুলোর মামলা নিষ্পত্তি করেন। রামিসার বিষয়ে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি বলেছেন সব ডেথ রেফারেন্স খুব দ্রুত নিষ্পত্তি করার জন্য আরও বেশি ফোকাসড সিদ্ধান্ত নিবেন।

সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদও বলেছেন, রামিসা হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স যাতে শুনানির জন্য এগিয়ে আনা যায় সে জন্য অ্যাটর্নি জেনারেলের মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্টের দৃষ্টিতে আনার উদ্যোগ নেবে সরকার।

অন্যদিকে অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেছেন, ‘বিচারিক আদালত ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে পাঠানোর পর তারা দ্রুততম সময়ে মামলার শুনানির ব্যবস্থা করার চেষ্টা করবেন। সেক্ষেত্রে পেপার বুক করতে হতে পারে। এ জন্য প্রধান বিচারপতির বিশেষ নির্দেশনার প্রয়োজন হতে পারে। এ প্রক্রিয়া শেষ হলে দ্রুত সময়ে সম্ভব আপিল নিষ্পত্তির উদ্যোগ গ্রহণ করবো। সেটা দ্রুততম সময়ে করবো।’

সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত