-4cddb3-480x270.webp)
হবিগঞ্জ জেলার বিভিন্ন এলাকায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ও হানাহানির ঘটনা বেড়েছে। চলতি বছর জেলায় সংঘর্ষসহ বিভিন্ন ঘটনায় ১৯ জন নিহত হয়েছেন। স্থানীয় ও পুলিশ প্রশাসন তাৎক্ষণিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ নিলেও ঠেকানো যাচ্ছে না সংঘর্ষ।
পুলিশের সূত্রে জানা যায়, জেলার বিভিন্ন এলাকায় চলতি বছরে তুচ্ছ ঘটনা, আধিপত্য বিস্তার ও সামাজিক বিরোধকে কেন্দ্র করে ১০৪টি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসব সংঘর্ষসহ বিভিন্ন ঘটনায় ১৯ জন নিহত ও ৮০৭ জন আহত হন।
সর্বশেষ ২ সেপ্টেম্বর বাহুবলের মিরপুর বাজারে ইনডোরে ফুটবল খেলার সময়সূচি নিয়ে বিরোধের জেরে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে ৩ ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষ হয়। রাতের অন্ধকারে টর্চলাইট ও ট্রাকের হেডলাইট জ্বালিয়ে দেশীয় অস্ত্র ও ইটপাটকেল নিয়ে এ সংঘর্ষে জড়ায় দুই পক্ষ। এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। দোকানপাট বন্ধ করে দেন ব্যবসায়ীরা। সংঘর্ষে অন্তত ৫০ জন আহত হন এবং বেশ কিছু দোকানপাট ভাঙচুর করা হয়।
৩০ আগস্ট বানিয়াচং উপজেলার তোপখানা ও চাঁনপাড়া মহল্লার মাঠে শিশুদের ফুটবল খেলা নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত হয়। পরে এলাকায় মাইকিং করে টর্চলাইট জ্বালিয়ে সংঘর্ষে জড়ান ৬টি মহল্লার মানুষ। ওই সংঘর্ষের ঘটনায় নারী, শিশুসহ অন্তত ৩০ জন আহত হন।
১৯ আগস্ট হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজের হোস্টেলে সিনিয়র-জুনিয়র বিরোধ ও অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ শিক্ষার্থী আহত হন। ওই দিন রাতে শহরের অনন্তপুর আবাসিক এলাকার কলেজ হোস্টেলে এ ঘটনা ঘটে।
১৫ জুন বাহুবলের আদিত্যপুর ও আব্দাফৌজদা গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে কবরস্থানের রাস্তা নিয়ে সংঘর্ষ বাঁধে। দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে ঘটিত সংঘর্ষে ২ জন নিহত ও ৪০ জন আহত হন। ৮ জুন বানিয়াচং উপজেলার ৭ নম্বর বড়ইউড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণকে কেন্দ্র করে বর্তমান ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। উপজেলার কালাইনজুড়া গ্রামে অবস্থিত ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের সামনে তিন ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষে বানিয়াচং থানার ওসিসহ উভয় পক্ষের অন্তত শতাধিক নারী-পুরুষ আহত হন। ৩ জুন হবিগঞ্জ সদর উপজেলার কাশিপুরে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল সমর্থকদের প্রীতি ফুটবল ম্যাচের জেরে দুই পক্ষের লোকজন সংঘর্ষে জড়ান। দফায় দফায় সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় অন্তত ৫০ জন আহত হন।
এছাড়া গত ২১ মে হবিগঞ্জ সদর উপজেলার সুলতানশী ও শরীফপুর গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে শিশুদের ঝগড়াকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ হয়। এতে অর্ধশতাধিক নারী-পুরুষ আহত হন। ৭ এপ্রিল মাধবপুর উপজেলার বুল্লা গ্রামে জমিসংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তিতে ডাকা সালিসি বৈঠকেই দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে মোহাম্মদ আলী (৬৫) নামে এক বৃদ্ধ নিহত হন, আহত হন অন্তত ৩০।
হবিগঞ্জ প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মনসুর উদ্দিন আহমেদ ইকবাল বলেন, ‘হবিগঞ্জ দাঙ্গাপ্রবণ এলাকা হিসেবে পরিণত হয়েছে। এখন হবিগঞ্জেও তুচ্ছ বিষয় নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। স্থানীয় জনপ্রতি ও প্রশাসনকে একযোগ হয়ে কাজ করতে হবে। না হলে ভবিষ্যতে সংঘর্ষ ভয়াবহ রূপ ধারণ করবে।’
হবিগঞ্জ জেলা আইনজীবি সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মঞ্জুর উদ্দিন আহমেদ শাহীন বলেন, এসব ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। প্রথমে দুটি পক্ষ মারামারি করে। পরে তাদের পক্ষ নিয়ে গ্রাম দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। সংঘর্ষ রোধে সচেতনতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।
পুলিশ সুপার তারেক মাহমুদ বলেন, সংঘর্ষে নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাজ করছে। সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করছে। সংঘর্ষে ব্যবহৃত দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হচ্ছে। সাধারণ বিষয় নিয়ে সংঘর্ষে না জড়াতে সবার প্রতি আহ্বান করেছি। যারা সংঘর্ষে জড়ান তাদের চিহ্নিত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে হবিগঞ্জে ৯৫টি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় নিহত হন ১৯ জন। আহত হন ১ হাজার ২০০ নারী-পুরুষ।
.png)




-78ae87-256x144.webp)

