ঢাকায় পৌঁছেছে ফ্লোরিডায় নিহত বৃষ্টির খণ্ডিত মরদেহ

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

ঢাকায় পৌঁছেছে বৃষ্টির খণ্ডিত মরদেহ
ঢাকায় পৌঁছেছে বৃষ্টির খণ্ডিত মরদেহ

আমেরিকা যাওয়ার সময় পরিবারের স্বপ্ন ছিল—নাহিদা আক্তার বৃষ্টি যখন দেশে ফিরবেন, তাঁর নামের আগে যুক্ত হবে ‘ডক্টর’ বা ‘পিএইচডি’ খেতাব। কিন্তু নিয়তির নির্মম পরিহাসে ৯ মাস পর সেই বৃষ্টির নিথর দেহ ফিরল দেশে, তাও আবার খণ্ডিত আকারে।

শনিবার (৯ মে) সকালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ৮ নম্বর গেটসংলগ্ন মৃতদেহ হস্তান্তর এলাকা, অর্থাৎ ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস’-এর সামনে বৃষ্টির বাবা, মা, ভাইসহ নিকট আত্মীয়দের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে বিমানবন্দরের বাতাস।

এমিরেটস এয়ারলাইন্সের ইকে ৫৮২ ফ্লাইটে করে আজ সকাল ৯টা ৯ মিনিটে বৃষ্টির মরদেহ বহনকারী কফিনটি বিমানবন্দরে পৌঁছায়।

বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন রাগীব সামাদ জানান, আনুষ্ঠানিকতা শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র সচিব, ডিজি কনসুলার ও পরিচালক সাইদুর রহমান।

বৃষ্টির নানা আব্দুল আলিম ও আপন মামা আলমগীর হোসেন মোল্লা জানান, বৃষ্টির মরদেহ তাঁর গ্রামের বাড়ি মাদারীপুরের চরগোবিন্দপুর গ্রামে দাদা-দাদির কবরস্থানের পাশে দাফন করা হবে।

বৃষ্টির মামা ও আমেরিকাপ্রবাসী চিকিৎসক মো. মনিরুজ্জামান জানান, মরদেহটি খণ্ডিত এবং এমনভাবে বিকৃত হয়েছে যে ফিঙ্গারপ্রিন্ট নেওয়ার মতো অবস্থাও নেই। তিনি বলেন, ‘মরদেহটি পুরোপুরি ড্যামেজ হয়ে গেছে। ডিএনএ টেস্টের মাধ্যমে তার পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে। তার শরীরের সব অংশ এখনো পাওয়া যায়নি, যেটুকু এসেছে সেটুকুই নিয়ে আমরা মাদারীপুরে দাফন করতে যাচ্ছি।’

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত ১৬ এপ্রিল থেকে বৃষ্টি নিখোঁজ ছিলেন। তাঁর বান্ধবী ১৭ এপ্রিল পরিবারের কাছে প্রথম নিখোঁজ সংবাদটি জানান। মৃত্যুর আগে বান্ধবীকে বৃষ্টি বলেছিলেন, ‘তুই ৫টার সময় আসিস।’ কিন্তু বান্ধবী গিয়ে দেখেন ডেস্কটপে সব ঠিকঠাক থাকলেও সেখানে বৃষ্টি নেই।

বৃষ্টির মামা আলমগীর হোসেন মোল্লা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমরা তো ডক্টর বৃষ্টিকে চেয়েছিলাম, কিন্তু এখন তার মরদেহ গ্রহণ করতে এসেছি। আমরা এই হত্যাকাণ্ডের বিচার ও আসামির ফাঁসি চাই।’

বৃষ্টির বাবা জহির উদ্দিন আকন বিলাপ করতে করতে বলেন, ‘বৃষ্টির ডাক্তার ডিগ্রি নিয়ে ফেরার কথা ছিল। তার নিজের ডিজাইনে গড়া বাড়িটি সে সাজাতে চেয়েছিল। আজ সে মরণোত্তর পিএইচডি ডিগ্রি পেয়েছে ঠিকই, কিন্তু মানুষটি তো আর নেই। সবই শেষ হয়ে গেছে।’

বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত এবং মা মোছা. আইভি আক্তারসহ পুরো পরিবার বর্তমানে রাজধানীর মিরপুরে বসবাস করছেন।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত