স্ট্রিম প্রতিবেদক

অর্থনীতি বা সমাজসেবায় নারীরা এগিয়ে গেলেও রাজনীতির গ্লাস সিলিং বা অদৃশ্য বাধা কিছুতেই ভাঙা যাচ্ছে না বলে মন্তব্য করেছেন নির্বাচন সংস্কার কমিশনের সদস্য এবং আন্তর্জাতিক শাসন ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার বিশেষজ্ঞ মীর নাদিয়া নিভিন। তিনি বলেন, সংরক্ষিত নারী আসনগুলো নেতৃত্বের বিকাশে কার্যকর ভূমিকা রাখছে না। নারীরা সেখানে অনেকটা অলংকারিক হয়ে আছেন। রাজনৈতিক দলগুলোর সদিচ্ছার অভাবে ২০২৬ সালে এসেও ২০০১ সালের সংকট নিয়ে আলোচনা করতে হচ্ছে।
আজ বুধবার (২৮ জানুয়ারি) বিকেলে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের মিলনায়তনে ‘রাজনীতিতে নারী নেতৃত্ব: সংকট ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে তিনি এসব কথা বলেন। ঢাকা স্ট্রিম, নারী রাজনৈতিক অধিকার ফোরাম (এফডাব্লিউপিআর) এবং ডেমোক্রেটিক বাংলাদেশ যৌথভাবে এই বৈঠকের আয়োজন করে।
মীর নাদিয়া নিভিন তাঁর প্রবন্ধে বলেন, ‘রাজনীতিতে নারী নেতৃত্বের সংকট নিয়ে গত তিন-চার দশক ধরে আলোচনা চলছে। বর্তমান নির্বাচনের পরিসংখ্যান বলছে, পরিস্থিতি এখন সত্যিই সংকটজনক। অর্থনীতি বা সামাজিক ক্ষেত্রে অগ্রগতি হলেও রাজনীতিতে নারীদের নেতৃত্বের জায়গায় আনা যাচ্ছে না। এটি এখন শুধু মুখের কথা নয়, পরিসংখ্যানও তাই প্রমাণ করে।’
সংরক্ষিত আসনের অকার্যকারিতা ও ‘অলংকারিক’ নারী
মূল প্রবন্ধে সংরক্ষিত নারী আসনের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। নাদিয়া নিভিন বলেন, ‘সংরক্ষিত আসন নারী নেতৃত্বের বিকাশে কাজ করে না। আমাদের এক মূল্যায়নে দেখেছি, সংরক্ষিত আসনের খুব কম নারীই দ্বিতীয় মেয়াদে সরাসরি নির্বাচনে অংশ নিতে পেরেছেন। যাঁরা দ্বিতীয় মেয়াদে নির্বাচিত হয়েছেন, তাঁরা প্রথমবারও সরাসরিই এসেছিলেন। সংরক্ষিত আসনের নারীদের সত্যিকারের প্রতিনিধিত্ব না থাকায় তাঁরা অনেকটা অলংকারিক হয়ে আছেন।’
জুলাই সনদের ৫ শতাংশ ও সংস্কার প্রস্তাব
জুলাই সনদের ৫ শতাংশ নারী প্রার্থীর প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘৫ শতাংশ কোনো লক্ষ্যমাত্রা হতে পারে না। এটি ন্যূনতম শুরু হওয়া উচিত। প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রে জনসংখ্যার সাথে সামঞ্জস্য রেখে ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ নারী প্রার্থী থাকতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘নারীরা অর্থনীতি ও সমাজসেবায় নেতৃত্ব দিতে পারলে রাজনীতিতে কেন নয়? কারণ রাজনীতি হলো ক্ষমতার শেষ বলয়। রাজনৈতিক দলগুলোকে তৃণমূল থেকে নারী নেতৃত্ব গড়ে তুলতে হবে। প্রয়োজনে আরপিও (গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ) সংস্কার করে নারী প্রার্থীর নির্দিষ্ট হার নিশ্চিত না করলে দলের নিবন্ধন বাতিলের মতো কঠোর অবস্থানে যেতে হবে।’
সাইবার বুলিং ও স্থবিরতা
নারীদের রাজনীতিতে সাইবার বুলিং বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি বলেন, ‘কোনো পুরুষ বিতর্কিত কথা বললে তা রাজনৈতিক থাকে, কিন্তু নারীর ক্ষেত্রে তা ব্যক্তিগত আক্রমণ ও চরিত্রহরণে রূপ নেয়।’ রাজনৈতিক স্থবিরতার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘২০০১ সালে যে সমস্যাগুলো ছিল, ২০২৬ সালেও আমরা একই সমস্যার কথা বলছি। অর্থাৎ আমরা এক জায়গায় আটকে আছি।’
বৈঠকটি সঞ্চালনা করেন নারী রাজনৈতিক অধিকার ফোরামের প্রতিনিধি মাহরুখ মহিউদ্দিন।
আলোচনায় নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের প্রধান ড. বদিউল আলম মজুমদার, একই কমিশনের সদস্য জেসমিন টুলী এবং জাতীয় নির্বাচন তদন্ত কমিশনের সদস্য ব্যারিস্টার তাজরিয়ান আকরাম হুসাইন অংশ নেন। রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নাহিদুল খান সোহেল এবং জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ডা. হাবিবা আক্তার চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও উইমেন উইংয়ের সমন্বয়ক নাসরিন সুলতানা মিলি, সিপিবির তাহমিনা ইয়াসমিন নীলা, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী প্রফেসর রওনক জাহান এবং ডেমোক্রেটিক বাংলাদেশের সাদিক আল আরমান আলোচনায় যুক্ত হন। নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির শিক্ষক শিব্বির আহমেদ এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রতিনিধিরাও এতে উপস্থিত ছিলেন।

অর্থনীতি বা সমাজসেবায় নারীরা এগিয়ে গেলেও রাজনীতির গ্লাস সিলিং বা অদৃশ্য বাধা কিছুতেই ভাঙা যাচ্ছে না বলে মন্তব্য করেছেন নির্বাচন সংস্কার কমিশনের সদস্য এবং আন্তর্জাতিক শাসন ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার বিশেষজ্ঞ মীর নাদিয়া নিভিন। তিনি বলেন, সংরক্ষিত নারী আসনগুলো নেতৃত্বের বিকাশে কার্যকর ভূমিকা রাখছে না। নারীরা সেখানে অনেকটা অলংকারিক হয়ে আছেন। রাজনৈতিক দলগুলোর সদিচ্ছার অভাবে ২০২৬ সালে এসেও ২০০১ সালের সংকট নিয়ে আলোচনা করতে হচ্ছে।
আজ বুধবার (২৮ জানুয়ারি) বিকেলে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের মিলনায়তনে ‘রাজনীতিতে নারী নেতৃত্ব: সংকট ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে তিনি এসব কথা বলেন। ঢাকা স্ট্রিম, নারী রাজনৈতিক অধিকার ফোরাম (এফডাব্লিউপিআর) এবং ডেমোক্রেটিক বাংলাদেশ যৌথভাবে এই বৈঠকের আয়োজন করে।
মীর নাদিয়া নিভিন তাঁর প্রবন্ধে বলেন, ‘রাজনীতিতে নারী নেতৃত্বের সংকট নিয়ে গত তিন-চার দশক ধরে আলোচনা চলছে। বর্তমান নির্বাচনের পরিসংখ্যান বলছে, পরিস্থিতি এখন সত্যিই সংকটজনক। অর্থনীতি বা সামাজিক ক্ষেত্রে অগ্রগতি হলেও রাজনীতিতে নারীদের নেতৃত্বের জায়গায় আনা যাচ্ছে না। এটি এখন শুধু মুখের কথা নয়, পরিসংখ্যানও তাই প্রমাণ করে।’
সংরক্ষিত আসনের অকার্যকারিতা ও ‘অলংকারিক’ নারী
মূল প্রবন্ধে সংরক্ষিত নারী আসনের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। নাদিয়া নিভিন বলেন, ‘সংরক্ষিত আসন নারী নেতৃত্বের বিকাশে কাজ করে না। আমাদের এক মূল্যায়নে দেখেছি, সংরক্ষিত আসনের খুব কম নারীই দ্বিতীয় মেয়াদে সরাসরি নির্বাচনে অংশ নিতে পেরেছেন। যাঁরা দ্বিতীয় মেয়াদে নির্বাচিত হয়েছেন, তাঁরা প্রথমবারও সরাসরিই এসেছিলেন। সংরক্ষিত আসনের নারীদের সত্যিকারের প্রতিনিধিত্ব না থাকায় তাঁরা অনেকটা অলংকারিক হয়ে আছেন।’
জুলাই সনদের ৫ শতাংশ ও সংস্কার প্রস্তাব
জুলাই সনদের ৫ শতাংশ নারী প্রার্থীর প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘৫ শতাংশ কোনো লক্ষ্যমাত্রা হতে পারে না। এটি ন্যূনতম শুরু হওয়া উচিত। প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রে জনসংখ্যার সাথে সামঞ্জস্য রেখে ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ নারী প্রার্থী থাকতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘নারীরা অর্থনীতি ও সমাজসেবায় নেতৃত্ব দিতে পারলে রাজনীতিতে কেন নয়? কারণ রাজনীতি হলো ক্ষমতার শেষ বলয়। রাজনৈতিক দলগুলোকে তৃণমূল থেকে নারী নেতৃত্ব গড়ে তুলতে হবে। প্রয়োজনে আরপিও (গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ) সংস্কার করে নারী প্রার্থীর নির্দিষ্ট হার নিশ্চিত না করলে দলের নিবন্ধন বাতিলের মতো কঠোর অবস্থানে যেতে হবে।’
সাইবার বুলিং ও স্থবিরতা
নারীদের রাজনীতিতে সাইবার বুলিং বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি বলেন, ‘কোনো পুরুষ বিতর্কিত কথা বললে তা রাজনৈতিক থাকে, কিন্তু নারীর ক্ষেত্রে তা ব্যক্তিগত আক্রমণ ও চরিত্রহরণে রূপ নেয়।’ রাজনৈতিক স্থবিরতার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘২০০১ সালে যে সমস্যাগুলো ছিল, ২০২৬ সালেও আমরা একই সমস্যার কথা বলছি। অর্থাৎ আমরা এক জায়গায় আটকে আছি।’
বৈঠকটি সঞ্চালনা করেন নারী রাজনৈতিক অধিকার ফোরামের প্রতিনিধি মাহরুখ মহিউদ্দিন।
আলোচনায় নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের প্রধান ড. বদিউল আলম মজুমদার, একই কমিশনের সদস্য জেসমিন টুলী এবং জাতীয় নির্বাচন তদন্ত কমিশনের সদস্য ব্যারিস্টার তাজরিয়ান আকরাম হুসাইন অংশ নেন। রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নাহিদুল খান সোহেল এবং জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ডা. হাবিবা আক্তার চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও উইমেন উইংয়ের সমন্বয়ক নাসরিন সুলতানা মিলি, সিপিবির তাহমিনা ইয়াসমিন নীলা, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী প্রফেসর রওনক জাহান এবং ডেমোক্রেটিক বাংলাদেশের সাদিক আল আরমান আলোচনায় যুক্ত হন। নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির শিক্ষক শিব্বির আহমেদ এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রতিনিধিরাও এতে উপস্থিত ছিলেন।
.png)

দেশের চারটি মোবাইল ফোন অপারেটরের কাছে সরকারের মোট বকেয়া রাজস্বের পরিমাণ ১৩ হাজার ৩৪৪ কোটি টাকা বলে জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বকেয়া রয়েছে গ্রামীণফোনের কাছে, আর দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত মোবাইল অপারেটর টেলিটক।
৭ মিনিট আগে
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্তির প্রাক্কালে জাতীয় সংসদে প্রশাসনে এখনো বিগত সরকারের প্রভাব অব্যাহত থাকা এবং জুলাই আন্দোলনের কর্মীদের হত্যাকাণ্ডের বিচার না হওয়ার অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কয়েকজন সংসদ সদস্য।
৮ মিনিট আগেচিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত ‘স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইন’ প্রণয়নের দাবি জানানো হয়েছে জাতীয় সংসদে। সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল চালু না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলন নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
১১ মিনিট আগে
সিরাজগঞ্জে চিকিৎসক বাকি মির্জা হত্যা মামলায় দুজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে এক লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
৩০ মিনিট আগে