বুধবার থেকে জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ শুরু, উদ্বোধন চাঁদপুরে

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৩: ৩০
সংবাদ সম্মেলনে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ
সংবাদ সম্মেলনে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ

আগামী ৭ থেকে ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত সরকার ‘জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ’ পালন করবে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। এ বছর জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আগামী ৭ এপ্রিল চাঁদপুর সদরে অনুষ্ঠিত হবে।

‘জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ-২০২৬’ উপলক্ষে সোমবার (৭ এপ্রিল) সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী এ কথা জানান। এ সময় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকুও উপস্থিত ছিলেন।

মন্ত্রী বলেন, ইলিশের টেকসই ও স্থায়িত্বশীল উৎপাদন নিশ্চিত করতে প্রতি বছর জাতীয়ভাবে সমন্বিত কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়ে থাকে। এর ধারাবাহিকতায় মৎস্যজীবী, ইলিশ ব্যবসায়ী, আড়তদার, ভোক্তাসহ সব শ্রেণির জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রতি বছরের মতো এ বছরও ৭ থেকে ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত ‘জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ-২০২৬’ উদযাপন করা হবে।

এ বছরের জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে— ‘জাটকা ধরা থামাই যদি, ইলিশে ভরবে সাগর-নদী’। সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী জানান, দেশের ইলিশসমৃদ্ধ ২০টি জেলায় ‘জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ-২০২৬’ উদযাপন করা হবে। এ লক্ষ্যে তিন দিনব্যাপী কেন্দ্রীয় কর্মসূচি এবং মাঠপর্যায়ে (জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে) উপযোগী কর্মসূচি পালিত হবে। এ বছর জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আগামী ৭ এপ্রিল চাঁদপুর সদরে অনুষ্ঠিত হবে।

ইলিশ রক্ষা ও উন্নয়নে সরকারের কার্যক্রম তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, আগামী ১৫ এপ্রিল থেকে ১১ জুন (৫৮ দিন) পর্যন্ত বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় সব ধরনের মৎস্য আহরণ নিষিদ্ধ থাকবে; জাটকা ও মা ইলিশ সংরক্ষণে জাতীয় পর্যায়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে; প্রজনন মৌসুমে ২২ দিন ইলিশ আহরণ নিষিদ্ধ (বিজ্ঞানভিত্তিক সময় নির্ধারণ); ১ নভেম্বর থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত জাটকা ধরা, পরিবহন ও বিক্রয় সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ; দেশে ৬টি ইলিশ অভয়াশ্রম স্থাপন এবং নির্দিষ্ট সময়ে এসব এলাকায় মাছ ধরা বন্ধ; জেলেদের জন্য ভিজিএফ খাদ্য সহায়তা ও বিকল্প কর্মসংস্থান প্রদান; ৩ হাজার ১৮৮ বর্গকিলোমিটার এলাকায় সামুদ্রিক সংরক্ষিত অঞ্চল ঘোষণা; ‘সাসটেইনেবল কোস্টাল অ্যান্ড মেরিন ফিশারিজ’ প্রকল্প বাস্তবায়ন; মৎস্য সুরক্ষা আইন সংশোধন এবং ‘ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন প্রকল্প’ বাস্তবায়ন ইত্যাদি।

ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান অন্তরায় কারেন্ট জাল ও বেহুন্দি জালসহ অবৈধ জাল দিয়ে নির্বিচারে জাটকা নিধন বলে উল্লেখ করেন মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। তিনি বলেন, জাটকা নিধন রোধে সচেতনতামূলক প্রচার-প্রচারণার পাশাপাশি আইন বাস্তবায়ন জোরদার করা হচ্ছে। অবৈধ ও ক্ষতিকর জাল ধ্বংসে ধারাবাহিকভাবে বিশেষ কম্বিং অপারেশন পরিচালনা করা হচ্ছে। চলতি বছরের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাসে ৩০ দিনব্যাপী ১৮ জেলার ৯৬টি উপজেলায় বিশেষ কম্বিং অপারেশন পরিচালিত হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘মার্চ মাসে ৭৯টি উপজেলায় ১৫ দিনব্যাপী বিশেষ কম্বিং অপারেশন পরিচালিত হয়েছে এবং আগামী জুন পর্যন্ত দেশব্যাপী অভিযান অব্যাহত থাকবে।’

সরকার জাটকা রক্ষায় জেলেদের জন্য ভিজিএফ খাদ্য সহায়তা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘প্রতি বছর ৩ লাখ ৬৭ হাজার জেলে পরিবারকে ৪ মাসে মাসিক ৪০ কেজি হারে মোট ৫৮ হাজার ৭২০ টন ভিজিএফ চাল বিতরণ করা হয়েছে। প্রজনন মৌসুমে ৬ লাখ ১৯ হাজার ৩১২টি জেলে পরিবারকে ২৫ কেজি হারে মোট ১৫ হাজার ৪৮২ টন খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে।’ বিকল্প কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে ‘ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্প’-এর মাধ্যমে বকনা বাছুরসহ বিভিন্ন উপকরণ ও ট্রেডভিত্তিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান মন্ত্রী।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত