দীপু দাশকে তাড়া করে সেই স্মৃতি, বদলাতে চান পেশা
স্ট্রিম সংবাদদাতাচট্টগ্রাম

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে জাহাজ কাটার সময় বিষাক্ত গ্যাসে সহকর্মীদের ঢলে পড়তে দেখেছেন কাটারম্যান সহকারী দীপু দাশ। নিজেও আহত হয়ে চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরেছেন। তবে শরীর ভীষণ দুর্বল, মাথা ঝিম ধরে থাকে সারাক্ষণ। সেই সঙ্গে ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইয়ার্ডের সেই স্মৃতি আজও তাড়া করে তাকে। এখন পেশা বদলাতে চান তিনি।
পরিবার সূত্র জানা গেছে, ২০১৯ সাল থেকে শিপব্রেকিং ইয়ার্ডে কাজ করেও এখনো আর্থিক অনিশ্চয়তায় মধ্য আছে দীপু দাশ। সম্প্রতি ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইয়ার্ডে দুর্ঘটনার পর আহতদের মালিকপক্ষ চিকিৎসার খরচ বহন করে। তবে তাদের দেওয়া মাত্র ৫ হাজার টাকায় সংসারের জন্য চাল-ডাল কিনেই শেষ। এখন সামনে পড়ে আছে অনিশ্চিত মাস। শিপব্রেকিংয়ের ঝুঁকিপূর্ণ কাজ ছেড়ে অন্য পেশায় যেতে সামান্য পুঁজির সঞ্চয়ও নেই তাদের।
দীপু দাশ স্ট্রিমকে বলেন, ‘আমার শরীর এখন দুর্বল। আমি নাপিতের কাজ জানি। যদি ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা সহায়তা পাই, তবে একটা দোকান দিয়ে নাপিতের কাজ শুরু করতে পারব। অন্তত নিজের উপার্জনে পরিবার নিয়ে বেঁচে থাকার একটা উপায় হবে।’
বেঁচে আসা শ্রমিকদের পুনর্বাসনের বিষয়ে জানতে চাইলে ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইয়ার্ডে প্রতিনিধি মো. মহিউদ্দিন স্ট্রিমকে বলেন, ‘আমরা নিহতদের পরিবারকে ১০ লাখ করে ক্ষতিপূরণ দিয়েছি। আহতদের উন্নত চিকিৎসা করিয়েছি। তাদের মাসিক বেতন চলছে। প্রতিদিনের হাজিরাও চলছে।’ এককালীন সহায়তার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এ বিষয় আমাদের কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।’
এর আগে ১৪ আগস্ট সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারীতে স্ক্র্যাপ জাহাজ ‘এমটি রাসি’ কাটার সময় বিষাক্ত গ্যাসে ৯ জন ও পরে আরও একজনের মৃত্যু হয়। বুয়েটের কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক মো. ইয়াসির আরাফাত খানের নেতৃত্বাধীন বিশেষজ্ঞ দল প্রাথমিক তদন্তে সেখানে বিষাক্ত ‘হাইড্রোজেন সালফাইড’ গ্যাসের উপস্থিতির ধারণা করে।
এদিকে, গত রোববার (২৩ আগস্ট) নিহত ১০ শ্রমিকের পরিবারের হাতে ক্ষতিপূরণের চেক তুলে দেওয়ার সময় ওই ঘটনায় ক্ষমা চেয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির এমডি ফেরদৌস ওয়াহিদ। বাংলাদেশ শিপ ব্রেকার্স অ্যান্ড রিসাইকেলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএসবিআরএ) আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘আমাদের যদি কোনো ভুল হয়ে থাকে, তার জন্য আমরা ফেরদৌস স্টিল ফ্যামিলি ক্ষমাপ্রার্থী।’
চেক পাওয়ার বিষয়ে নিহত সানি জলদাসের মা আশকা দাস বলেন, ‘আমি তো ছেলে আর পাইতেছি না। আমি টাকা দিয়ে কি ছেলের ডাক শুনতে পারব? টাকা হয়ত উপকারে আসবে। উপকার দিয়ে কি করব? মেইন যেটা আমার ছেলে সেই তো আর নাই।’
.png)




-78ae87-256x144.webp)

