সাভার-আশুলিয়ায় কারখানা ছুটির পর যাত্রীর চাপ, বৃষ্টি ও ধীরগতিতে ভোগান্তি

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
সাভার (ঢাকা)

প্রকাশ : ২৭ মে ২০২৬, ০১: ২৫
যাত্রীবাহী পরিবহণের অভাবে ঝুঁকি নিয়ে বিকল্প উপায়ে বাড়ি ফিরছেন যাত্রীরা। স্ট্রিম ছবি

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঢাকার সাভার ও আশুলিয়া বিভিন্ন শিল্পকারখানায় মঙ্গলবার (২৬ মে) দুপুরে ছুটির পর থেকে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন পেশাজীবী মানুষেরা। এতে সাভারের গুরুত্বপূর্ণ বাসস্ট্যান্ডগুলোতে ছিল ঘরমুখো যাত্রীর উপচে পড়া ভিড়। তবে সকাল থেকে বৃষ্টি হওয়ায় কিছুটা ভোগান্তিতে পড়েছেন তাঁরা। এছাড়া কোথাও কোথাও মহাসড়কের ওপর বাস দাঁড় করিয়ে রাখায় যানবাহনে ধীর গতি দেখা গেছে।

আশুলিয়া শিল্পাঞ্চল পুলিশ-১ সূত্রে জানা গেছে, সাভার, আশুলিয়া ও ধামরাই এলাকায় তৈরি পোশাক কারখানা (আরএমজি) এবং অন্যান্য (নন-আরএমজি) মিলিয়ে মোট ১ হাজার ৭০৫টি শিল্প প্রতিষ্ঠান রয়েছে। সোমবার বিকেল পর্যন্ত এসব কারখানার প্রায় ৩১ শতাংশ প্রতিষ্ঠানে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরের পর আরও ৪৭ শতাংশ শিল্প কারখানা ছুটি ঘোষণা করা হয়। এরপর থেকেই সড়ককে যাত্রীর চাপ বাড়তে শুরু করে। বুধবার বাকি কারখানাগুলো ছুটি হলে যাত্রী ও গাড়ির কিছুটা চাপ থাকবে।

সরেজমিনে মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত ঢাকা-আরিচা ও নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কের সাভার উপজেলার আওতাধীন এলাকায় কোথাও কোনো বড় ধরনের যানজট দেখা যায়নি। কয়েকটি পয়েন্টে যানবাহনে কিছুটা ধীরগতিতে চলছিল।

এদিকে বিকেলের পর থেকে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের গাবতলি থেকে হেমায়েতপুর, আমিনবাজার, সাভার, নবীনগর অংশে ব্যাপক যানজট তৈরি হয়। গাবতলী থেকে নবীনগর পৌঁছাতে তিন থেকে সাড়ে তিন ঘণ্টা সময় লাগছে। নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কের পল্লী-বিদ্যুৎ, বাইপাইল ত্রি-মোড়, বলিভদ্র, জিরানি, বাড়ৈপাড়া অংশে যানবাহনের বাড়তি চাপ রয়েছে।

নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কের সাভার এলাকায় গাড়ির অপেক্ষায় যাত্রীরা। স্ট্রিম ছবি
নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কের সাভার এলাকায় গাড়ির অপেক্ষায় যাত্রীরা। স্ট্রিম ছবি

যাত্রীবাহী পরিবহন সংকটে মহাসড়কগুলোর বিভিন্ন পয়েন্টে যাত্রীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। অনেককেই বিকল্প পরিবহন হিসেবে ট্রাকে, মালবাহী ট্রাক, পিকআপ ভ্যানে করে যেতে দেখা যায়। নবীনগর ও বাইপাইল বাসস্ট্যান্ডে অপেক্ষমাণ কয়েকজন যাত্রী বলেন, ঈদকে পুঁজি করে পরিবহণগুলো দুই-তিন গুণ ভাড়া দাবি করছে। অনেক ক্ষেত্রে টিকিট কেটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও বাসের দেখা মিলছে না।

সাভার হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহজাহান মিয়া জানান, মহাসড়কে কোথাও কোনো বড় যানজট সৃষ্টি হয়নি, যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ মহাসড়কে তৎপর রয়েছে।

ঢাকা জেলা উত্তর ট্রাফিক পুলিশ সূত্রে জানিয়েছে, মহাসড়কে গত রোববার সকাল ৮টা থেকে নিয়মিত ট্রাফিক পুলিশের পাশাপাশি ঢাকা জেলা পুলিশের আরও ৬৫০ সদস্য মোতায়েন আছে। তাঁরা সকাল ৬টা থেকে দুপুর ২টা, দুপুর ২টা থেকে রাত ১০টা ও রাত ১০টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করছে।

ঢাকা উত্তর ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক (প্রশাসন) রুহুল আমিন সোহেল বলেন, বাইপেল ও নবীনগর মহাসড়কের দুই পাশে অপেক্ষমাণ দূরপাল্লার বাসের কারণে কোনো ভোগান্তির সৃষ্টি না হয়, এ জন্য বিশেষ নজরদারি রাখা হবে। বাসে বাড়তি ভাড়া আদায় রোধে দুজন ম্যাজিস্ট্রেট সার্বক্ষণিক কাজ করছেন। এছাড়া ফিটনেসবিহীন ও উল্টো পথে গাড়ি চালানো বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

সম্পর্কিত