স্ট্রিম প্রতিবেদক

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যা মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই পুলিশ সদস্যসহ চার আসামি খালাস চেয়ে আপিল করেছেন।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দণ্ডিতদের মধ্যে গ্রেপ্তার থাকা চার আসামির পক্ষে ট্রাইব্যুনালে আপিল করেন আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু।
আপিলের বিষয়টি নিশ্চিত করে তিনি জানান, এএসআই আমির হোসেন, কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইমরান চৌধুরী ওরফে আকাশ এবং বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান রাসেলের পক্ষে আপিল করা হয়েছে।
গত ৯ এপ্রিল বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে ৩০ আসামির সবাইকে দোষী সাব্যস্ত করে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়।
এর মধ্যে এএসআই (সশস্ত্র) আমির হোসেন ও কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়কে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। তৎকালীন সহকারী পুলিশ কমিশনার (কোতোয়ালি জোন) আরিফুজ্জামান ওরফে জীবন, তাজহাট থানার তৎকালীন পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) রবিউল ইসলাম ওরফে নয়ন এবং এসআই বিভূতি ভূষণ রায় ওরফে মাধবকে দেওয়া হয় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। পাশাপাশি পৃথক ধারায় তাদের প্রত্যেককে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
এ ছাড়া বাকি ২৫ আসামির মধ্যে পাঁচজনকে ১০ বছরের, আটজনকে পাঁচ বছরের এবং ১১ জনকে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। আরেক আসামির ক্ষেত্রে হাজতবাসের সময়কে দণ্ড হিসেবে গণ্য করা হয়।
অন্যদিকে, এ মামলার রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম বলেন, রাষ্ট্রপক্ষ এ রায়ে সন্তুষ্ট এবং আপাতত আপিল করার কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি।
তিনি বলেন, “না, আমরা আপিল করিনি। আবু সাঈদের মামলার জাজমেন্ট যা আছে, তাতেই আমরা ঠিক আছি। তার মানে আমরা সন্তুষ্ট, তাই আপিলে যাচ্ছি না।”
এর আগে গত ১৫ জুন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলামও রায়ের প্রতি সন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ৮০৯ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রাথমিকভাবে পর্যালোচনা করে তার কাছে মনে হয়েছে ট্রাইব্যুনাল বিচারিক বিবেচনা প্রয়োগ করেই রায় দিয়েছেন।
তবে তিনি তখনও জানিয়েছিলেন, পূর্ণাঙ্গ রায় নিবিড়ভাবে পর্যালোচনার পর প্রয়োজন হলে রাষ্ট্রপক্ষ সাজা বৃদ্ধির আবেদন করে আপিলে যেতে পারে।
মামলায় মোট ২৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। তাদের মধ্যে প্রত্যক্ষদর্শী, বিশেষজ্ঞ, সাংবাদিক, চিকিৎসক ও পুলিশ সদস্য ছিলেন।
৩০ দণ্ডিতের মধ্যে বর্তমানে ছয়জন কারাগারে রয়েছেন। তারা হলেন এএসআই আমির হোসেন, কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়, সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, ছাত্রলীগ নেতা ইমরান চৌধুরী, সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান রাসেল এবং প্রক্টর অফিসের চুক্তিভিত্তিক কর্মচারী আনোয়ার পারভেজ। বাকি ২৪ আসামি পলাতক। তাদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত চারজন আইনজীবী বিচারকাজে অংশ নেন।
২০২৪ সালের ১৬ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় রংপুরে পুলিশের গুলিতে নিহত হন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ। দুই হাত প্রসারিত করে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় তাকে গুলি করার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সারা দেশে আন্দোলন তীব্র হয়ে ওঠে।
পরদিন ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি এবং পরবর্তী অসহযোগ আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটে।
অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর জুলাইয়ের দমন-পীড়নকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে তদন্ত ও বিচারের উদ্যোগ নেয়। তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ২৪ জুন ট্রাইব্যুনালে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। ৩০ জুন অভিযোগ আমলে নেওয়ার পর পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। পরে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন, সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্ক শেষে চলতি বছরের ৯ এপ্রিল ট্রাইব্যুনাল-২ এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যা মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই পুলিশ সদস্যসহ চার আসামি খালাস চেয়ে আপিল করেছেন।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দণ্ডিতদের মধ্যে গ্রেপ্তার থাকা চার আসামির পক্ষে ট্রাইব্যুনালে আপিল করেন আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু।
আপিলের বিষয়টি নিশ্চিত করে তিনি জানান, এএসআই আমির হোসেন, কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইমরান চৌধুরী ওরফে আকাশ এবং বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান রাসেলের পক্ষে আপিল করা হয়েছে।
গত ৯ এপ্রিল বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে ৩০ আসামির সবাইকে দোষী সাব্যস্ত করে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়।
এর মধ্যে এএসআই (সশস্ত্র) আমির হোসেন ও কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়কে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। তৎকালীন সহকারী পুলিশ কমিশনার (কোতোয়ালি জোন) আরিফুজ্জামান ওরফে জীবন, তাজহাট থানার তৎকালীন পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) রবিউল ইসলাম ওরফে নয়ন এবং এসআই বিভূতি ভূষণ রায় ওরফে মাধবকে দেওয়া হয় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। পাশাপাশি পৃথক ধারায় তাদের প্রত্যেককে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
এ ছাড়া বাকি ২৫ আসামির মধ্যে পাঁচজনকে ১০ বছরের, আটজনকে পাঁচ বছরের এবং ১১ জনকে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। আরেক আসামির ক্ষেত্রে হাজতবাসের সময়কে দণ্ড হিসেবে গণ্য করা হয়।
অন্যদিকে, এ মামলার রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম বলেন, রাষ্ট্রপক্ষ এ রায়ে সন্তুষ্ট এবং আপাতত আপিল করার কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি।
তিনি বলেন, “না, আমরা আপিল করিনি। আবু সাঈদের মামলার জাজমেন্ট যা আছে, তাতেই আমরা ঠিক আছি। তার মানে আমরা সন্তুষ্ট, তাই আপিলে যাচ্ছি না।”
এর আগে গত ১৫ জুন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলামও রায়ের প্রতি সন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ৮০৯ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রাথমিকভাবে পর্যালোচনা করে তার কাছে মনে হয়েছে ট্রাইব্যুনাল বিচারিক বিবেচনা প্রয়োগ করেই রায় দিয়েছেন।
তবে তিনি তখনও জানিয়েছিলেন, পূর্ণাঙ্গ রায় নিবিড়ভাবে পর্যালোচনার পর প্রয়োজন হলে রাষ্ট্রপক্ষ সাজা বৃদ্ধির আবেদন করে আপিলে যেতে পারে।
মামলায় মোট ২৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। তাদের মধ্যে প্রত্যক্ষদর্শী, বিশেষজ্ঞ, সাংবাদিক, চিকিৎসক ও পুলিশ সদস্য ছিলেন।
৩০ দণ্ডিতের মধ্যে বর্তমানে ছয়জন কারাগারে রয়েছেন। তারা হলেন এএসআই আমির হোসেন, কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়, সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, ছাত্রলীগ নেতা ইমরান চৌধুরী, সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান রাসেল এবং প্রক্টর অফিসের চুক্তিভিত্তিক কর্মচারী আনোয়ার পারভেজ। বাকি ২৪ আসামি পলাতক। তাদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত চারজন আইনজীবী বিচারকাজে অংশ নেন।
২০২৪ সালের ১৬ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় রংপুরে পুলিশের গুলিতে নিহত হন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ। দুই হাত প্রসারিত করে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় তাকে গুলি করার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সারা দেশে আন্দোলন তীব্র হয়ে ওঠে।
পরদিন ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি এবং পরবর্তী অসহযোগ আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটে।
অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর জুলাইয়ের দমন-পীড়নকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে তদন্ত ও বিচারের উদ্যোগ নেয়। তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ২৪ জুন ট্রাইব্যুনালে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। ৩০ জুন অভিযোগ আমলে নেওয়ার পর পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। পরে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন, সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্ক শেষে চলতি বছরের ৯ এপ্রিল ট্রাইব্যুনাল-২ এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।
.png)

বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতি বছর ৫০০ শিক্ষাবৃত্তি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সৌদি আরব। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিনের সঙ্গে সাক্ষাতে বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আব্দুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়া এই তথ্য জানান।
৬ ঘণ্টা আগে
বন্যা ও টানা বৃষ্টির কারণে আট দিন বন্ধ থাকার পর বৃহস্পতিবার খুলে দেওয়া হয়েছে রাঙামাটির সাজেক ভ্যালিসহ বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্র। তবে খোলার প্রথম দিনে পুরো জেলাতেই দেখা গেছে পর্যটক খরা।
৬ ঘণ্টা আগে
বিডা, বেজা ও পিপিপিএ একীভূত করে দেশের নতুন শীর্ষ বিনিয়োগ উন্নয়ন সংস্থা ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’ গঠনের লক্ষ্যে জাতীয় সংসদে ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ বিল, ২০২৬’ পাস হয়েছে।
৬ ঘণ্টা আগে
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি ও তাৎপর্যকে ধারণ করে বাংলা একাডেমি প্রকাশিত তিনটি বইয়ের পাঠ-পর্যালোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) একাডেমির কবি শামসুর রাহমান সেমিনার কক্ষে এই আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
৭ ঘণ্টা আগে