স্ট্রিম প্রতিবেদক

সিলেট-১ (সিলেট সদর ও সিটি করপোরেশন) আসনে বিএনপির প্রার্থী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদীর বিজয়ী হয়েছেন। বেসরকারিভাবে ঘোষিত ফলাফলে তিনি ১ লাখ ৭৬ হাজার ৯৩৬ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী (দাঁড়িপাল্লা) মাওলানা হাবিবুর রহমান পেয়েছেন ১ লাখ ৩৪ হাজার ৯৮৩ ভোট।
সিলেট-২ (বিশ্বনাথ-ওসমানীনগর) আসনে বিএনপির প্রার্থী মোছা. তাহসিনা রুশদী বিজয়ী হয়েছেন। বেসরকারিভাবে ঘোষিত ফলাফলে তিনি ১ লাখ ১৭ হাজার ৯৫৬ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী খেলাফত মজলিসের প্রার্থী (দেওয়াল ঘড়ি) মুহাম্মদ মুনতাছির আলী পেয়েছেন ৩৮ হাজার ৬৩৫ ভোট।
সিলেট-৩ (দক্ষিণ সুরমা, ফেঞ্চুগঞ্জ ও বালাগঞ্জ) আসনে বিএনপির প্রার্থী মোহাম্মদ আব্দুল মালিক বিজয়ী হয়েছেন। বেসরকারিভাবে ঘোষিত ফলাফলে তিনি ১ লাখ ১৫ হাজার ৪৫০ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী (রিকশা) মুসলেহ উদ্দিন রাজু পেয়েছেন ৭৫ হাজার ৬৭৪ ভোট।
সিলেট-৪ (জৈন্তাপুর, গোয়াইনঘাট ও কোম্পানীগঞ্জ) আসনে বিএনপির প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী বিজয়ী হয়েছেন। বেসরকারিভাবে ঘোষিত ফলাফলে তিনি ১ লাখ ৮৬ হাজার ৮৪৬ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী (দাঁড়িপাল্লা) মো. জয়নাল আবেদীন পেয়েছেন ৭১ হাজার ৩৯১ ভোট।
সিলেট-৫ (কানাইঘাট-জকিগঞ্জ) আসনে খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মোহাম্মদ আবুল হাসান বিজয়ী হয়েছেন। বেসরকারিভাবে ঘোষিত ফলাফলে তিনি ৭৯ হাজার ৩৫৫ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের প্রার্থী (খেজুরগাছ) উবায়দুল্লাহ ফারুক পেয়েছেন ৬৯ হাজার ৭৭৪ ভোট।
সিলেট-৬ (গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজার) আসনে বিএনপির প্রার্থী এমরান আহমদ চৌধুরী বিজয়ী হয়েছেন। বেসরকারিভাবে ঘোষিত ফলাফলে তিনি ১ লাখ ৯ হাজার ৯১৭ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী (দাঁড়িপাল্লা) মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন পেয়েছেন ১ লাখ ১ হাজার ৫৬৯ ভোট।

নির্বাচনের ফলাফল গণনায় অস্বাভাবিক বিলম্ব এবং ফল পরিবর্তনের অভিযোগে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। রাত প্রায় ৪টার দিকে নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।
তিনি অভিযোগ করেন, একটি বিশেষ দলকে সুবিধা দেওয়ার জন্য ফলাফল ঘোষণা কার্যক্রম অস্বাভাবিকভাবে বিলম্ব করা হয়েছে এবং রিটার্নিং কর্মকর্তারা তথ্য পরিবর্তন করেছেন।
জুবায়ের বলেন, ‘জনগণের দেওয়া মতামত ও ভোটাধিকার যদি কোনো চক্রান্তের মাধ্যমে ম্যানিপুলেশন করা হয়, তাহলে আমরা কর্মসূচি ঘোষণা করব। প্রয়োজনে কঠোর আন্দোলনে যাব।’ তবে তিনি জানান, জনগণের যেকোনো মতামতকে তাঁরা শ্রদ্ধা করেন; কিন্তু সেই রায় নিয়ে কোনো টালবাহানা মেনে নেওয়া হবে না।
জাতির অতীত অভিজ্ঞতার প্রসঙ্গ টেনে জামায়াত নেতা বলেন, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচন দেশবাসী দেখেছে। বর্তমান নির্বাচন কমিশন যেন অতীতের মতো বিতর্কিত পরিস্থিতির সৃষ্টি না করে, সেই প্রত্যাশার কথা জানান তিনি।
জুবায়ের আরও বলেন, ‘ফ্যাসিবাদ কায়েমের জন্য বিভিন্ন কলাকৌশল গ্রহণ করা হচ্ছে। যদি জনতার রায় নিয়ে পুরোনো পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হয়, তবে ১১ দলীয় জোট ঐক্যবদ্ধভাবে দুর্বার প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।’
নির্বাচন কমিশনের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের পরই পরবর্তী পদক্ষেপ ঘোষণা করা হবে বলে জানান তিনি।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট গণনায় কারচুপির অভিযোগ তুলেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। ঢাকা-১৩ আসনের ফলাফল চ্যালেঞ্জ করে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ জমা দেন তিনি।
রাত সাড়ে ৩টার দিকে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে উপস্থিত হয়ে এই অভিযোগ করেন তিনি। মামুনুল দাবি করেন, ব্যালট পেপারের বিন্যাসের ত্রুটির কারণে তাঁর হাজার হাজার ভোট অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
মামুনুল হক বলেন, ‘আমার আসনে ৯ জন প্রার্থী ছিলেন। ব্যালটের বাম দিকে ৫ জন এবং ডান দিকে ৪ জন প্রার্থীর নাম ছিল। আমার নাম ছিল বাম দিকের সবার নিচে। পাশের ঘর খালি থাকায় অনেক ভোটার ভুলবশত সেখানে সিল দিয়েছেন। সেই ব্যালটগুলো অন্যায়ভাবে বাতিল করা হচ্ছে।’
মামুনুল হক আরও অভিযোগ করেন, ঢাকা-৮ আসনেও একই ঘটনা ঘটলেও সেখানে বিএনপির প্রার্থী মির্জা আব্বাসের ভোটগুলো বৈধ ধরা হয়েছে। মামুনুল হকের দাবি, এখন পর্যন্ত ৫০টি কেন্দ্রে তাঁর ১ হাজার ২০০ ভোট বাতিল হয়েছে এবং সব কেন্দ্র মিলিয়ে এই সংখ্যা ৩ হাজারে পৌঁছাবে। দ্বিমুখী আচরণের অভিযোগ তুলে তিনি এর প্রতিকার চান।
মামুনুল হক দাবি করেন, তাঁর বাতিল করা ৩ হাজার ভোট বৈধ হিসেবে গণ্য করা হলে তিনি এই আসনে জয়ী হবেন। এর আগে রাত ২টার দিকে তিনি রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে গেলে তাঁকে নির্বাচন কমিশন অফিসে অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
বরিশাল-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। বেসরকারিভাবে ঘোষিত ফলাফলে তিনি ১ লাখ ৫০ হাজার ৫২ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী কামরুল ইসলাম পেয়েছেন ৪৬ হাজার ২৬৩ ভোট।
বরিশাল-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী সরদার সরফুদ্দিন আহমেদ বিজয়ী হয়েছেন। বেসরকারিভাবে ঘোষিত ফলাফলে তিনি ১ লাখ ৪১ হাজার ৬২২ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী আব্দুল মান্নান পেয়েছেন ৭৪ হাজার ৮২ ভোট।
বরিশাল-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী জয়নুল আবেদিন বিজয়ী হয়েছেন। বেসরকারিভাবে ঘোষিত ফলাফলে তিনি ৮০ হাজার ৯৩০ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ঈগল প্রতীকের প্রার্থী আসাদুজ্জামান ভূইয়া পেয়েছেন ৬১ হাজার ১৯২ ভোট।
বরিশাল-৫ আসনে বিএনপির প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ার বিজয়ী হয়েছেন। বেসরকারিভাবে ঘোষিত ফলাফলে তিনি ১ লাখ ৩৫ হাজার ১৪৬ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী সৈয়দ ফয়জুল করীম পেয়েছেন ৯৫ হাজার ৪৪ ভোট।
বরিশাল-৬ আসনে বিএনপির প্রার্থী আবুল হোসেন বিজয়ী হয়েছেন। বেসরকারিভাবে ঘোষিত ফলাফলে তিনি ৮২ হাজার ২১৭ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মাহমুদুন্নবী পেয়েছেন ৫৫ হাজার ৯৮৮ ভোট।
হবিগঞ্জ-১ (বাহুবল-নবীগঞ্জ) আসনে বিএনপির প্রার্থী ড. রেজা কিবরিয়া বিজয়ী হয়েছেন। বেসরকারিভাবে ঘোষিত ফলাফলে তিনি ১ লাখ ১১ হাজার ৯৯৯ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী (রিকসা) সিরাজুল ইসলাম পেয়েছেন ৫৬ হাজার ১৩২ ভোট।
হবিগঞ্জ-২ (বানিয়াচং-আজমিরীগঞ্জ) আসনে বিএনপির প্রার্থী আবু মনসুর সাখাওয়াত হাসান বিজয়ী হয়েছেন। বেসরকারিভাবে ঘোষিত ফলাফলে তিনি ১ লাখ ২৬ হাজার ৫৮৩ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দেয়ালঘড়ি প্রতীকের প্রার্থী আব্দুল বাছিত আজাদ পেয়েছেন ৬৫ হাজার ৭৬২ ভোট।
হবিগঞ্জ-৩ (হবিগঞ্জ সদর, লাখাই ও শায়েস্তাগঞ্জ) আসনে বিএনপির প্রার্থী জিকে গউছ বিজয়ী হয়েছেন। বেসরকারিভাবে ঘোষিত ফলাফলে তিনি ১ লাখ ৪২ হাজার ৩৪৮ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী কাজী মহসিন আহমেদ পেয়েছেন ৪৫ হাজার ৫৬৮ ভোট।
হবিগঞ্জ-৪ (মাধবপুর-চুনারুঘাট) আসনে বিএনপির প্রার্থী সৈয়দ মো. ফয়সল বিজয়ী হয়েছেন। বেসরকারিভাবে ঘোষিত ফলাফলে তিনি ১ লাখ ৮৮ হাজার ৭২ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মোমবাতি প্রতীকের প্রার্থী গিয়াস উদ্দিন পেয়েছেন ৮৪ হাজার ৩২৩ ভোট।
মাদারীপুর-১ আসনে বাংলাদেশের খেলাফত মজলিসের প্রার্থী সাইদ উদ্দিন আহমেদ হানজালা (রিকশা প্রতীক), মাদারীপুর-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী জাহান্দার আলী মিয়া ও মাদারীপুর-৩ আসনে বিএনপি প্রার্থী আনিসুর রহমান তালুকদার বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বেসরকারি ফলে গাজীপুর-১, ২, ৩ ও ৫ আসনে জয় পেয়েছেন বিএনপি প্রার্থীরা। শুধু গাজীপুর-৪ আসনে জয়ী হয়েছেন জামায়াতের প্রার্থী।
গাজীপুর-১ আসনে বিএনপির মজিবুর রহমান, গাজীপুর-২ আসনে এম. মঞ্জুরুল করিম রনি, গাজীপুর-৩ আসনে এস এম রফিকুল ইসলাম ও গাজীপুর-৫ আসনে এ কে এম ফজলুল হক মিলন জয় পেয়েছেন। আর গাজীপুর-৪ জয়ী হয়েছেন জামায়াতের সালাহউদ্দীন আইউবী।
ঢাকা-১ আসনে বিএনপির আবু আশফাক বিজয়ী
ঢাকা-১ (দোহার ও নবাবগঞ্জ) আসনে বিএনপির প্রার্থী আবু আশফাক বিজয়ী হয়েছেন। বেসরকারিভাবে ঘোষিত ফলাফলে তিনি ১ লাখ ৭৩ হাজার ৭৮১ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম পেয়েছেন ১ লাখ ১২ হাজার ৬২২ ভোট।
ঢাকা-২ আসনে বিএনপির আমানউল্লাহ আমান বিজয়ী
ঢাকা-২ (কেরানীগঞ্জ) আসনে বিএনপির প্রার্থী আমানউল্লাহ আমান বিজয়ী হয়েছেন। বেসরকারিভাবে ঘোষিত ফলাফলে তিনি ১ লাখ ৬৩ হাজার ৭৯৩ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী (দাঁড়িপাল্লা) আব্দুল হক পেয়েছেন ৮০ হাজার ৫৩ ভোট।
ঢাকা-৪ আসনে জামায়াতে ইসলামীর সৈয়দ জয়নুল আবেদীন বিজয়ী
ঢাকা-৪ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী সৈয়দ জয়নুল আবেদীন বিজয়ী হয়েছেন। বেসরকারিভাবে ঘোষিত ফলাফলে তিনি ৭৭ হাজার ৩৬৭ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী (ধানের শীষ) তানভীর আহমেদ পেয়েছেন ৭৪ হাজার ৪৪৭ ভোট।
ঢাকা-৬ আসনে বিএনপির ইশরাক হোসেন বিজয়ী
ঢাকা-৬ আসনে বিএনপির প্রার্থী ইশরাক হোসেন বিজয়ী হয়েছেন। বেসরকারিভাবে ঘোষিত ফলাফলে তিনি ৭৮ হাজার ১৪১ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী আব্দুল মান্নান পেয়েছেন ৫৪ হাজার ৪৬৫ ভোট।
ঢাকা-১৩ আসনে বিএনপির ববি হাজ্জাজ বিজয়ী
ঢাকা-১৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী ববি হাজ্জাজ বিজয়ী হয়েছেন। বেসরকারিভাবে ঘোষিত ফলাফলে তিনি ৯০ হাজার ৬০১ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১–দল সমর্থিত প্রার্থী মাওলানা মামুনুল হক পেয়েছেন ৮৬ হাজার ৮৮৯ ভোট।
ঢাকা-১৪ আসনে জামায়াতে ইসলামীর ব্যারিস্টার আহমদ বিন কাশেম আরমান বিজয়ী
ঢাকা-১৪ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ব্যারিস্টার আহমদ বিন কাশেম আরমান বিজয়ী হয়েছেন। বেসরকারিভাবে ঘোষিত ফলাফলে তিনি ৯৬ হাজার ৭৮৪ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী সানজিদা ইসলাম তুলি পেয়েছেন ৮০ হাজার ৯২৭ ভোট।
ঢাকা-১৭ আসনে বিএনপির তারেক রহমান বিজয়ী
ঢাকা-১৭ আসনে বিএনপির প্রার্থী তারেক রহমান বিজয়ী হয়েছেন। বেসরকারিভাবে ঘোষিত ফলাফলে তিনি ৭২ হাজার ৬৯৯ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী (দাঁড়িপাল্লা) এস এম খলিলুজ্জামান পেয়েছেন ৬৮ হাজার ৩০০ ভোট।
ঢাকা-১৮ আসনে বিএনপির এস, এম, জাহাঙ্গীর হোসেন বিজয়ী
ঢাকা-১৮ আসনে বিএনপির প্রার্থী এস, এম, জাহাঙ্গীর হোসেন বিজয়ী হয়েছেন। বেসরকারিভাবে ঘোষিত ফলাফলে তিনি ১ লাখ ৪৪ হাজার ৭৯৫ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির প্রার্থী (শাপলা কলি) আরিফুল ইসলাম পেয়েছেন ১ লাখ ১১ হাজার ২৯৭ ভোট।
ঢাকা-২০ আসনে বিএনপির তমিজ উদ্দিন বিজয়ী
ঢাকা-২০ (ধামরাই) আসনে বিএনপির প্রার্থী তমিজ উদ্দিন বিজয়ী হয়েছেন। বেসরকারিভাবে ঘোষিত ফলাফলে তিনি ১ লাখ ৬০ হাজার ৪২৮ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী (জাতীয় নাগরিক পার্টি) ইঞ্জিনিয়ার নাবিলা তাসনিদ পেয়েছেন ৫৬ হাজার ৩৪৩ ভোট।
ঢাকা-৮ আসনে বিএনপির মির্জা আব্বাস বিজয়ী
ঢাকা-৮ আসনে বিএনপির প্রার্থী মির্জা আব্বাস বিজয়ী হয়েছেন। বেসরকারিভাবে ঘোষিত ফলাফলে তিনি ৫৯ হাজার ৩৬৬ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এনসিপির প্রার্থী মুহাম্মাদ নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী পেয়েছেন ৫৪ হাজার ১২৭ ভোট।
ঢাকা-১৯ আসনে বিএনপির দেওয়ান মো. সালাউদ্দিন বিজয়ী
ঢাকা-১৯ (সাভার) আসনে বিএনপির প্রার্থী ডা. দেওয়ান মো. সালাউদ্দিন বিজয়ী হয়েছেন। বেসরকারিভাবে ঘোষিত ফলাফলে তিনি ১ লাখ ৯০ হাজার ৯৭৬ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী (শাপলা কলি) দিলশানা পারুল পেয়েছেন ১ লাখ ২৫ হাজার ২৮৩ ভোট।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বেসরকারি ফলাফলে বিএনপি এগিয়ে থাকায় দেশবাসীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, জনগণের এই রায় তাঁর দায়িত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচনের পর গভীর রাতে নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে মির্জা ফখরুল এই প্রতিক্রিয়া জানান। দীর্ঘ ১৭ বছরের রাজনৈতিক সংগ্রামের পর এই বিজয়কে তিনি ‘বাংলাদেশের বিজয়’ হিসেবে অভিহিত করেন।
দেশবাসীর উদ্দেশ্যে ফখরুল বলেন, ‘দায়িত্ব অনেক বেড়ে গেল। আমার জন্য দোয়া করবেন যাতে আমি প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে পারি এবং আপনাদের জন্য সঠিকভাবে কাজ করতে পারি।’
ফেসবুক পোস্টে বিএনপি মহাসচিব মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের পাশাপাশি দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান ও চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, ‘আমি স্মরণ করছি ইলিয়াস আলী, সুমন এবং হাজারো নেতা-কর্মীকে, যারা আজ আমাদের মাঝে নেই। স্মরণ করছি জুলাই শহীদদের, যাদের ত্যাগের বিনিময়ে এই নতুন বাংলাদেশ।’
মির্জা ফখরুল দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ও আদিবাসী নির্বিশেষে সকল ধর্ম ও বর্ণের মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি সংকটকালীন সময়ে পাশে থাকার জন্য তাঁর পরিবার এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করায় অন্তর্বর্তী সরকার, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সশস্ত্র বাহিনীকে ধন্যবাদ জানান।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সফল ও শান্তিপূর্ণভাবে হওয়ায় শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) দেশের সকল মসজিদে শোকরানা দোয়া এবং অন্যান্য উপাসনালয়ে প্রার্থনা আয়োজনের অনুরোধ জানিয়েছে সরকার।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শান্তিপূর্ণ, অবাধ ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এরূপ একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় মহান আল্লাহর প্রতি শুকরিয়া আদায় করে সরকার প্রার্থনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে আগামীকাল শুক্রবার বাদ জুমা দেশের প্রতিটি মসজিদে শোকরানা দোয়া এবং মন্দির, গির্জা ও প্যাগোডায় সুবিধামতো সময়ে স্ব-স্ব ধর্মমতে বিশেষ প্রার্থনা আয়োজনের জন্য অনুরোধ করা হলো।
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক এবং হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের সচিবদের এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ইতোমধ্যে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকার আশা করছে, সকল ধর্মের মানুষ এই প্রার্থনায় অংশ নিয়ে দেশের শান্তি ও অগ্রগতির জন্য দোয়া করবেন।

ঝিনাইদহ-৩ আসনে জামায়াতে ইসলামীর মাওলানা মতিয়ার রহমান বিজয়ী
ঝিনাইদহ-৩ (ঝিনাইদহ জেলা) আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাওলানা মতিয়ার রহমান বিজয়ী হয়েছেন। বেসরকারিভাবে ঘোষিত ফলাফলে তিনি ১ লাখ ৭২ হাজার ৪৩২ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী (ধানের শীষ) মেহেদি হাসান রনি পেয়েছেন ১ লাখ ৪৮ হাজার ৮২ ভোট।

ঝিনাইদহ-২ (ঝিনাইদহ জেলা) আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আলী আজম মোঃ আবু বকর বিজয়ী হয়েছেন। বেসরকারিভাবে ঘোষিত ফলাফলে তিনি ১ লাখ ২২ হাজার ৫০৫ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী (ধানের শীষ) মো. আব্দুল মজিদ পেয়েছেন ১ লাখ ১৩ হাজার ২৯৪ ভোট।

বগুড়া-৭ (গাবতলী ও শাজাহানপুর) আসনে বিএনপির প্রার্থী মোর্শেদ মিলটন বিজয়ী হয়েছেন। বেসরকারিভাবে ঘোষিত ফলাফলে তিনি ২ লাখ ৬২ হাজার ৫০১ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী গোলাম রব্বানী পেয়েছেন ১ লাখ ১৫ হাজার ১৮৪ ভোট।

সিলেট-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী বিজয়ী হয়েছেন। বেসরকারিভাবে ঘোষিত ফলাফলে তিনি ১ লাখ ৮১ হাজার ৬০৯ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী জয়নাল আবেদীন পেয়েছেন ৬৫ হাজার ৭৭৬ ভোট।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কিশোরগঞ্জ জেলার ৬টি সংসদীয় আসনের পাঁচটিতেই জয় পেয়েছেন বিএনপির প্রার্থীরা। বাকি আসনটিতে বিএনপির প্রার্থী হারলেও জয় পেয়েছেন স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচন করা দলটিরই ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী।
বেসরকারি হিসাব মতে, কিশোরগঞ্জ-১ (সদর ও হোসেনপুর উপজেলা) আসনে বিএনপির মাজহারুল ইসলাম, কিশোরগঞ্জ-২ (পাকুন্দিয়া-কটিয়াদী) আসনে জালাল উদ্দীন, কিশোরগঞ্জ-৩ (করিমগঞ্জ-তাড়াইল) আসনে ওসমান ফারুক, কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম) আসনে ফজলুর রহমান, কিশোরগঞ্জ-৫ (নিকলী-বাজিতপুর) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী (বিএনপির বিদ্রোহী) শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল ও কিশোরগঞ্জ-৬ (ভৈরব-কুলিয়ারচর) আসনে শরীফুল আলম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।

নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনে বিএনপির প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু বিজয়ী হয়েছেন। বেসরকারিভাবে ঘোষিত ফলাফলে তিনি ১ লাখ ৫৫ হাজার ৪২১ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. আনোয়ার হোসেন মোল্লা পেয়েছেন ৯০ হাজার ২৮৯ ভোট।

ঝিনাইদহ-৪ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাওলানা আবু তালিব বিজয়ী হয়েছেন। বেসরকারিভাবে ঘোষিত ফলাফলে তিনি ১ লাখ ৪ হাজার ৩১ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী (কাপপিরিচ) সাইফুল ইসলাম ফিরোজ পেয়েছেন ৭৫ হাজার ৭৫০ ভোট।

ময়মনসিংহ-৮ (ঈশ্বরগঞ্জ) আসনে বিএনপির প্রার্থী লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বিজয়ী হয়েছেন। বেসরকারিভাবে ঘোষিত ফলাফলে তিনি ১ লাখ ৭ হাজার ৫৭৭ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাতা প্রতীকের মো. আওরঙ্গজেব বেলাল পেয়েছেন ৪৫ হাজার ৭৯১ ভোট।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বড় জয় পেতে চলেছে বিএনপি। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাত ২টা পর্যন্ত পাওয়া বেসরকারি ফলাফলে বিএনপি এককভাবে ৬২ আসনে জয় পেয়েছে। তাদের নেতৃত্বাধীন জোটের শরিক দলগুলোর মধ্যে গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকি ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনে বিজয়ী হয়েছেন।
জামায়াতে ইসলামী এককভাবে এ পর্যন্ত ৩১টি আসনে বিজয়ী হয়েছেন। তাদের ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের শরিক দলগুলোর মধ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ৩টি আসনে জয় পেয়েছে। স্বতন্ত্রসহ অন্যান্য দলের ৪জন বিজয়ী হয়েছেন।
যশোরে ছয়টি সংসদীয় আসনের পাঁচটিতেই জয় পেয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা। শুধু সদর আসনে জয়ী হয়েছেন বিএনপি প্রার্থী।
দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে যশোর-১ (শার্শা উপজেলা) আসনে জয় পেয়েছেন মাওলানা আজিজুর রহমান, যশোর-২ (চৌগাছা এবং ঝিকরগাছা উপজেলা) আসনে ডা. মোসলেহ উদ্দিন, যশোর-৪ (বাঘারপাড়া, অভয়নগর এবং যশোর সদর উপজেলার বসুন্দিয়া ইউনিয়ন) আসনে গোলাম রছুল জয়ী, যশোর-৫ (মনিরামপুর উপজেলা) আসনে গাজী এনামুল হক, যশোর-৬ (কেশবপুর উপজেলা) আসনে মুক্তার আলী।
অন্যদিকে, যশোর-৩ (বসুন্দিয়া ইউনিয়ন ব্যতীত যশোর সদর উপজেলা) আসনে ধানের শীষের প্রার্থী অনিন্দ্য ইসলাম জয়ী হয়েছেন।

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে সাতক্ষীরার চারটি আসনেই জয় পেয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা। তারা হলেন সাতক্ষীরা-১ (তালা কলারোয়া) আসনে অধ্যক্ষ ইজ্জত উল্লাহ, সাতক্ষীরা-২ (সদর ও দেবহাটা) আসনে মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক, সাতক্ষীরা-৩ (আশাশুনি-কালিগঞ্জ) আসনে মুহাদ্দিস রবিউল বাশার ও সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর আসনে) আসনে গাজী নজরুল ইসলাম।

কিশোরগঞ্জ-৬ (ভৈরব-কুলিয়ারচর) আসনে বিএনপির প্রার্থী মো. শরীফুল আলম বিজয়ী হয়েছেন। বেসরকারিভাবে ঘোষিত ফলাফলে তিনি ১ লাখ ৮৫ হাজার ৮১৩ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দী ১১ নির্বাচনী জোটের বাংলাদেশ খেলাফতে মজলিসের প্রার্থী (রিকসা) মাওলানা আতাউল্লাহ আমীন পেয়েছেন ৪২ হাজার ৫৫৫ ভোট।

রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনে বিএনপির প্রার্থী শফিকুল হক মিলন জয়ী হয়েছেন। বেসরকারিভাবে ঘোষিত ফলাফলে তিনি ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ৭৬ হাজার ৪৬৮ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ৩৬ হাজার ৫৬৫ ভোট। দুজনের ভোটের ব্যবধান ৩৯ হাজার ৯০৩। এ আসনের পোস্টাল ব্যালটের ভোটের ফলাফল এখনও পাওয়া যায়নি।

সিলেট-৩ আসনে যুক্তরাজ্য বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. আবদুল মালিক বিজয়ী হয়েছেন। মো. আবদুল মালিক ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ১৫ হাজার ৩৪৫ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মুসলেহ উদ্দিন রাজু রিকশা প্রতীকে ৭২ হাজার ৪০৯টি ভোট পেয়েছেন। দুই প্রার্থীর ভোটের ব্যবধান ৪২ হাজার ৯৩৬টি।

নির্বাচন কমিশন লুকোচুরিতে বিশ্বাস করে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। তিনি বলেন, নির্বাচনকে পারফেক্ট বলব না। পারফেক্ট কোথাও হয় না। আমি অনেক জায়গার নির্বাচন দেখেছি। তবে অতীতের তুলনায় যে কোনো মানদণ্ডে এই নির্বাচন ভালো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাতে রাজধানীর আগারগাঁও নির্বাচন ভবনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার মঞ্চে এসব কথা বলেন সিইসি। তিনি বলেন, নির্বাচনে কিছু সীমাবদ্ধতা থাকবেই। ১২ কোটি ভোটারের দেশ। তাদের সহযোগিতা ছাড়া সুন্দর নির্বাচন উপহার দিতে পারতাম না। আমরা সবার কাছে কৃতজ্ঞ।
নাসির উদ্দিন বলেন, অনেক দেশে সাড়ে ১৭ লাখ লোকও নেই। অথচ এই পরিমাণ লোক নির্বাচন আয়োজনে কাজ করেছে। যেহেতু এখানে গণভোট ও পোস্টাল ব্যালট রয়েছে, সেজন্য গুনতে একটু সময় লাগছে। আমরা অত্যন্ত স্বচ্ছ থাকতে চাই। লুকোচুরিতে বিশ্বাস করি না। আমাদের চেষ্টা সার্থক হয়েছে। আমরা নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে পেরেছি।

যশোর-৩ (সদর) আসনে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। বৃহস্পতিবার রাতে ১৯০ কেন্দ্রের বেসরকারি ফলাফলে তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৭৩ হাজার ২৩ ভোট। অমিত বিএনপির খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও প্রয়াত বর্ষীয়ান নেতা তরিকুল ইসলামের ছেলে।
এই আসনে ধানের শীষের প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর আব্দুল কাদের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ৬৫ হাজার ১২৯ ভোট।

নেত্রকোনা-৫ আসনে বিজয়ী হয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর মাছুম মোস্তফা। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাতে বেসরকারি ফলাফলে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৮১ হাজার ২৫২ ভোট। মোট ৮২ কেন্দ্রের ফলাফলে মাছুম মোস্তফার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী আবু তাহের তালুকদার পেয়েছেন ৭৮ হাজার ৬৮৫ ভোট। তাদের ব্যবধান ২ হাজার ৫৬৭।

কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহ। আসনের মোট ১১৬ কেন্দ্রের ফলাফলে শাপলা কলি প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৭২ হাজার ভোট।
হাসনাত আবদুল্লাহর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি সমর্থিত ট্রাক প্রতীকের জসীমউদ্দীন পেয়েছেন ২৬ হাজার ভোট। অবশ্য ভোট চলাকালীন জসীম নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন।

ঝিনাইদহ-১ (শৈলকুপা) আসনের বেসরকারি ফলাফলে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির মো. আসাদুজ্জামান। ধানের শীষের এই প্রার্থী মোট ১১৭ কেন্দ্রে পেয়েছেন ১ লাখ ৭১ হাজার ৫৯৮ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর আবু ছালেহ মো. মতিউর রহমান পেয়েছেন ৫৫ হাজার ৫৭৭ ভোট। তাদের ভোটের ব্যবধান ১ লাখ ১৬ হাজার ২১।
এর আগে বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) এই আসনে শান্তিপূর্ণ ভোট হয়। বিএনপি-জামায়াতের প্রার্থী ছাড়াও নির্বাচনে অংশ নেন জাতীয় পার্টির মনিকা আলম, আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) মতিয়ার রহমান ও বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (মার্কসবাদী) সহিদুল এনাম পল্লব মিয়া।