শিপইয়ার্ড দুর্ঘটন

‘হামার কষ্ট দূর করতে ব্যাটাটা চাকরির গেছিল, কপালে সইল না’

শিপইয়ার্ড দুর্ঘটন

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
গাইবান্ধা

সীতাকুণ্ড দুর্ঘটনায় নিহত দুজনের মরদেহ গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হলে শোকাবহ পরিবেশ তৈরি হয়। স্ট্রিম ছবি

সংসারের অভাব দূর করতে সীতাকুণ্ডের ফেরদৌস স্টিল শিপব্রেকিং ইয়ার্ডে চাকরি নিয়েছিলেন গাইবান্ধার রানা মিয়া (২৩) ও খোকন মিয়া (২৬)। কিন্তু শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকালে জাহাজ কাটার সময় লিকেজ থেকে ছড়ানো বিষাক্ত গ্যাসে প্রাণ হারান তারা। তাদের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে শেষ হয়ে গেছে দুটি পরিবারের সচ্ছলতায় ফেরার আশা।

শনিবার (১৫ আগস্ট) সকাল ১০টায় অ্যাম্বুলেন্সে করে রানার মরদেহ গাইবান্ধা সদর উপজেলার পশ্চিম কুপতলা গ্রামে আনা হয়। দুপুরে তাঁর বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, স্বজনের আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে আছে। গ্রামবাসী রানার বাবা-মাকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করলেও তাদের থামানো যাচ্ছিল না।

রানার মা আহাজারি করছিলেন, ‘হামার কষ্ট দূর করার জন্য ব্যাটাটা চাকরির গেছিল। ওকে নিয়ে ম্যালা আশা ছিল। টাকা আয় করবে। ঘর-বাড়ি করবে। সংসারে আর অভাব থাকবে না। কিন্তু কপালে সইলো না। সব আশা শেষ হয়ে গেল।’

স্বজনেরা জানান, রানা ২০২৩ সালে এইচএসসি পাস করেন। এরপর ভাগ্য ফেরানোর আশায় সীতাকুণ্ডের জাহাজভাঙা কারখানাটিতে শ্রমিক হিসেবে যোগ দেন। তার বড় ভাই মোনারুল ইসলাম চট্টগ্রামে অন্য একটি কোম্পানিতে চাকরি করেন। রানা সম্প্রতি গাইবান্ধা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অফিস সহায়ক পদে চাকরির আবেদন করেছিলেন। ২১ আগস্ট লিখিত পরীক্ষা দিতে আজ শনিবার তাঁর বাড়ি ফেরার কথা ছিল তার। ফিরলেন ঠিকই, কিন্তু প্রাণহীন দেহ নিয়ে।

রানার বাবা বলেন, আমি দিনমজুরের কাজ করি। যে টাকা আয় হয়, তাতে সংসার চলে না। ছেলেটা মাসে টাকা দিত, কোনোমতে সংসার চলতো। না খেয়ে থাকতে হতো না। এখন কে আমাকে টাকা দেবে?

সীতাকুণ্ডের ওই দুর্ঘটনায় মৃত খোকন মিয়ার বাড়ি গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কিশামত হলদিয়া গ্রামে। বেলা ১১টায় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।

তাঁর স্বজনেরা জানান, আর্থিক স্বচ্ছলতার জন্য ছয় মাস আগে জাহাজভাঙা কারখানায় চাকরি নেন খোকন। তাঁর বাবা বর্গাচাষি। বড় ভাই উজ্জ্বল মিয়াও কৃষিকাজ করেন। খোকনের স্ত্রী দুই বছরের সন্তানকে নিয়ে ঢাকায় একটি বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করেন। রানার মতো খোকন মিয়ার পরিবারও তাঁকে ঘিরে দিন বদলের স্বপ্ন দেখছিল।

এর আগে শুক্রবার সকালে সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারীর জাহাজভাঙা কারখানাটিতে স্ক্র্যাপ জাহাজের সিলিন্ডার থেকে ছড়িয়ে পড়া বিষাক্ত গ্যাসে ৯ জন প্রাণ হারান। বিস্ফোরক অধিদপ্তর শনিবার সেখানে পরিদর্শন চালিয়ে মাত্রাতিরিক্ত হাইড্রোজেন সালফাইডের উপস্থিতি শনাক্ত করেছে।

রানা ও খোকন ছাড়া নিহতরা হলেন— সানি জলদাস (২৩), পলাশ জলদাস (৩৫), হাবিবুর রহমান (৫১), মোহাম্মদ মনসুর (৫৫), নাসির উদ্দিন (৫১), আবদুল আলীম (৩৬) ও মতিউর রহমান (১৯)।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত

‘হামার কষ্ট দূর করতে ব্যাটাটা চাকরির গেছিল, কপালে সইল না’