যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় এবার ইসরায়েল-লেবাননের প্রাথমিক সমঝোতা সই

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ২৭ জুন ২০২৬, ০৯: ৩৫
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর উপস্থিতিতে ওয়াশিংটনে ইসরায়েল-লেবানন কাঠামোগত সমঝোতা চুক্তিতে সই করছেন যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ইসরায়েল ও লেবাননের রাষ্ট্রদূত এবং স্টেট ডিপার্টমেন্টের কাউন্সিলর ড্যানিয়েল হলার। ছবি : রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় কয়েক দিনের আলোচনার পর একটি প্রাথমিক সমঝোতায় পৌঁছেছে ইসরায়েল ও লেবানন। শুক্রবার ওয়াশিংটনে এ-সংক্রান্ত ত্রিপক্ষীয় নথিতে সই করেছে বিবাদমান দুই দেশ ও যুক্তরাষ্ট্র। তবে উভয় পক্ষই বলেছে, এটি চূড়ান্ত শান্তিচুক্তি নয়; বরং দীর্ঘ আলোচনার প্রথম ধাপ। খবর রয়টার্স।

এর আগে সংঘাত থামাতে একই ধরনের সমঝোতা স্মারকে সই করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। সেখানে প্রথম দফাই ছিল ইরানের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের সব ফ্রন্টে যুদ্ধ থামানো। তবে লেবাননে ইসরায়েলের ক্রমাগত হামলায় ওই সমঝোতা হুমকির মধ্যে পড়ে। পরে যুক্তরাষ্ট্রের চাপে হামলা বন্ধের কথা জানায় ইসরায়েল।

নতুন সমঝোতা চুক্তিতে সই করেছেন লেবাননের রাষ্ট্রদূত নাদা মাওয়াদ ও ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ইয়েখিয়েল লাইটার। অবশ্য নথির বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি। তবে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, এটি ‘কঠিন হলেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ’ একটি সূচনা। তাঁর ভাষায়, এই সমঝোতা বাস্তবায়নে যুক্তরাষ্ট্র লেবাননের জন্য একটি ত্রিপক্ষীয় সামরিক সমন্বয় গ্রুপ গঠন করবে।

রুবিও আরও জানান, জাতিসংঘের সমন্বয়ে লেবাননের জন্য তাৎক্ষণিক ১০ কোটি ডলারের মানবিক সহায়তা দেওয়া হবে। পাশাপাশি দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতা বাড়াতে বিদ্যমান কর্মসূচির আওতায় ৩ কোটি ডলারের বেশি সহায়তা দেবে ওয়াশিংটন। এর উদ্দেশ্য, পুরো লেবাননে সরকারের সার্বভৌম নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় সেনাবাহিনীকে আরও কার্যকর করা।

চুক্তির পর ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেন, হিজবুল্লাহ নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত দক্ষিণ লেবাননের দখল করা এলাকা থেকে ইসরায়েলি সেনা পুরোপুরি সরে যাবে না। তবে শুরুতে দুটি ‘পাইলট জোন’ থেকে সেনা প্রত্যাহার করা হবে, যাতে ধাপে ধাপে লেবাননের সেনাবাহিনী ওই এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে। তাঁর দাবি, উত্তর ইসরায়েলকে সুরক্ষিত রাখতে দক্ষিণ লেবাননে নিরাপত্তা বলয় বজায় রাখা প্রয়োজন।

অন্যদিকে, লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন বলেছেন, এই সমঝোতা বাস্তবায়িত হলে বাস্তুচ্যুত মানুষ নিজেদের এলাকায় ফিরে গিয়ে ধ্বংস হওয়া ঘরবাড়ি পুনর্নির্মাণের সুযোগ পাবেন। লেবাননের সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না বলেও জানান তিনি।

তবে সমঝোতায় কঠোর আপত্তি জানিয়েছে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। সংগঠনটির আইনপ্রণেতা হাসান ফাদলাল্লাহ বলেন, লেবাননের সরকার যদি হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার চেষ্টা করে, তবে তা গৃহযুদ্ধের ঝুঁকি তৈরি করবে। তিনি জানান, সংগঠনটি অস্ত্র সমর্পণ করবে না এবং এ ধরনের যেকোনো পদক্ষেপের বিরোধিতা করবে।

গত ২ মার্চ হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে লেবাননে বিমান ও স্থল অভিযান শুরু করে ইসরায়েল। এই অভিযানে লেবাননে এখন পর্যন্ত চার হাজারের বেশি মানুষ নিহত এবং ১০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

যুদ্ধবিরতির আলোচনার মধ্যেই দক্ষিণ লেবাননে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল। শুক্রবার ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) দাবি করেছে, হিজবুল্লাহর সাত সদস্যকে হত্যা করেছে তারা। একই দিনে দক্ষিণ লেবাননের মানসুরি শহরে বাসিন্দাদের এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দিয়ে লিফলেট ফেলেছে ইসরায়েলি বাহিনী। ইসরায়েলের দাবি, ওই এলাকা তাদের ঘোষিত নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে রয়েছে।

Ad 300x250

সম্পর্কিত