স্বাধীনতা ঘোষণার বিষয়ে তাইওয়ানকে সতর্ক করলেন ট্রাম্প

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ১৬ মে ২০২৬, ১১: ৫৩
গ্রেট হল অব দ্য পিপল-এ করমর্দন করছেন সি চিন পিং এবং ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

চীনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আলোচনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে স্বাধীনতা ঘোষণা করার বিষয়ে তাইওয়ানকে সতর্কবার্তা দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার ফক্স নিউজকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমি চাই না কেউ স্বাধীনতা ঘোষণা করুক।’

তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে অবশ্য এর আগেই বলেছিলেন, তাইওয়ানের আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতা ঘোষণার কোনো প্রয়োজন নেই। কারণ, তারা ইতিমধ্যে নিজেদের একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবেই বিবেচনা করে।

স্বায়ত্তশাসিত দ্বীপরাষ্ট্র তাইওয়ানকে চীন নিজেদের ভূখণ্ড বলে দাবি করে। তাইওয়ানের প্রেসিডেন্টকে একজন ‘উসকানিদাতা’ এবং ‘তাইওয়ান প্রণালির শান্তি বিনষ্টকারী’ হিসেবে অভিহিত করে চীন। অবশ্য তাইওয়ানের অধিকাংশ বাসিন্দা নিজেদের আলাদা দেশের অংশ মনে করলেও, তাদের বড় অংশই বর্তমান পরিস্থিতি (স্ট্যাটাস কু) বজায় রাখার পক্ষে; যেখানে তাইওয়ান চীন থেকে স্বাধীনতাও ঘোষণা করবে না, আবার চীনের সঙ্গে একীভূতও হবে না।

আর এই টানাপোড়েনে দীর্ঘদিন ধরেই তাইওয়ানকে সমর্থন এবং প্রয়োজনীয় অস্ত্র সরবরাহ করে আসছে যুক্তরাষ্ট্র। আর এই কারণে চীনের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের ভারসাম্য ধরে রাখতেও হিমশিম খেতে হয় তাদের।

ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানান, এ বিষয়ে মার্কিন নীতিতে কোনো পরিবর্তন আসেনি।

তিনি বলেন, ‘আপনারা তো জানেনই, একটা যুদ্ধ করার জন্য আমাদের সাড়ে ৯ হাজার মাইল পথ পাড়ি দিতে হবে। আমি তেমন কিছু চাচ্ছি না। আমি চাই তারা শান্ত হোক। আমি চাই চীন শান্ত থাকুক।’

ওয়াশিংটনে ফেরার ফ্লাইটে মার্কিন প্রেসিডেন্ট সাংবাদিকদের জানান, তিনি এবং সি চিন পিং এই দ্বীপরাষ্ট্রটি নিয়ে ‘প্রচুর’ কথা বলেছেন। তবে যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানকে রক্ষা করবে কি না, সে বিষয়ে আলোচনা করতে তিনি অস্বীকৃতি জানান।

ট্রাম্প বলেন, এই দ্বীপটিকে নিয়ে সি ‘খুবই সংবেদনশীল’ এবং তিনি ‘স্বাধীনতার কোনো আন্দোলন দেখতে চান না’।

চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, আলোচনার সময় সি চিন পিং সতর্ক করে বলেছিলেন, চীন-মার্কিন সম্পর্কের ক্ষেত্রে তাইওয়ান ইস্যুটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এই ইস্যুতে বিদ্যমান বিরোধ ঠিকমতো সামলানো না গেলে চীন ও যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে পারে।

তাইওয়ান নিয়ে চীনের সঙ্গে কোনো সংঘাতের আশঙ্কা করছেন কি না—এমন প্রশ্নে ট্রাম্প বলেন, ‘না, আমি তেমনটা মনে করি না। আমার মনে হয় আমরা ঠিকঠাক থাকব। (সি) কোনো যুদ্ধ চান না।’

গত বছরের শেষের দিকে ট্রাম্প প্রশাসন তাইওয়ানের কাছে ১১ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রির একটি প্যাকেজ ঘোষণা করেন, যার মধ্যে উন্নত রকেট লঞ্চার এবং বিভিন্ন ধরনের মিসাইল অন্তর্ভুক্ত ছিল। বেইজিং এই পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়েছিল। ট্রাম্প জানান, এই অস্ত্র বিক্রি চুক্তিটি কার্যকর হবে কি না, তা তিনি দ্রুতই সিদ্ধান্ত নেবেন। তিনি আরও যোগ করেন, তিনি এবং শি এ বিষয়ে ‘বিস্তারিত’ আলোচনা করেছেন।

তিনি আরও বলেন, ‘আমি কেবল এটুকুই বলব যে বর্তমানে যিনি তাইওয়ান চালাচ্ছেন, আপনারা তো জানেনই তিনি কে, তার সঙ্গে আমাকে কথা বলতে হবে।’

তাইওয়ানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক নেই। তবে তারা যথেষ্ট শক্তিশালী অনানুষ্ঠানিক সম্পর্ক বজায় রাখে। মার্কিন প্রেসিডেন্টরা সাধারণত তাইওয়ানের নেতার সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন না। কারণ, এতে চীনের সঙ্গে মারাত্মক উত্তেজনা তৈরি হতে পারে।

শনিবার তাইওয়ানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী চেন মিং-চি বলেন, ট্রাম্পের এই বক্তব্যের সুনির্দিষ্ট অর্থ কী, তা তাইওয়ানকে খতিয়ে দেখতে হবে।

চেন আরও বলেন, তাইওয়ানের কাছে মার্কিন অস্ত্র বিক্রি যুক্তরাষ্ট্রের আইনে অনুমোদিত একটি বিষয়। তিনি যোগ করেন, ‘তাইওয়ান-যুক্তরাষ্ট্র অস্ত্র বিক্রির বিষয়টি সব সময়ই আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে।’

সম্পর্কিত