leadT1ad

ব্রহ্মপুত্রে চীনের বাঁধ, পাল্টা প্রকল্প ভারতের

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ১৯ জুন ২০২৬, ২২: ০৩
চীনের হুবেই প্রদেশের ইচাংয়ে ইয়াংজি নদীর ওপর নির্মিত থ্রি গর্জেস বাঁধ। ছবি: রয়টার্স

তিব্বতের ইয়ারলুং সাংপো নদের ভাটি অঞ্চলে বিশ্বের বৃহত্তম জলবিদ্যুৎ বাঁধের নির্মাণ কাজ শুরু করেছে চীন। এই ইয়ারলুং সাংপো নদই ভারতে সিয়াং এবং বাংলাদেশে ব্রহ্মপুত্র হয়ে প্রবাহিত হয়।

অরুণাচল সীমান্ত থেকে মাত্র ৫০ কিলোমিটার দূরে ৬০ হাজার মেগাওয়াট ক্ষমতার এই ‘মেডোগ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের’ বিপরীতে ভারত ‘সিয়াং আপার মাল্টিপারপাস প্রজেক্টের’ পরিকল্পনা করেছে।

ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত এনএইচপিসির অধীনে বাস্তবায়নের অপেক্ষায় থাকা ১১ হাজার মেগাওয়াট ক্ষমতার এই মেগা বাঁধ হবে ভারতের বৃহত্তম জলবিদ্যুৎ প্রকল্প। আনুমানিক ১৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বা প্রায় ১ দশমিক ৫ লাখ কোটি টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্প থেকে বছরে প্রায় ৪৭ বিলিয়ন ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপন্নের আশা করা হচ্ছে।

তবে এই দুই প্রকল্পের বর্তমান অগ্রগতির মধ্যে বড় ধরনের ব্যবধান লক্ষ্য করা যাচ্ছে। চীনের ৬০ হাজার মেগাওয়াট ক্ষমতার মেডোগ প্রকল্পের কাজ পূর্ণ গতিতে চললেও ভারতের ১১ হাজার মেগাওয়াটের ‘সাম্প’ প্রকল্প এখনো প্রাথমিক পর্যায়েই আটকে রয়েছে।

ইয়ারলুং সাংপো নদটি অরুণাচল প্রদেশে সিয়াং নদী হিসেবে প্রবেশ করে আসাম ও বাংলাদেশের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে, যা এই অঞ্চলের কোটি কোটি মানুষের জীবনরেখা।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, চীনের এই বিশাল বাঁধের ফলে উজান থেকে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে। এর ফলে স্থানীয় বাস্তুতন্ত্র ধ্বংস হওয়া, কৃষিকাজ ব্যাহত হওয়া এবং ভাটি অঞ্চলে অনাকাঙ্ক্ষিত ও আকস্মিক বন্যা দেখা দেওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার বলছে, তারা ব্রহ্মপুত্র নদ অববাহিকার সব ধরনের কর্মকাণ্ড এবং চীনের জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের ওপর সতর্ক নজর রাখছে। বেইজিংয়ের এই একতরফা নদী প্রকল্পের বিপরীতে ভাটি অঞ্চলের মানুষের জীবন ও জীবিকা রক্ষায় প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ও সংশোধনমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার অঙ্গীকার করেছে নয়াদিল্লি।

নদী প্রকল্পের বিষয়ে স্বচ্ছতা বজায় রাখা, পানি সংক্রান্ত তথ্য বিনিময় এবং পারস্পরিক আলোচনার জন্য ভারতের পক্ষ থেকে বারবার চীনকে চাপ দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত তার ফল পাওয়া যায়নি।

তথ্যসূত্র: এনডিটিভি

Ad 300x250

সম্পর্কিত