leadT1ad

চুয়াডাঙ্গায় মাটি খুঁড়তে গিয়ে পাওয়া ধাতব মূর্তি নিয়ে চাঞ্চল্য, পরীক্ষায় যা জানা গেল

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
চুয়াডাঙ্গা

উদ্ধার হওয়া ধাতব মূর্তি

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় বসতবাড়ি নির্মাণের জন্য মাটি খুঁড়তে গিয়ে সোনালি রঙের পাঁচটি ধাতব মূর্তি পাওয়া গেছে। তিন দিন গোপন থাকার পর সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) ঘটনাটি জানাজানি হলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। খবর পেয়ে অভিযান চালিয়ে মূর্তিগুলো উদ্ধার করেছে বিজিবি-৬।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৩১ জানুয়ারি শুক্রবার সকালে আলমডাঙ্গা উপজেলার খোরদ গ্রামের আব্দুল মোজামের পরিত্যক্ত একটি বাঁশবাগানে বাড়ি নির্মাণের প্রস্তুতির জন্য এক থেকে দেড় ফুট গভীর করে মাটি খনন করছিলেন শ্রমিকরা। ওই সময় মাটির নিচে একটি মাটির হাঁড়ির সন্ধান পান তাঁরা। হাঁড়িটি খুলে ভেতরে সোনালি রঙের তৈরি কয়েকটি মূর্তি দেখতে পান শ্রমিকরা। তাঁরা ভাবেন মূর্তিগুলোগুলো প্রাচীন স্বর্ণের। পরে জমির মালিক আব্দুল মোজাম শ্রমিকদের বিষয়টি গোপন রাখার নির্দেশ দিয়ে হাঁড়িসহ মূর্তিগুলো বাড়িতে নিয়ে যান।

তবে বিষয়টি চাপা থাকেনি। জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। একজন দুজন করে অনেকেই মূর্তি দেখতে আসতে শুরু করেন আব্দুল মোজাের বাড়িতে। একপর্যায়ে আশপাশের গ্রাম থেকেও লোকজন খোরদ গ্রামে জড়ো হতে থাকেন।

খবর পেয়ে সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে আলমডাঙ্গা উপজেলার ভাংবাড়িয়া ইউনিয়নের খোরদ গ্রামে চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়ন (৬ বিজিবি) অভিযান চালায়। অভিযানে চুয়াডাঙ্গা-৬ বিজিবির সুবেদার জাকির হোসেনের নেতৃত্বে ওই গ্রামের চিনি পাড়ার বিশ্বাস বাড়ি এলাকায় পরিত্যক্ত অবস্থায় ১ কেজি ৯৮২ গ্রাম ওজনের একটি পুরাতন পিতলের কলসের ভেতর থেকে ১ কেজি ৭৩২ গ্রাম ওজনের পাঁচটি মূর্তি উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধারকৃত মূর্তিগুলো চুয়াডাঙ্গা গোল্ড টেস্টিং অ্যান্ড হলমার্ক সেন্টারে পরীক্ষা করা হলে জানা যায়, মূর্তিগুলো তামার তৈরি। এ ব্যাপারে আলমডাঙ্গা থানায় একটি জিডি করা হয়েছে বলে বিজিবি জানিয়েছে।

পরীক্ষার রিপোর্ট
পরীক্ষার রিপোর্ট

খোরদ গ্রামের বাসিন্দা আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘গত তিনদিন আগে মোজাম তার বাড়ি থেকে আধা কিলোমিটার দূরে খোরদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশের একটি বাঁশবাগানে বাড়ির তৈরি প্রস্তুতি নেন। সেখানে মাটি খুঁড়তেই একটি পিতলের হাড়ি বাঁধে। লাল রঙের কাপড় দিয়ে হাড়িটির মুখ আটকানো ছিল। সোমবার বিকেলে বিজিবি ও পুলিশ এসে সেগুলো পরীক্ষার জন্য নিয়ে যায়।’

খোরদ গ্রামের ওয়ার্ড ইউপি সদস্য নজরুল ইসলাম বলেন, ‘খবর পেয়ে বিকেলের দিকে মোজামের বাড়িতে যাই। তার আগেই বিজিবি ও পুলিশ আসে। পাঁচটি মূর্তি দেখে প্রাচীন স্বর্ণের মূর্তি বলেই মনে হচ্ছিল। বিজিবি মূর্তিগুলো উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়ার পর আমাদের জানানো হয়েছে, সেগুলো স্বর্ণের নয় তামার।’

এব্যাপারে চুয়াডাঙ্গা ৬ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজমুল হাসান বলেন, ‘উদ্ধার হওয়া পাঁচটি ধাতব মূর্তি সোনার তৈরি নয়। সেগুলো পরীক্ষা করে মূর্তিগুলোতে ৫৩ থেকে ৬০ শতাংশ তামার অস্তিত্ব মিলেছে।’

বিজিবিসূত্রে জানা গেছে, মূর্তিগুলো রাজস্ব বিভাগে জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। তবে এ বিষয়ে এখনও কোনো তথ্য জানানো হয়নি।

Ad 300x250

সম্পর্কিত