জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

প্রকৃত অপরাধীরা প্রাপ্য সাজা পাবে: নতুন চিফ প্রসিকিউটর

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক

প্রকাশ : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২০: ১৫
সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন নব নিযুক্ত চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। স্ট্রিম ছবি

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) চিফ প্রসিকিউটরের (প্রধান কৌঁসুলি) দায়িত্ব নিয়ে মো. আমিনুল ইসলাম বলেছেন, ‘প্রসিকিউশনের মাধ্যমে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি হয়রানির শিকার হবেন না। তবে প্রকৃত অপরাধীদের প্রাপ্য সাজা নিশ্চিত করা হবে।’

আজ সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ট্রাইব্যুনালে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে বিদায়ী প্রধান কৌঁসুলি মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম তাঁকে ফুল দিয়ে বরণ করেন এবং আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেন।

ট্রাইব্যুনালে চলমান বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘আমি একটা কথা শুধু বলতে চাই, এই ট্রাইব্যুনালে যে সব অপরাধীরা বিচারের সম্মুখীন, তাঁদের জন্য সুস্পষ্ট মেসেজ, যাঁরা কোনো অন্যায় করেনি, তাঁরা কোনো হয়রানির শিকার হবেন না; অন্তত প্রসিকিউশনের মাধ্যমে। কিন্তু যাঁরা প্রকৃত অপরাধী, তাঁদের প্রতি প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে একটা ক্লিয়ার মেসেজ আমি দিতে চাই—যারা অপরাধী, তাঁদের প্রাপ্য সাজা পেতে হবে। এটাই হচ্ছে আমার আজকের দিনে মেসেজ।’

আগের প্রসিকিউশন টিমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি আমার দক্ষতা, মেধা, জ্ঞান—সমস্ত কিছু প্রয়োগ করে আরও দক্ষতার সঙ্গে এই মামলাগুলো পরিচালনার চেষ্টা করব। আমরা চেষ্টা করব আইন অনুযায়ী কারো প্রতি কোনো বিদ্বেষমূলক মনোভাব পোষণ না করে, সম্পূর্ণরূপে আইনের মধ্য থেকে, আইনের প্রত্যাশা অনুযায়ী এই বিচারকার্য পরিচালনার।’

দায়িত্ব নিয়ে তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। একইসঙ্গে নিজের রাজনৈতিক পরিচয়ের জায়গা থেকে দলীয় নেতাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

জুলাই শহীদদের আকাঙ্ক্ষা পূরণের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, ‘চেষ্টা করব জুলাই বিপ্লবে যাঁরা আত্মত্যাগ করেছেন, পঙ্গুত্ববরণ করেছেন তাঁদের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী যাতে এই ট্রাইব্যুনালে কর্তব্য পালন করতে পারি। আগামী দিনে যে মামলা বিচারের জন্য আসবে, চেষ্টা করব জুলাই শহীদদের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী বিচারকার্যে আন্তরিক সহযোগিতা করতে পারি।’

নিয়োগের পর সরকারের কোনো নির্দেশনা পেয়েছেন কি না—এমন প্রশ্নে আমিনুল ইসলাম জানান, ট্রাইব্যুনাল চলবে সম্পূর্ণ আইনি কাঠামোর ভেতর দিয়ে।

তিনি বলেন, ‘দেখেন, বিষয়টা হচ্ছে এই ট্রাইব্যুনালটি একটি আইনে পরিচালিত হয়। আইনের বাইরে অন্য কোনো নির্দেশনা থাকতে পারে না। আইনের বাইরে অন্য কোনো নির্দেশনা অন্তত আমার আমলে গ্রহণযোগ্য হবে না। আইন অনুযায়ী, আইনে যেভাবে আছে সেইভাবে বিচারকার্য হবে, এর বাইরে অন্য কোনো নির্দেশনা আমার কাছে নাই।’

দলীয় ব্যাকগ্রাউন্ডের কারণে আওয়ামী লীগ নেতারা সুবিধা পাবেন বা বিচারের গতি কমে যাবে—এমন গুঞ্জনের বিষয়ে আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘একটা দলীয় সরকার ক্ষমতায় আসছে দেশের গতি বাড়ানোর জন্য। তো স্বাভাবিক কারণেই দলীয় সরকারের অধীনে যে সব আদালত এখন পরিচালিত হবে, আপনারা বরঞ্চ প্রত্যাশা করতে পারেন গতি আরও বাড়বে। গতি কমার কোনো সুযোগ নাই।’

এ সময় সাংবাদিকরা বর্তমান প্রসিকিউশন টিমের সদস্য গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামিমের বিরুদ্ধে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগের তদন্ত প্রসঙ্গে প্রশ্ন করলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান।

এর আগে দুপুর ২টা ১৩ মিনিটে চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে প্রবেশ করেন আমিনুল ইসলাম। এসময় তাঁকে শুভেচ্ছা জানান বিদায়ী তাজুল ইসলাম। পরে নতুন প্রধান কৌঁসুলি সম্পর্কে তাজুল ইসলাম বলেন, ‘আমিনুল ইসলাম আমার খুব ভালো বন্ধু। অনেক ভালো মানুষ। আমি আশা করছি আমার চেয়ে অনেক দক্ষতার সাথে ট্রাইব্যুনালের ট্রায়াল কার্যক্রম চালাবেন।’

প্রয়োজনে ডাকলে আসবেন জানিয়ে তাজুল ইসলাম বলেন, ‘যেহেতু আমরা দীর্ঘদিন ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রমে ছিলাম, যেহেতু অভিজ্ঞতা আছে, সেজন্য উনি যেকোনো সময় যেকোনো কাজে আমাকে ডাকবেন, আমি হাজির হয়ে যাব। যেই প্রত্যাশা নিয়ে সরকার ও জনগণ উনাকে এখানে দিয়েছেন, আমাদের সকলের তরফ থেকে উনার সাফল্য কামনা রইল।’

অন্যদিকে, বিদায়ী প্রধান কৌঁসুলি সম্পর্কে আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘তাজুল ইসলাম আমার খুব ভালো বন্ধু। জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে যেভাবে উঁনি কাজ করেছেন, ব্রিফিং করেছেন বা মানুষের আস্থা তৈরি করেছেন, আমি বিশ্বাস করি জাতি উনাকে আজীবন স্মরণ রাখবে।’

এর আগে, আজ সকালে তাজুল ইসলামকে সরিয়ে তার জায়গায় আমিনুল ইসলামকে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। এই পদে তিনি অ্যাটর্নি-জেনারেলের সমান পদমর্যাদা, বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পাবেন। একই প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ২০২৪ সালের ৫ সেপ্টেম্বর মোহাম্মদ তাজুল ইসলামের নিয়োগ আদেশ বাতিল করা হয়।

প্রসঙ্গত, একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার করতে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় এই ট্রাইব্যুনাল গঠিত হয়। পরে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর ট্রাইব্যুনালের পুনর্গঠন করা হয় এবং ক্ষমতাচ্যুত সরকারের সাবেক মন্ত্রী-এমপি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের বিচার শুরু হয়। ইতিমধ্যে এক মামলায় ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা ও তাঁর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে ফাঁসির দণ্ড দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।

Ad 300x250
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত